সুকুমার সরকার, ঢাকা: বাংলাদেশে বিএনপির সভা ঘিরে তুঙ্গে উত্তেজনা। বুধবার বিরোধী দলটির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তারপর কয়েক হাজার বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় কয়েকশো মানুষকে। এহেন পরিস্থিতে হাসিনা সরকারের কাছে সমাবেশের মৌলিক অধিকার রক্ষার আহ্বান জানাল আমেরিকা।
রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষে তিন মামলায় ৩ হাজারেরও বেশিজনকে আসামি করেছে। এ পর্যন্ত ৪৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। তিনি বলেছেন, “ঢাকায় নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আমরা ঢাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন ও রাজনৈতিক হিংসার খবরে উদ্বিগ্ন। আইনের শাসনকে সম্মান জানাতে এবং হিংসা, হয়রানি ও ভয় দেখানো থেকে বিরত থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। হিংসার এই খবরগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করতে এবং মতপ্রকাশ, সভা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষা করতে আমরা সরকারি কর্তৃপক্ষকে উৎসাহিত করছি।”
[আরও পড়ুন: বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে জেহাদ, বিবিসির ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় বাংলাদেশের সানজিদা]
এদিকে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে বিবৃতি দিয়েছে ১৫টি বিদেশি দূতাবাস ও হাইকমিশন। এক যৌথবিবৃতিতে তারা মানবাধিকার রক্ষায় ও বাংলাদেশে উন্নয়নের প্রসারে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার সনদে উল্লিখিত স্বাধীন মতপ্রকাশ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও নির্বাচনের গুরুত্বও তুলে ধরে। অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, কানাডা, ডেনমার্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইটালি, জাপান, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও হাইকমিশন যৌথভাবে এই বিবৃতি দিয়েছে। আগামী ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস। একই তারিখে বিএনপির ঢাকায় গণসমাবেশ করার কথা।
উল্লেখ্য, ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির (BNP) গণসমাবেশ কোথায় হবে, তা নিয়ে বিতর্ক-আলোচনার মধ্যেই গতকাল বুধবার বিকেলে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় নয়াপল্টন এলাকা। সংঘর্ষে মকবুল আহমেদ নামের একজন নিহত হন। আহত হন বিএনপির অর্ধশত নেতা-কর্মী। সংঘর্ষের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে দলের কেন্দ্রীয় নেতা আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, রুহুল কবির রিজভি, খায়রুল কবির, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী, শিমুল বিশ্বাস, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া-সহ কয়েকশো নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ।
[আরও পড়ুন: দূষণ রোধে বাংলাদেশকে সাহায্য বিশ্ব ব্যাংকের, দেওয়া হল ২৫০ মিলিয়ন ডলার]
সর্বশেষ খবর
-
শিলিগুড়ি থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাড়ি দুর্গার, কীভাবে সোশাল মিডিয়া ঘোরাল বাংলার প্রতিমাশিল্পীর ভাগ্য?
-
জুতো খুলেই আসনে, ‘হনুমান অংশ’ দেখলেন মুসলিম দর্শক, নিম করোলি বাবার মাহাত্ম্যে ‘রাজনীতিমুক্ত ভারত’!
-
ফের আমেরিকায় বন্দুকবাজের তাণ্ডব! ভরা রাস্তায় চলল এলোপাথাড়ি গুলি, মৃত ৩
-
নিজের কেন্দ্রেই ডিম-হামলা, ‘চোর’ স্লোগান, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা চেয়ে এবার শাহের বাড়িতে সৌগত
-
আহমেদাবাদের ‘দাদাগিরি’ নয়, অলিম্পিক হবে অন্য রাজ্যে? মুখ্যমন্ত্রীর নতুন ঘোষণায় জোর চর্চা