Bangladesh

মৌলবাদীদের হুমকির জের, বাংলাদেশে বন্ধ বিশ্বের বৃহত্তম রামমূর্তি নির্মাণ, সরব তসলিমা

হুমকি, উসকানির জেরেই বন্ধ হয়েছে রামমূর্তি নির্মাণ, ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন তসলিমা নাসরিন।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১৬, ২০২৬, ১৭:৫৮

options
link
মৌলবাদীদের হুমকির জের, বাংলাদেশে বন্ধ বিশ্বের বৃহত্তম রামমূর্তি নির্মাণ, সরব তসলিমা
অসমাপ্ত রামমূর্তিটি ভেঙে ফেলার দাবি তুলছে মৌলবাদীরা।

ইসলামপন্থী মৌলবাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে বাংলাদেশে মাঝপথে বন্ধ হল বিশ্বের বৃহত্তম ৮২ ফুটের রামমূর্তি নির্মাণ। গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি উপজেলায় শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালী মন্দির প্রাঙ্গনে ওই মূর্তি নির্মাণের কাজ চলছিল। কাজ হয়ে গিয়েছিল অনেকটাই। এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার মন্দিরের উপদেষ্টা শ্য়ামল কুমার মহন্ত সংবাদ সম্মেলন করে জানান, বিশেষ কারণ রামমূর্তি নির্মাণ স্থগিত করা হয়েছে। মৌলবাদীদের চাপেই নির্মাণ স্থগিত হল? এই বিষয়ে মুখ খোলেননি শ্য়ামল কুমার মহন্ত। যদিও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

Advertisement

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলিতেও আচমকা মূর্তি নির্মাণ স্থগিতের খবর প্রকাশিত হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, রামমূর্তি নির্মাণ শুরুর পর থেকেই ইসলামপন্থী মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলি নানাভাবে বাধা দিচ্ছিল। মন্দিরের অর্থায়ন নিয়েও তদন্তের দাবি তোলা হয়। শেষ পর্যন্ত তীব্র বিরোধিতা ও চাপের মুখে মন্দির কমিটি মূর্তি নির্মাণ স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা ও মানবাধিকারকর্মী তসলিমা নাসরিন। তিনি সামাজিকমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ প্রকাশ করেছেন।

Advertisement

তসলিমা প্রশ্ন তুলেছেন, বাংলাদেশে লক্ষাধিক মসজিদ রয়েছে। নতুন নতুন মসজিদ নির্মিত হচ্ছে। তাহলে একটি রাম মন্দির ও রামের মূর্তি নিয়ে এত আপত্তি কেন! লেখিকার প্রশ্ন, “ধর্মীয় স্বাধীনতা যদি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয়, তাহলে তা শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠদের জন্য নয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও সমানভাবে নিশ্চিত হওয়া উচিত।” হুমকি, উসকানির জেরেই যে রামমূর্তি নির্মাণ বন্ধ হয়েছে, তা তসলিমার বক্তব্যেই স্পষ্ট। তিনি বলেছেন, “পলাশবাড়ির নির্মীয়মান রাম মন্দিরকে কেন্দ্র করে যে ধরনের হুমকি, উসকানি ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী শুধুমাত্র মতভেদের কারণে অন্য সম্প্রদায়ের উপাসনালয় ধ্বংস করার অধিকার রাখে না।”

Advertisement

পলাশবাড়ি এলাকায় অতীতে হিন্দু মন্দিরে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুর হয়েছে। সেকথাও উল্লেখ করেছেন তসলিমা। নতুন করে রামমূর্তি নির্মাণে বাধা দেওয়ার ঘটনা হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়াবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশের সংবাদপত্র ‘ব্লিটজ’-এর সম্পাদক। তিনি দাবি করেছেন, স্থানীয় জেহাদি ও ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলির ব্যাপক বিক্ষোভের পরই সনাতন মন্দির প্রকল্পের কার্যক্রম এবং রামমূর্তি নির্মাণের কাজ স্থগিত করা হয়েছে। অসমাপ্ত রামমূর্তিটি ভেঙে ফেলারও দাবি তুলছে মৌলবাদীরা।

এত কিছু ঘটে গেলেও স্থানীয় প্রশাসন কিন্তু মুখ খোলেনি। যদিও জামাত ঘনিষ্ট মহম্মদ ইউনুসের সরকার বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ থেকে। নির্বাচনে জিতে সেখানে শাসন ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন খালেদাপুত্র তারেক রহমান। যিনি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছিলেন। যদিও প্রশ্ন উঠছে, কার্যক্ষেত্রে বাংলাদেশের সনতনীরা আগেও যে তিমিড়ি ছিলেন, এখনও সেই তিমিড়ে পড়ে আছেন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.