চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াতেই হাঁটুতে ‘কট’ করে শব্দ! সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে ‘পপ’, আবার বসা থেকে উঠতে গিয়ে মটমট আওয়াজ। এমনটা হলে অনেকেই ভাবেন, হাঁটুর সন্ধিস্থল কি ক্ষয়ে যাচ্ছে? আর্থ্রাইটিসের শুরু নয় তো? কিন্তু সবসময় এমনটা নয়। হাঁটুতে শব্দ হওয়া খুবই সাধারণ এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা সন্ধিস্থলের স্বাভাবিক নড়াচড়ার অংশ।
তবে শব্দের সঙ্গে ব্যথা, ফোলা, শক্ত হয়ে যাওয়া বা হাঁটু দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞদের কথায়, শুধু শব্দ নয়, তার সঙ্গে অন্য কোনও উপসর্গ রয়েছে কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন:
হাঁটুতে শব্দ হয় কেন?
হাঁটু একটি জটিল সন্ধিস্থল। হাড়, তরুণাস্থি, লিগামেন্ট, টেন্ডন এবং সন্ধির ভিতরের তরল মিলেই এর গঠন। হাঁটু ভাঁজ করা বা সোজা করার সময় এই অংশগুলি পরস্পরের সঙ্গে নড়াচড়া করে। অনেক সময় সন্ধিস্থলের তরলে থাকা গ্যাসের বুদ্বুদ তৈরি হয়ে ফাটলে ‘কট’ শব্দ হতে পারে। এটি সাধারণত ক্ষতিকর নয়।
আরও পড়ুন:
আবার টেন্ডন বা লিগামেন্ট হাঁটুর কোনও হাড়ের অংশের উপর দিয়ে সরে গেলেও কট শব্দ হতে পারে। বসা থেকে ওঠা, সিঁড়ি ভাঙা বা স্কোয়াট করার সময় এই শব্দ বেশি শোনা যায়।
বয়স বাড়ার সঙ্গে হাঁটুর আশপাশের বিভিন্ন কাঠামোয় পরিবর্তন আসায় শব্দ কিছুটা বাড়তেও পারে। কিন্তু শুধু শব্দ শুনেই ধরে নেওয়া যাবে না যে হাঁটুর ক্ষতি হয়েছে।

শুধু শব্দ হলে কি চিন্তার কারণ?
সাধারণত নয়। হাঁটুতে মাঝেমধ্যে শব্দ হচ্ছে, কিন্তু ব্যথা নেই, ফোলা নেই, হাঁটু শক্ত হয়ে যাচ্ছে না এবং স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করা যাচ্ছে, তাহলে উদ্বেগের কারণ কম।
অনেকের দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর উঠে দাঁড়ালে হাঁটুতে শব্দ হয়। কারও আবার সিঁড়ি ভাঙার সময় বা হাঁটু ভাঁজ করলেই এমনটা হয়। দৈনন্দিন কাজকর্মে কোনও সমস্যা না থাকলে শুধুমাত্র শব্দের জন্য ব্যায়াম বা স্বাভাবিক শারীরিক কাজ বন্ধ করারও প্রয়োজন নেই।
কখন হাঁটুর শব্দ নিয়ে সতর্ক হবেন?
ব্যথা: বারবার শব্দ হওয়ার সঙ্গে হাঁটুতে ব্যথা থাকলে তরুণাস্থির ক্ষয় বা অস্টিওআর্থ্রাইটিসের মতো সমস্যা থাকতে পারে।
ফোলা: হাঁটু ফুলে গেলে, বিশেষ করে চোটের পর, বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়।
হাঁটু দুর্বল বা অস্থির লাগা: হাঁটু হঠাৎ বেঁকে যাচ্ছে, তাহলে লিগামেন্টের সমস্যার সম্ভাবনা থাকতে পারে।
হাঁটাচলায় সমস্যা: হাঁটু পুরোপুরি ভাঁজ বা সোজা করতে না পারা বা হাঁটাচলার সময় আটকে যাওয়ার মতো অনুভূতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।
চোটের পর শব্দ: পড়ে যাওয়া, খেলাধুলার সময় চোট লাগা বা হঠাৎ হাঁটু মুচকে যাওয়ার পর কটকট শব্দ শুরু হলে তা মেনিস্কাস বা লিগামেন্টের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

শব্দ নয়, উপসর্গই আসল
হাঁটু কত জোরে ‘কট’ করে শব্দ করল, তা দিয়ে সন্ধিস্থল কতটা সুস্থ, তা বোঝা যায় না। ব্যথা ছাড়া জোরে শব্দ হলেও গুরুতর সমস্যা নাও থাকতে পারে। আবার খুব সামান্য ক্লিক শব্দের সঙ্গে যদি দীর্ঘদিন ব্যথা বা ফোলা থাকে, তাহলে পরীক্ষা করানো জরুরি হতে পারে। তাই হাঁটুতে শব্দ হলেই ‘আর্থ্রাইটিস হয়েছে’ ধরে নেওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনই ব্যথা বা ফোলাকে স্বাভাবিক ভেবে এড়িয়ে যাওয়াও উচিত নয়।
হাঁটুর যত্নে কী করবেন?
হাঁটুর চারপাশের পেশি শক্তিশালী রাখলে সন্ধিস্থল ভালো সাপোর্ট পায়। উরুর সামনের ও পিছনের পেশি হাঁটুর স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সাঁতারের মতো ব্যায়াম করা যেতে পারে। শরীরের ওজন স্বাস্থ্যকর মাত্রায় রাখাও জরুরি, কারণ অতিরিক্ত ওজন হাঁটুর উপর চাপ বাড়ায়।
দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে ধীরে ধীরে শরীরচর্চার মাত্রা বাড়ানো ভালো। কোনও নির্দিষ্ট ব্যায়ামে ব্যথা হলে সেটি জোর করে চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
হাঁটুর শব্দের সঙ্গে যদি দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, ফোলা, শক্ত হয়ে যাওয়া, অস্থিরতা, নড়াচড়ায় বাধা বা পায়ে ভর দিতে সমস্যা থাকে, তাহলে অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। চোটের পর এমন উপসর্গ দেখা দিলেও দেরি করবেন না।
মনে রাখবেন, শুধু হাঁটুতে শব্দ হওয়া সাধারণত ভয় পাওয়ার কারণ নয়। কিন্তু শব্দের সঙ্গে ব্যথা বা অন্য কোনও উপসর্গ যোগ হলে সেটিই হতে পারে শরীরের সতর্কবার্তা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মমতার তিরস্কার, শুভেন্দুর পুরস্কার! দময়ন্তী সেন-সহ ৬ আইপিএসকে স্বাধীনতা দিবসে সম্মান মুখ্যমন্ত্রীর
-
কলকাতা মেডিক্যালে মহিলা কর্মীর আত্মহত্যার চেষ্টা! নেপথ্যে কী কারণ?
-
কার্যালয়ে কার্তুজ, গোপন ডেরায় ইসিএলের নথি! দেড় মাস পর পুলিশের জালে বিধায়ক পুত্র ‘বাহুবলী’ প্রেমপাল
-
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ‘তিজ’ উদযাপনে কাকলি-শতাব্দী-রচনারা, মেহেন্দি-সেলফিতে হুল্লোড়, শামিল কঙ্গনাও
-
অনুশীলন সমিতি থেকে হিন্দুস্তান রিপাবলিকান আর্মির সদস্য! ফিরে দেখা ঝাড়গ্রামের বিস্মৃতপ্রায় বিপ্লবীকে