অদৃশ্য ডিপ স্টেটের ফাঁদে পড়েছিল ইউনুসের উপদ্বেষ্টা সরকার? মুষ্টিমেয় কয়েকজন প্রভাবশালীর হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছিল বাংলাদেশ? সম্প্রতি সাংবাদিক বৈঠক করে এই ইস্যুতেই বিস্ফোরক দাবি করলেন প্রাক্তন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তাঁর দাবি, নির্বাচন এড়িয়ে ২০২৯ সাল পর্যন্ত সরকার চালানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তাঁদের। এমনকী বিএনপি নেতারা যাতে কোনওরকম বাধা হয়ে না ওঠেন তার জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
এই ডিপ স্টেটের নেপথ্যে কারা ছিল সে বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু না জানালেও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)র মুখপাত্র আসিফ বলেন, “বিদেশি শক্তির পাশাপাশি এই তালিকায় অনেকগুলি পক্ষ ছিল।” তিনি বলেন, “আমরা তখন সদ্য সরকারের দায়িত্বে এসেছিলাম। সেই সময় অনেকগুলি প্রভাবশালী সংস্থা যাদের ডিপ স্টেট বলা হয় তারা আমাদের প্রস্তাব দেয়, আমরা যেন ২০২৯ সাল পর্যন্ত সরকার চালিয়ে যাই। বিনিময়ে ওরা (ডিপ স্টেট) আমাদের সহযগিতা করবে।” এখানেই শেষ নয়, ওই নেতার দাবি, “এই দীর্ঘ সময়ে সরকার পরিচালনার রোড ম্যাপও সাজিয়ে ফেলেছিল তারা। যেখানে বলা হয়, নির্বাচন হলেও বিএনপির শীর্ষ নেতারা যেন তাতে অংশ নিতে না পারেন, সেজন্য ওই নেতাদের উপর যেন আরও মামলা চাপানো হয়। আদালতে মামলাগুলিকে আরও দীর্ঘায়িত করা হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও মামলা ছিল। তিনি যদি সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় থাকতেন তবে নির্বাচনে লড়তে পারতেন না।”
নির্বাচন এড়িয়ে ২০২৯ সাল পর্যন্ত সরকার চালানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল ইউনুসদের। এমনকী বিএনপি নেতারা যাতে বাধা হয়ে না ওঠেন, তার জন্য কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
কীভাবে ক্ষমতায় থাকা যাবে সে কৌশলও সাজিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন আসিফ। তবে এনসিপি নেতার দাবি, তারা এই প্রস্তাবে সায় দেননি। তাঁর কথায়, “গণতন্ত্রকে সামনে রেখেই নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন যাতে প্রশ্নের মুখে না পড়ে সে জন্য আমরা আগবাড়িয়ে পদত্যাগ করে চলে এসেছি।” কখন কীভাবে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল সে বিষয়ে বিশদে জানিয়েছেন আসিফ। বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম তিন-চার-পাঁচ মাসে বিভিন্ন আলোচনায় ডিপ স্টেটের দিক থেকে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, তাদের স্বার্থ রক্ষা করলে তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে দীর্ঘদিন রাখতে আগ্রহী। প্রত্যেক উপদেষ্টার সঙ্গেও আলাদাভাবে কথা বলেছিল তারা।
উল্লেখ্য, ডিপ স্টেট হল বিশ্ব রাজনীতির ‘মেঘদূত’। ইতিহাসে বহুবার দেখা গিয়েছে, পৃথিবীর একাধিক দেশে একাধিকবার সরকার বদলের অন্যতম কারিগর আড়ালে থাকা এই শক্তি। বাংলাদেশে ইউনুস সরকারের পালাবদলের নেপথ্যেও এসেছিল এই ডিপ স্টেট তত্ত্ব। ডিপ স্টেট হল অত্যন্ত প্রভাবশালী, ধনবান বিপুল ক্ষমতাশালী মুষ্টিমেয় কিছু ব্যক্তি বা সংস্থা। যারা আড়াল থেকে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে। বাংলাদেশে এনসিপির আহ্বায়ক ও প্রাক্তন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের উঠে এসেছিল এই ডিপ স্টেটের কথা। তিনি দাবি করেছিলেন, ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পিছনে রয়েছে এই ডিপ স্টেট।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
প্রেমের টানে ধর্মান্তর, দাড়ি কেটে ইসলাম ছেড়ে হিন্দু হলেন উত্তরপ্রদেশের যুবক, গ্রেপ্তার প্রেমিকা
-
‘সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব’, ডিম ছোড়া বন্ধে রাজ্যকে গাইডলাইন তৈরির নির্দেশ আদালতের
-
আরবানায় থাকার যোগ্যতা থেকে ফুটপাথের মেয়েকে অসম্মান, রচনার ‘কুবচনে’ ফুঁসছেন ঋদ্ধি- ঋত্বিক-শ্রীলেখারা
-
বিধান ভবনে বাদানুবাদ, কর্মসূচি নিয়ে ভর্ৎসনার মুখে উত্তেজিত মনোজ, কড়া বার্তা বেণুগোপালের
-
রামনবমীতে অশান্তি! এনআইএ-র হাতে গ্রেপ্তার প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদের কাউন্সিলর স্বামী