Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৭ ভাদ্র ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
Rodríguez Castro

কিউবার ‘কাঁকড়া’ চিন্তা বাড়াচ্ছে ট্রাম্পের, ইরান যুদ্ধের আবহে আমেরিকার উঠোনে ঘনাচ্ছে নতুন বিপদ!

প্রবল মার্কিন চাপের মাঝে দ্বীপরাষ্ট্র কিউবাকে কূটনৈতিক দিশা দেখাতে পারেন রদ্রিগেজ কাস্ত্রো ওরফে এল কাংরিজো বা কাঁকড়া। ফিদেল কাস্ত্রোর এই বংশধরকে নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন আমেরিকা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ২৭, ২০২৬, ২২:৩২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ২৭, ২০২৬, ২২:৩২

options
link
কিউবার ‘কাঁকড়া’ চিন্তা বাড়াচ্ছে ট্রাম্পের, ইরান যুদ্ধের আবহে আমেরিকার উঠোনে ঘনাচ্ছে নতুন বিপদ! zoom
ফিদেল কাস্ত্রোর বংশধর রাউল গিলারমো রদ্রিগেজ কাস্ত্রো।
Advertisement

ইরান যুদ্ধের আবহে ট্রাম্পের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের পর আমেরিকার টার্গেট কিউবা। এবার সেই কিউবাতেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠল ফিদেল কাস্ত্রোর বংশধর রাউল কাস্ত্রোর নাতি রাউল গিলারমো রদ্রিগেজ কাস্ত্রো (Rodríguez Castro)। প্রথমবার কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ ক্যানেলের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা গেল তাঁকে। অনুমান করা হচ্ছে, প্রবল মার্কিন চাপের মাঝে দ্বীপরাষ্ট্র কিউবাকে কূটনৈতিক দিশা দেখাতে পারেন রদ্রিগেজ কাস্ত্রো ওরফে এল কাংরিজো বা কাঁকড়া। ফিদেল কাস্ত্রোর এই বংশধরকে নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন আমেরিকা।

চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের পর থেকে কিউবার পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর। দীর্ঘ বছর ধরে কিউবার উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে রেখেছে আমেরিকা। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে এতদিন ভেনেজুয়েলা ছিল কিউবার একমাত্র সহায়। এখান থেকে ভর্তুকিতে জ্বালানি তেল-সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ হত কিউবাতে। সব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটির অর্থনীতির কার্যত শ্বাসরোধ হয়েছে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধ। ঠিক এই পরিস্থিতিতেই কিউবার ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা বাড়ছে রদ্রিগেজ কাস্ত্রোর।

Advertisement

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের পর থেকে কিউবার পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর। দীর্ঘ বছর ধরে কিউবার উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে রেখেছে আমেরিকা। এই অবস্থায় ভেনেজুয়েলা ছিল তাদের একমাত্র সহায়।

সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে কাস্ত্রো বলেন, কিউবার সংকটজনক পরিস্থিতি সামাল দিতে আমেরিকার সঙ্গে কথাবার্তা শুরু হয়েছে। এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস-এর এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কাস্ত্রোর। কিউবার বর্তমান সরকারকে এড়িয়েই কাস্ত্রোর সঙ্গে এই আলোচনা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। টালমাটাল পরিস্থিতিতে কিউবায় রদ্রিগেজ কাস্ত্রোর ভূমিকা নিয়ে কৌতুহল তৈরি হয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে হয়তো কিউবায় ক্ষমতায় আসতে পারেন তিনি।

দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক দুরবস্থা, জ্বালানিসংকট ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় কিউবার পরিস্থিতি বর্তমানে তথৈবচ। দেশজুড়ে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট বাড়ছে, হাসপাতালে অস্ত্রোপচার কমিয়ে আনা হয়েছে, খাদ্য ও জ্বালানির ঘাটতি তীব্র হয়েছে, পর্যটকরা আসছেন না দেশটিতে। এককথায় দেশটি মানবিক জরুরি অবস্থার দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। এই অবস্থায় কাস্ত্রোর সঙ্গে আমেরিকার আলোচনা জল্পনাতেই ইন্ধন যোগাচ্ছে।

রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কাস্ত্রোর। কিউবার বর্তমান সরকারকে এড়িয়েই কাস্ত্রোর সঙ্গে এই আলোচনা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।

দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকা লক্ষ্য, হাভানার কমিউনিস্ট সরকারকে পতন ঘটানো। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তৎপরতা। ভেনেজুয়েলায় মাদুরোকে গ্রেপ্তারের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা গোপনে ভেনেজুয়েলার প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সরকার পতনের পর সেখানকার নেতাদের উপর দায়িত্ব ন্যস্ত হলেও নিয়ন্ত্রণ আমেরিকার হাতে। একই ছকে এখন কিউবার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গেও আমেরিকা একই ধরনের যোগাযোগ খুঁজছেন বলে জানা যাচ্ছে।

এই অবস্থায় কাঁকড়ার উত্থান আমেরিকাকে যথেষ্ট চাপে ফেলেছে। কিউবায় ফিদেল কাস্ত্রোর বংশধর রদ্রিগেজ কাস্ত্রো যদি দায়িত্বে আসেন সেক্ষেত্রে আমেরিকার উদ্দেশ্য কতখানি সফল হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্ধিহান ওয়াকিবহাল মহল। গোটা পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আমেরিকার জন্য বুমেরাং হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কূটনৈতিক মহল। আবার অনেকেই মনে করছেন, দেশটির বর্তমান বেহাল অবস্থা কাটিয়ে উঠতে গেলে আমেরিকার সঙ্গে আপসই কিউবার একমাত্র পথ। ফলে অতীতের দ্বন্দ্ব এড়িয়ে সেই পথেই হাঁটতে পারে ফিদেল কাস্ত্রোর দেশ। তবে কমিউনিজমের অন্যতম জনক ফিদেল কাস্ত্রোর বংশধর আমেরিকার আগ্রাসন মেনে নেবেন কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধের মাঝেই কিউবা হয়ে উঠতে চলেছে আমেরিকার নয়া মাথাব্যথা।

উল্লেখ্য, ৪১ বছর বয়সী রদ্রিগেজ কাস্ত্রো মূলত তাঁর ঠাকুরদা রাউল কাস্ত্রোর নিরাপত্তাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর মা রাউল কাস্ত্রোর মেয়ে দেবোরা কাস্ত্রো এসপিন। বাবা লুই আলবার্তো রদ্রিগেজ লোপেজ-সেলেজা ছিলেন সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী জিএইএসএর প্রধান। ২০২২ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের অন্যতম ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.