Sikkim Tunnel Accident

সিকিমে সুড়ঙ্গ দুর্ঘটনায় মৃত বাংলার ১১ শ্রমিক, আটকে অনেকেই, চলছে উদ্ধারকাজ

সিকিমে নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গ দুর্ঘটনায় ১১ জন শ্রমিক মারা গিয়েছেন। মৃতদের সকলেই বাংলার শ্রমিক। তাঁদের বাড়ি জলপাইগুড়ি জেলায়। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে মৃতদের মধ্যে ৯ জনই মালবাজার এলাকার বাসিন্দা। শ্রমিকের কাজ করার জন্যই তাঁরা সিকিমে গিয়েছিলেন।

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: জুলাই ২১, ২০২৬, ১৯:৩০

options
link
সিকিমে সুড়ঙ্গ দুর্ঘটনায় মৃত বাংলার ১১ শ্রমিক, আটকে অনেকেই, চলছে উদ্ধারকাজ
সিকিমে টানেল দুর্ঘটনায় মৃত বেড়ে ২৫।

সিকিমে নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গ দুর্ঘটনায় (Sikkim Tunnel Accident) এখনও অবধি ১১ জন শ্রমিক মারা গিয়েছেন। মৃতদের সকলেই বাংলার শ্রমিক। তাঁদের বাড়ি জলপাইগুড়ি জেলায়। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে মৃতদের মধ্যে ৯ জনই মালবাজার এলাকার বাসিন্দা। শ্রমিকের কাজ করার জন্যই তাঁরা সিকিমে গিয়েছিলেন। মৃত্যুর খবর আসার পরেই পরিবারগুলিতে কান্নার রোল উঠেছে। সিকিমের নামচির ওই দুর্ঘটনায় জোরকদমে উদ্ধারকাজ চলছে। জানা গিয়েছে, গতকাল, সোমবার দুপুরে ওই নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ধস নামে। ভিতরে আটকে পরেন শ্রমিকরা। ভিতরে এখনও অনেকে আটকে আছেন বলে খবর। 

Advertisement

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ডুয়ার্সের চা বাগানে প্রত্যেকেই একসময় শ্রমিকের কাজ করতেন। কিন্তু তৃণমূল জমানায় বাগান রুগ্ন হয়ে পড়ে। ঠিকমত বেতনও পাচ্ছিলেন না। সেজন্য শ্রমিকের কাজ নিয়ে বাধ্য হয়ে বাইরে চলে গিয়েছিলেন। মৃত্যুর খবর আসার পরেই শোকস্তব্ধ ডুয়ার্সের নাগরাকাটা ও মেটেলি ব্লক। মেটেলি ব্লকের ছয়জন এবং নাগরাকাটা ব্লকের তিনজন ধসে মারা গিয়েছেন। ডুয়ার্সের মেটালি ব্লকের কিলকোট চা বাগানের ১১ লাইন শ্রমিক মহল্লার বাসিন্দা গ্রাবিয়েল টিজ্ঞা, শিবা মুডা এবং বিকেশ্বর ওঁরাও দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। ইনডং চা বাগানের টন্ডু লাইন শ্রমিক মহল্লার বাসিন্দা শ্যাম ওঁরাও এবং নাগেশ্বরী চা বাগানের বাসিন্দা অমিতলাল গোরের মৃত্যু হয়েছে।

Advertisement

মেটেলি ব্লক ছাড়াও নাগরাকাটা ব্লকের বাসিন্দা তিনজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। গ্রাসমোর চা বাগানের বাসিন্দা আনন্দ টোপ্পো, সুখানি বস্তির বাসিন্দা অর্জুন সাওতাল এবং শুলকাপাড়ার বাসিন্দা বালো ওঁরাও রয়েছেন। এছাড়াও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছে। বানারহাট ব্লকের বিন্নাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে থাকা তেলিপাড়া চা বাগানের বাসিন্দা আদেশ ওঁরাওয়ের মারা যাওয়ার খবর রয়েছে। 

Advertisement

প্রবল দুর্যোগের পরিস্থিতিতে লাল সতর্কতা জারি সিকিমে। তার মধ্যেই ঘটে গেল এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। প্রায় ২৫০ মিটার দীর্ঘ টানেলটি সিকিমের প্রথম ডাবল-লেন টানেল। পূর্ব সিকিমের পকিয়ং জেলার নামচি ও রংপো সংলগ্ন মামরিং এলাকায় ওই সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ চলছে। এটি ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের তিস্তা স্টেজ-৪ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাছাকাছি। এটি সিকিমের সঙ্গে নাথু-লা পাসের সংযোগকারী কৌশলগত পথ। টানেলটি চালু হলে গ্যাংটকমুখী পর্যটক এবং নাথু-লা পাসগামী সেনাবাহিনীর যানবাহনগুলির সহজে যাতায়াত করতে পারবে। আর সেই সুড়ঙ্গ তৈরি হওয়ার আগেই ঘটে গেল এমন দুর্ঘটনা। এই দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের থেকে আধিকারিকরাও সিকিমে পৌঁছেছেন। 

 

 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.