বর্তমান যুগে উন্নত চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেফ্রোলজি, কার্ডিওলজি ও নিউরোলজি বিভাগ। কিডনি সংক্রান্ত সমস্যায় ডায়ালিসিস নেওয়ার রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। স্ট্রোক ও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার গ্রাফও ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু চালু হওয়ার এক যুগেরও বেশি সময় পরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (Murshidabad Medical College Hospital) এই তিন বিভাগের পরিষেবা অধরা। ফলে রোগীদের কলকাতা ছুটতে হয় বা বেশি খরচ করে বেসরকারি হাসপাতালের উপর নির্ভর করতে হয়। মুর্শিদাবাদবাসী তাই বলছেন, “আর কবে? ১৪ বছর পরেও জরুরি ও উন্নত পরিষেবা মিলছে না।” আপাতত তাঁরা তাকিয়ে নতুন সরকারের দিকেই।
২০১২ সালের পথ চলা শুরু হয়েছিল মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। মুর্শিদাবাদ জেলা ও লাগোয়া ঝাড়খণ্ডের মানুষজন এই হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা নেন। ১৪ বছর কেটে গেলেও নিউরোলজি, নেফ্রোলজি ও কার্ডিওলজি চিকিৎসার সুবন্দোবস্ত নেই। স্ট্রোক, হৃদরোগ বা এমন রোগে আক্রান্ত হলেই রেফার করা হয় কলকাতায়। ফলে হয়রানির শিকার হতে হয়। হাসপাতাল চত্বরেই এই ধরনের ভোগান্তি নিয়ে সরব রোগীর আত্মীয়েরা। আগের তুলনায় হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। যে কোনও বয়সের মানুষের মধ্যেই এই রোগে দেখা যায়। স্ট্রোকও এখন অনেকেরই হচ্ছে। এই সব রোগের উন্নত চিকিৎসায় ক্যাথল্যাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ক্যাথল্যাব না থাকায় রেফার করা হয়। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচ বহন করে বেসরকারি হাসপাতালে অথবা কলকাতায় ছুটতে হয়।
আবার এখন সুগার সমস্যা বহু মানুষের। সেই সঙ্গে বেড়েছে কিডনির সমস্যাও। ফলে কিডনি সমস্যার জন্য ডায়ালিসিসের প্রয়োজন। কিন্তু এখানে রয়েছে মাত্র একটি ডায়ালিসিস ইউনিট। ফলে ডায়ালিসিস করতে এসে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। বাধ্য হয়ে অনেকেই বেসরকারি হাসপাতালে ছোটেন। সুপ্রিয় দাস নামের এক যুবক বলেন, “বাবার মাসে একটি করে ডায়ালিসিস-এর প্রয়োজন হয়। একটি ইউনিট থাকায় ডেট পেতে দেরি হয়। আবার কোনও সময় অকেজো হয়ে যায়।” আর এক রোগীর আত্মীয় শুভাশিস ঘটক বলেন, “এখানে হৃদরোগের সেরকম চিকিৎসা পরিষেবা নেই তাই বাধ্য হয়ে কলকাতায় ছুটতে হয়।” বহরমপুরের বাসিন্দা বিক্রম চক্রবর্তী বলেন, “হাসপাতালে পরিষেবা একটু ভালো হওয়া প্রয়োজন। এখনকার দিনে বিশেষ করে হৃদরোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে থাকলে বহু মানুষ উপকৃত হবেন।”
হাসপাতালের এক আধিকারিক বলেন, “পূর্বতন সরকারকে এবিষয়ে একাধিকবার জানিয়েছিলাম। তবু এই তিন বিভাগে চিকিৎসক বা উপযুক্ত পরিকাঠামো মেলেনি তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, নিউরোলজি, নেফ্রোলজি ও হৃদরোগের সংক্রান্ত বিভাগের চিকিৎসক ও ক্যাথল্যাব দেওয়ার কথা। খুব শীঘ্রই তা হয়ে যাবে।” মুর্শিদাবাদ সফরে এসে মুখ্যমন্ত্রী ক্যাথল্যাব করার ঘোষণা ও তিন বিভাগে অভিজ্ঞ চিকিৎসক দেওয়ার কথা বলেছেন। আশায় বুক বাঁধছেন মুর্শিদাবাদবাসী।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
নেপালের বন্যার থাবা ভারতেও, নিখোঁজ অন্তত ১৪! ‘নারায়ণী রহস্যে’ বিপদ বাড়ছে উত্তরপ্রদেশ-বিহারে
-
বলিউড ছেড়ে চাষে মন, পাহাড়-জঙ্গলে বাস, কোথায় ‘রাজ’ ছবির সেই ‘সুন্দরী অশরীরী’ মালিনী?
-
রয়েছে জায়গা, এবার কল্যাণী এইমস পর্যন্ত ছুটবে বারাকপুর মেট্রো! বড় ইঙ্গিত অর্জুন সিংয়ের
-
‘মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই’, বিহারে ছাত্রবিক্ষোভে ৬ বছরের শিশু, ‘আটক’ করল পুলিশ
-
ভূমিকম্প নাকি ভয়ংকর তুষারধস! কেন প্রলয়ঙ্করী বিপর্যয় নেপালে? কী বলছেন ভূবিজ্ঞানীরা