Bankura

বাঁকুড়ায় সিজেপি কর্মীর বাবা ‘খুনে’ ধৃত এফআইআরে থাকা ৫, কোন পথে এগোচ্ছে তদন্ত?

সিজেপি কর্মীর বাবাকে পিটিয়ে 'খুনে'র ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা সেই ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ ওঠে। থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের হয়।

অসিত রজক
অসিত রজক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২১, ২০২৬, ১৯:৫৫

options
link
বাঁকুড়ায় সিজেপি কর্মীর বাবা ‘খুনে’ ধৃত এফআইআরে থাকা ৫, কোন পথে এগোচ্ছে তদন্ত?
বর্ধমান থেকে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিজস্ব চিত্র

সিজেপি কর্মীর বাবাকে পিটিয়ে ‘খুনে’র ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা সেই ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ ওঠে। থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের হয়। ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কেউ জড়িত নয় বলে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারির নির্দেশ দিয়েছিলেন। এফআইআরে থাকা পাঁচ অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করল পুলিশ। সিজেপি কর্মী আবদুল হাফিজের বাবা শেখ মহম্মদ মাফিকের খুনের ঘটনায় এখনও অবধি মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।

Advertisement

পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহি এলাকা থেকে গতকাল, বৃহস্পতিবার রাতে প্রশান্ত মাঝি ও অবনী মাঝি ওরফে পিন্টুকে ইন্দাস থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে। আজ, শুক্রবার ধৃতদের আদালতে তোলা হয়। ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, মূল অভিযোগে পাঁচজনের নাম ছিল। ঘটনার দিনই তাদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আরও কয়েকজনকে পাকড়াও করা হয়। এফআইআরে থাকা বাকি দু’জনকেও গতকাল গ্রেপ্তার করা হয়।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, এফআইআরে থাকা পাঁচজন ছাড়াও ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১১। ইতিমধ্যেই ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন নমুনা ও তথ্য সংগ্রহ করেছেন। সেগুলি খতিয়ে দেখে ঘটনার প্রকৃত ধারাবাহিকতা ও অভিযুক্তদের ভূমিকা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছিল। পুলিশ অবশ্য তদন্তের স্বার্থে সমস্ত সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখছে। কী কারণে ওই ব্যক্তিকে মারা হল? খুনের ঘটনায় ধৃতদের ভূমিকা কী? সেসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Advertisement

ঘটনা ঠিক কী ঘটেছিল? জানা যাচ্ছে, ইন্দাসের করিশুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা শেখ আবদুল হাফিজ গত ১৯ জুলাই দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য গিয়েছিলেন। অভিযোগ, ২০ জুলাই রাজীব চকে তাঁকে আটকে দেওয়া হয়। এমনকী পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাসের মুখেও পড়তে হয় তাঁকে। গত ২৭ জুলাই হাফিজ বাড়ি ফেরেন। বাড়ি ফিরতেই বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁকে লাগাতার হুমকি দেওয়া হতো বলে অভিযোগ। বলা হয়, ‘‘৯ অগস্ট তোকে মারব।’’ গুরুত্ব দেননি হাফিজ। বৃহস্পতিবার করিশুন্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অব্যবস্থা নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলার পর হাফিজ প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিয়ে যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন। স্কুলের বেহাল দশার ভিডিও তুলে রেখেছিলেন।

অভিযোগ, সেদিন রাতেই বিজেপির লোকজন তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। হাফিজকে মারধর করা হয়। এমনকী ফোন কেড়ে নেওয়া হয়, ছবিও ডিলিট করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা শেখ মহম্মদ মাফিককেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরে তিনি হাসপাতালে মারা যান। 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.