Anandapur Fire

৪৮ ঘণ্টা পর আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডে গ্রেপ্তার গুদাম মালিক, উদ্ধার আরও ৩ দেহাংশ, বাড়ছে নিখোঁজও

পূর্ব মেদিনীপুরে তাঁর বাড়ি থেকেই অভিযুক্তকে ধরা হয়। সূত্রের খবর, তদন্তে নেমে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশের একটি দল মেদিনীপুরে হানা দেয়।

দেবব্রত মণ্ডল
দেবব্রত মণ্ডল

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ২৩:৪৮

options
link
৪৮ ঘণ্টা পর আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডে গ্রেপ্তার গুদাম মালিক, উদ্ধার আরও ৩ দেহাংশ, বাড়ছে নিখোঁজও
ধৃত গঙ্গাধর দাস। নিজস্ব চিত্র

আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টা পর গ্রেপ্তার গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাস। মঙ্গলবার সন্ধেয় তাঁকে আটক করে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। পূর্ব মেদিনীপুরে তাঁর বাড়ি থেকেই অভিযুক্তকে ধরা হয়। সূত্রের খবর, তদন্তে নেমে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশের একটি দল মেদিনীপুরে হানা দেয়। গঙ্গাধর দাস বাড়ি থেকে বেরোতেই তাঁকে আটক করা হয়। পরে বারুইপুর জেলা পুলিশের তরফে তাঁকে গ্রেপ্তারির কথা জানানো হয়েছে।

Advertisement

যদিও গুদাম মালিক এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার দায় চাপিয়েছেন মোমো সংস্থার ঘাড়ে। জানা গিয়েছে, যে গুদামে আগুন লেগেছে সেখানে পুরো জমিটারই মালিক ছিলেন গঙ্গাধর। মোমো কোম্পানি ডেকরেটার্সের গোডাউন লিজে নিয়েছিল। অগ্নিকাণ্ডের পর গা ঢাকা দেন গঙ্গাধর। অবশেষে পুলিশের জালে ধরা দিলেন তিনি। বুধবারই তাঁকে বারুইপুর আদালতে তোলা হতে পারে। মঙ্গলবার রাতে আনন্দপুরেরর ওই ঘটনাস্থল থেকে আরও ৩ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত মোট ১১ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। নিখোঁজ ১৫ জনের অধিক। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১৫ জনের পরিবারের তরফে নিখোঁজ অভিযোগ তাঁদের কাছে এসেছে। মঙ্গলবারই নতুন করে একটি নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

Advertisement

এদিকে রাজ্যের তরফে ইতিমধ্যেই মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম একথা জানিয়েছেন। দেহ বা দেহাংশের শনাক্তকরণ হলেই পরিবারের হাতে চেক তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী। বুধবার আদালত থেকে ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি চাওয়া হবে, তারপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেহের নমুনা মিললে পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করা হবে।

Advertisement

উল্লেখ্য, রবিবার ভোর রাতে প্রায় ৩টে নাগাদ আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান এলাকার মানুষ। তাঁরাই দমকল ও পুলিশে খবর দেন। দমকলের ১২ ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু হয়। পরে আরও ৪টি ইঞ্জিন আসে। অবশেষে দেড় দিন পর দমকলের ১৬টি ইঞ্জিনের তৎপরতায় আজ, মঙ্গলবার আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। এখনও পর্যন্ত সরকারি মতে ১১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা গিয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাস। অবশেষে তাঁকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.