পুজোর নতুন পোশাক তৈরি। প্যান্ডেল ঘোরার পরিকল্পনাও প্রায় পাকা। শুধু আয়নার সামনে দাঁড়ালেই একটাই আফশোস, পুজোর আগে যদি কয়েক কেজি ওজন কমানো যেত! এই তাড়নায় অনেকে শুরু করে দেন না খেয়ে থাকা, কার্বোহাইড্রেট একেবারে বাদ দেওয়া বা দিনের পর দিন শুধু স্যালাড খাওয়া।
কিন্তু ওজন কমানোর জন্য এমন কড়া নিয়মের প্রয়োজন নেই। বরং রোজকার চেনা খাবারকেই যদি ঠিক পরিমাণে, সঠিক সময়ে এবং একটু পরিকল্পনা করে খাওয়া যায়, তা হলে ওজন নিয়ন্ত্রণের পথ অনেকটাই সহজ হতে পারে।
আরও পড়ুন:
ওজন কমানোর মূল বিষয় হল শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় কিছুটা কম ক্যালরি গ্রহণ করা। তবে শুধু ক্যালরি কমালেই হবে না। খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ থাকা জরুরি। এমন খাবার বেছে নিতে হবে যা পেট ভরাবে, দীর্ঘক্ষণ তৃপ্ত রাখবে এবং অকারণে বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমাবে।
আরও পড়ুন:
পুজোর আগে নিরামিষ খাবার দিয়েই দিনের খাদ্যতালিকা কীভাবে সাজানো যায়, তার একটি সাত দিনের পরিকল্পনা দেখে নেওয়া যাক।

প্রথম দিন
সকালে দুটো ছোট বেসন চিলা ও পুদিনার চাটনি। দুপুরে এক বাটি ডাল, একটা রুটি, লাউয়ের তরকারি ও স্যালাড। বিকেলে একটা গোটা ফল, যেমন আপেল, পেয়ারা বা কমলালেবু। রাতে সবজির স্যুপের সঙ্গে পনির।
দ্বিতীয় দিন
সকালে দুটো ছোট মুগ ডালের চিলা ও আধ কাপ দই। দুপুরে এক বাটি রাজমা, এককাপ ভাত ও স্যালাড। বিকেলে ডাবের জল বা দইয়ের ঘোল। রাতে এক বাটি খিচুড়ি, চাইলে সঙ্গে অল্প ঘি নিতে পারেন।
তৃতীয় দিন
সকালে সবজি দিয়ে ওটস ও আধ কাপ দই। দুপুরে এক বাটি ছোলা, একটা রুটি ও স্যালাড। বিকেলে এক মুঠো ভাজা ছোলা। রাতে এক বাটি ডাল, সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে সবজি ও অল্প দই।

চতুর্থ দিন
সকালে গ্রিক ইয়োগার্টের সঙ্গে একটি আপেল। দুপুরে এক বাটি সবজির খিচুড়ি, দই ও স্যালাড। বিকেলে একটি গোটা ফল। রাতে মুগ ডাল ও সবজির তরকারি।
পঞ্চম দিন
সকালে অঙ্কুরিত মুগের সঙ্গে শসা, গাজর ও লেবু। দুপুরে এক বাটি পনিরের তরকারি, একটা রুটি ও সবজি। বিকেলে অল্প ভাজা মাখনা। রাতে ডালের স্যুপ ও সবজি।
ষষ্ঠ দিন
সকালে দুটো ছোট ইডলি ও আধ বাটি সাম্বার। দুপুরে এক বাটি সাম্বার, এককাপ ভাত ও সবজি। বিকেলে এক গ্লাস দইয়ের ঘোল। রাতে দইয়ের সঙ্গে সবজি।
সপ্তম দিন
সকালে বেসন চিলা বা সবজি দিয়ে টোফু স্ক্র্যাম্বল। দুপুরে এক বাটি ডাল, এককাপ ভাত, ঢেঁড়সের তরকারি ও স্যালাড। বিকেলে এক টুকরো ডার্ক চকোলেট অথবা একটি গোটা ফল। রাতে পনির ও সবজি দিয়ে স্যুপ।

খাবারের পর একটু হাঁটা
ডায়েটের পাশাপাশি দৈনন্দিন শারীরিক সক্রিয়তাও গুরুত্বপূর্ণ। দুপুর ও রাতের খাবারের পর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করা যেতে পারে। নিয়মিত হাঁটা এবং পরিমিত খাবারের সমন্বয় ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
পুজোর আগে সাবধান
পুজোর আগে ওজন কমানোর লক্ষ্য থাকলেও হঠাৎ অত্যন্ত কম ক্যালরির ডায়েট শুরু করা ঠিক নয়। শরীরের প্রয়োজন প্রত্যেকের আলাদা। বয়স, ওজন, দৈনন্দিন শারীরিক পরিশ্রম, শারীরিক সমস্যা এবং খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী খাবারের পরিমাণও বদলাতে পারে। তাই ডায়েটের তালিকা অনুসরণ করার আগে প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পুজোর আনন্দ মানেই খাবার থেকে দূরে থাকা নয়। বরং রোজের খাবারে একটু নিয়ন্ত্রণ, পাতে পর্যাপ্ত সবজি ও প্রোটিন, মেপে কার্বোহাইড্রেট এবং নিয়মিত হাঁটা। পুজোর আগে তাই ‘না খেয়ে রোগা’ নয়, লক্ষ্য হোক ‘বুঝে খেয়ে ফিট’।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
এক ভাইপোকে সরিয়ে আরেক ভাইপোকে গুরুদায়িত্ব, মায়াবতী বলছেন, ‘এটা তো পরিবারতন্ত্র নয়’
-
টেস্টকে বাড়তি গুরুত্ব, বিশ্বকাপের আগে ‘অর্ধেক ফিট’ ক্রিকেটার চান না গম্ভীর
-
ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন! ৯ ক্যারেটের ‘রিফ্লেকশনস’ কালেকশন নিয়ে হাজির শ্যামসুন্দর জুয়েলার্স
-
‘মফঃস্বলের ছেলের দেশ জয়’, লালবাগচার পায়ে জাতীয় পুরস্কার ঠেকিয়ে আশীর্বাদধন্য কার্তিক আরিয়ান
-
নেই স্মার্টফোন, তবু প্রতি মাসে বইতে হচ্ছে ইন্টারনেটের খরচ! এয়ারটেল-ভিকে কড়া নির্দেশ কেন্দ্রের