১০২ ডায়াল করেও মেলেনি সাড়া, প্রসূতির মৃত্যুতে ক্ষোভ বাঁকুড়ায়

গাফিলতির দায় কার? উঠল প্রশ্ন। 

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৮, ২০:৪৩

options
link
১০২ ডায়াল করেও মেলেনি সাড়া, প্রসূতির মৃত্যুতে ক্ষোভ বাঁকুড়ায়

টিটুন মল্লিক, বাঁকুড়া: মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন। বারবার ডায়াল করলেন। রিং হল। কেউ তুললেন না। এদিকে যন্ত্রণায় অন্ধকার হয়ে আসছে চারদিক। শেষে ১০২ টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করার ক্ষমতাও হারালেন। এল না কোনও নিশ্চয়যান। সন্তানপ্রসবের পর রক্তক্ষরণ। অসহায় বাড়ির লোকজন আর নিশ্চয়যানের ভরসা না করে অন্য ব্যবস্থা করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হল না। মারাই গেলেন অপর্ণা দুলে। বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের সিমলাপাল ব্লকের জড়িশা গ্রামে শোককে ছাড়িয়ে ফুটে উঠল ক্ষোভ।

Advertisement

অপর্ণাদেবীর স্বামী হারাধন দুলের অভিযোগ, “১০২ নম্বরে বারবার ফোন করেও সাড়া মেলেনি। সেই কারণেই জড়িশা গ্রাম থেকে সিমলাপাল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসতে দেরি হয়। আর সেজন্যই মৃত্যু হয়েছে আমার স্ত্রীর। যাদের গাফিলতির কারণে এই ঘটনা ঘটল তাদের কড়া শাস্তি দেওয়া হোক।” এদিকে সরকারিভাবে অনেক প্রচার হয়েছে এবং হচ্ছে। প্রসব যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন? সঙ্গে সঙ্গে ফোন করতে হবে এই টোল ফ্রি নম্বরে। ফোন করার দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যেই চলে আসবে নিশ্চয়যান। প্রসূতিকে নিয়ে যাবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে জড়িশা গ্রামের মানুষ যা দেখল, তাতে ক্ষোভ হওয়া স্বাভাবিক, এমনটা মানছেন স্বাস্থ্যকর্তারাও।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[পূর্ব বর্ধমানে ডাইনি সন্দেহে বেধড়ক মার মহিলাকে]

Advertisement

জানা গিয়েছে, নিশ্চয়যানের জন্য অপেক্ষা না করে বাড়ির লোকজন অন্য ব্যবস্থা করে অপর্ণাকে নিয়ে গিয়েছিলেন বাঁকুড়ার জঙ্গলমহল খাতড়া মহকুমার সিমলাপাল ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সন্তান প্রসবের পরই ওই গৃহবধূকে সিমলাপাল ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে রেফার করা হয় বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে। হাসপাতালে ভরতি করার পরই তাঁর মৃত্যু হয়। অভিযোগ, ১০২ টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করেও সাড়া না মেলায় বাড়ি থেকে ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসতে দেরি হওয়াতেই মৃত্যু হয়েছে ওই গৃহবধূর।

বাঁকুড়ার মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক প্রসূন কুমার দাসকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এখনও পর্যন্ত আমাদের কাছে এই সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ আসেনি।” যদিও তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।” তবে এদিন প্রশিক্ষণ চলার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিএমওএইচ শরবিন্দু বাগ ব্লকে না থাকলেও বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “ওই প্রসূতিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসতে দেরি হওয়াতেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।”  উল্লেখ্য সম্প্রতি এই নিশ্চয়যান প্রকল্পে উন্নত পরিষেবা দিতে দক্ষিণ ভারতের একটি বেসরকারি সংস্থাকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

[ফিরল নির্ভয়া স্মৃতি, ধর্ষণের পর আদিবাসী তরুণীর উপর নারকীয় অত্যাচার]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.