অর্ণব দাস, বারাসত: ভোটমুখী বাংলায় এসআইআর ইস্যুতে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা। শাসক শিবিরের দাবি, এভাবে ভোটারদের হেনস্তা করছে বিজেপি। যদিও বিজেপির দাবি, ভোটের আগে ‘ভূতুড়ে’ ভোটার ঝাড়াই বাছাই করছে কমিশন। ভোটবাক্সে প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় তটস্থ তৃণমূল। সে কারণে এসআইআর-এর বিরোধিতা করছে তারা। তবে বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্যে নয়া জল্পনা। এসআইআর-ই কি তবে বুমেরাং হল বিজেপির, রাজনৈতিক মহলে ক্রমশ উঠছে সে প্রশ্ন।
হাবড়ার কুমড়া বাজার সংলগ্ন মাঠে পরিবর্তন সংকল্প সভা ছিল বিজেপির। দলের বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে বুধবার একই সঙ্গে দেখা যায়। শমীক বলেন, “এসআইআর হচ্ছে, এসআইআর চলবে। কিন্তু এসআইআরের উপর ভরসা করে বিজেপি বাংলায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আসেনি। এই মুহূর্তে এসআইআর বন্ধ করে দিন। ইডি, সিবিআইয়ের দপ্তরে তালা লাগিয়ে দিন। ইনকাম ট্যাক্স, জিএসটিকে বলুন কোনও নোটিস পাঠানো যাবে না।” কারণ, তাঁর মতে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তৃণমূলকে হারিয়ে বিজেপিকে জেতাবে। যদিও এই সভাতেই তিনি আবার বলেন, “সাংসদ থাকাকালীন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী নিয়ে লোকসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছিলেন। আর এখন অনুপ্রবেশকারী বাঁচাও যাত্রা তৈরি করছেন। এদিকে সৌগত রায় বলছেন, এসআইআর তো হয়, হয়ে আসছে। আর তৃণমূলের অন্যরা বলছে এসআইআর মানব না। এদিকে, বিএলও-র পিছনে সব থেকে বেশি ঘুরছে তৃণমূল।”
আবার দিলীপের গলায় উলটো সুর। তাঁর যুক্তি, “মৃত, অনুপস্থিত ভোটারদের ছাপ্পা ভোট দিয়ে জেতে, তাই এসআইআর নিয়ে চিৎকার করছে তৃণমূল। বর্ডার এলাকায় সব থেকে বেশি ভুয়ো ভোটার। এসআইআরের প্রথম পর্যায়ে যেভাবে নাম বাদ যাচ্ছে তৃণমূল আর ক্ষমতায় থাকবে না।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভোট আসন্ন হলেও এখনও কোন ইস্যুকে হাতিয়ার করে এগোবে বিজেপি, তা স্থির করতে পারেনি। রাজ্য বিজেপি ঘরোয়া কোন্দলে জরাজীর্ণ, তা দুই নেতার দু’রকম মন্তব্যে স্পষ্ট।
এদিকে, তৃণমূলের উন্নয়নের পাঁচালি নিয়েও এদিন বিতর্কিত মন্তব্য করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক। তাঁর দাবি, “কায়দা করে তৃণমূল উন্নয়নের পাঁচালি নামিয়ে দিয়েছে। আসলে এটি লক্ষ্মীর পাঁচালির কাউন্টার। আগামী দিনে বাড়িতে কেউ লক্ষ্মীর পাঁচালি পড়তে পারবেন না। উন্নয়নের পাঁচালি পড়তে হবে। সেটা শেষ হলে হিজাব পড়তে হয়। এই জায়গায় উত্তর ২৪ পরগনা যাচ্ছে। তাই মানুষকে সচেতন হতে হবে।” স্বাভাবিকভাবে এই মন্তব্যে জোর শোরগোল। শমীকের বিরুদ্ধে ধর্মীয় উসকানির অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। এদিনের সভা শুরুর কিছু সময় পর থেকেই ফাঁকা হতে শুরু করেছিল সভাস্থল। যদিও বক্তব্য রাখার সময় বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এই অভিযোগ খণ্ডন করেন। তাঁর দাবি, সভাস্থলে তিলধারণের জায়গা নেই।
সর্বশেষ খবর
-
জীবিত কিশোরীকে গিলে খান দেবী! আজও শিকলে বাঁধা রঘুনাথগঞ্জের ‘পেটকাটি দুর্গা’
-
কবিগুরুর কণ্ঠে কবি, সৃজিতের ছবিতে রবীন্দ্রনাথের চরিত্রে কণ্ঠ দিলেন জয় গোস্বামী
-
ঘুমের আগে ১ ফোঁটা এই তেলে করুন মাসাজ, পুজোয় শরীরে বাড়বে জেল্লা
-
গিলের ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছেন কোহলি, কোথায় রোহিত?
-
ধোপে টিকল না স্ত্রীর অসুস্থতার অজুহাত, ধর্ষক আসারামের জামিন খারিজ গুজরাট হাই কোর্টে