প্লাস্টিকের বোতল-পলিথিনেই এবার জ্বলবে বিশ্বভারতীর উনুন! বোতল-পলিথিনের বর্জ্যেই তৈরি হবে গ্যাস ও জ্বালানি। প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন আর আবর্জনা নয়। পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে পরিবেশ আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকাকালীনই বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসকে কার্যত প্লাস্টিকমুক্ত করার লক্ষ্যে বড়সড় উদ্যোগ নিতে চলেছে কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন:
শান্তিনিকেতন ও শ্রীনিকেতন এলাকার হস্টেল, আবাসন, বিভিন্ন ভবন থেকে সংগৃহীত পলিথিন ও প্লাস্টিকের জলের বোতল প্রক্রিয়াজাত করে তা থেকে তৈরি হবে পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানি ও গ্যাস। আগামী এক মাসের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। জানা গিয়েছে, শুধু নিয়ম জারি করে প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করার পরিবর্তে বর্জ্যকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদে পরিণত করতেই এই প্রকল্পের পরিকল্পনা। প্লাস্টিক পুড়িয়ে নষ্ট করলে বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু বিশেষ প্রযুক্তিতে নিয়ন্ত্রিত উত্তাপ প্রয়োগ করে প্লাস্টিককে ভেঙে গ্যাস ও তরলে পরিণত করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে শুদ্ধিকরণ ও শীতলীকরণের মাধ্যমে দু’টি উপাদানকে পৃথক করা সম্ভব। উৎপাদিত গ্যাস রান্নার কাজে এবং তরল জ্বালানি তেল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞদের দাবি।
বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, “আগামী এক মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ক্যাম্পাসকে সম্পূর্ণ পলিথিনমুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।” এই প্রকল্পে কতটা প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়, প্রথমে তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। সেই হিসাবের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় যন্ত্র বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু বিশ্বভারতীর মূল ক্যাম্পাস নয়, হস্টেল, কোয়ার্টার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন আদর্শ গ্রামের বর্জ্যও এই প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের প্লাস্টিক বর্জ্য যাতে বাইরে গিয়ে পরিবেশের উপর নতুন চাপ তৈরি না করে, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বভারতীর এক আধিকারিকের কথায়, “শুধু নিয়ম করে প্লাস্টিক বন্ধ করা কঠিন। বর্জ্য সংগ্রহ করে তা কাজে লাগাতে পারলেই স্থায়ী সমাধান সম্ভব।” বিশ্বভারতীর এই উদ্যোগ সফল হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংজ্ঞাই বদলে যেতে পারে শান্তিনিকেতনে। তবে পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন, আর বাস্তবায়ন থেকে নিয়মিত ও নিরাপদ উৎপাদন এখন চ্যালেঞ্জের। শেষ পর্যন্ত প্লাস্টিকমুক্ত বিশ্বভারতীর স্বপ্ন কতটা বাস্তব হয়, তার উত্তর মিলবে বর্জ্য যখন সত্যিই সম্পদে বদলাবে। আর তারই প্রতিজ্ঞা নিয়েছে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বারাকপুরে বিজেপি নেতার বাড়ির সামনে রেইকি ৩ যুবকের! পুলিশের জালে ১
-
রাজ্যজুড়ে সক্রিয় ভুয়ো চিকিৎসক চক্র! ২ চিকিৎসককে কাঠগড়ায় তুলে স্বাস্থ্যদপ্তরে চিঠি
-
পার্টিতে মদ্যপানের প্ল্যান? আগে খেয়ে নিন এই খাবারগুলি, হ্যাংওভার সামলানো হবে সহজ
-
কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গেরুয়া ছোঁয়া, দায়িত্বে মিঠুন-প্রসেনজিৎ, কবে উদ্বোধন?
-
মহিলাকে ফোনে ‘কুপ্রস্তাব’-হুমকির অভিযোগ, রহড়ায় গ্রেপ্তার বিজেপি নেতা