Tehatta

মায়ের অঙ্গ বিক্রির দায় থেকে ‘মুক্তি’, বাড়ি ফিরেই SIR-এর কাজে বিএলও আমির চাঁদ, আতঙ্কে শিশুপুত্র

জেলমুক্তি হলেও অবিলম্বে মামলা থেকে মুক্তি, হামলাকারী ও অভিযুক্ত পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আমির চাঁদ শেখের পরিবার।

রমণী বিশ্বাস
রমণী বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬, ১৯:৩৮

options
link
মায়ের অঙ্গ বিক্রির দায় থেকে ‘মুক্তি’, বাড়ি ফিরেই SIR-এর কাজে বিএলও আমির চাঁদ, আতঙ্কে শিশুপুত্র
জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আমির চাঁদ। নিজস্ব চিত্র

গত রবিবার মায়ের মৃত্যু! তারপর মরণোত্তর ক্ষুদান। পুলিশে অভিযোগ। তিনদিন জেল বন্দি। বিশাল ঝড় বয়ে গিয়েছে তেহট্টের সমাজকর্মী শিক্ষক আমির চাঁদের পরিবারের উপর। তবে নিজের দায়িত্বে অবিচল তিনি। জেলমুক্তির পরই এসআইরের বাকি কাজ সামলাতে ব্যস্ত বিএলও আমির চাঁদ। কিন্তু এখনও আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে পরিবারের। বাড়ি ফিরতে নারাজ তাঁর নয় বছরের ছেলে। কারণ, শিক্ষক বলছেন, “ঘটনার দিন কে বা কারা আমার ছোট্ট ছেলেকে ধরে বলেছে, আয় তোর চোখ তুলে বিক্রি করে দেব। আমরা বাড়ি ফিরলেও ভয়ে বাড়ি ফিরতে পারছে না ন’বছরের ছেলে।”

Advertisement

জেল থেকে মুক্তি পেলেও মামলা থেকে অব্যাহতি মেলেনি। অবিলম্বে মামলা থেকে মুক্তি, হামলাকারী ও অভিযুক্ত পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আমির চাঁদ শেখের পরিবার। ঘটনার দিন বাড়িতে এলাকাবাসী ভাঙচুর করেছিলেন বলে অভিযোগ। কিন্তু এখনও হামলাকারীদের বিরুদ্ধেও নেওয়া হয়নি কোনও ব্যবস্থা! পুলিশের এই অতি সক্রিয়তা ও অন্যায় ভাবে তাঁর পরিবারকে জেলের ভরে দেওয়ার পিছনে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন তিনি। এদিকে শিক্ষক আমির চাঁদ এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিএলও হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভার ৮৫/২০৭ পার্টের বুথ লেভেল অফিসার আমির চাঁদ শেখ। কিন্তু জেল হেফাজতে থাকায় শেষ ৩দিন এসআইআরের কোনও কাজ করতে পারেননি তিনি। বাড়ি ফিরে আগে সেই কাজ শেষ করার উদ্দ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

Advertisement

আমির জানাচ্ছেন, প্রথমে কাউকে না জানিয়ে তাঁর মা বাড়ি থেকে একটু দূরে একটি ক্যাম্পে গিয়ে মরণোত্তর চক্ষুদানের অঙ্গীকার করেন। সেই কথা পরে তাঁকে জানিয়েছিলেন। মায়ের কথামতোই শেষ ইচ্ছা পূরণ করতেই তিনি চক্ষুদানের উদ্যোগ নেন। তারপর পরিবার দেহ শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে যাওয়ার আগে তাঁদের উপর হামলা করা হয়। এমনকী পুলিশের সামনে মারধরও করা হয় বলে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। কিন্তু সেই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোতোয়ালি থানার পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। ঘটনার দিন পুলিশ তাঁদেরকে উদ্ধার করার নাম করে থানায় নিয়ে যায়। তারপর পরিবারের পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.