Jhargram

শিল্পের খরা কাটছে জঙ্গলমহলে! ইকো টুরিজমে ভরসা করে কর্মসংস্থানের ডাক ঝাড়গ্রামে

দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যে শিল্পে পিছিয়ে ঝাড়গ্রাম। বড় শিল্পের অভাবে জেলার হাজার হাজার যুবক-যুবতীকে কাজের খোঁজে পাড়ি দিতে হচ্ছে ভিন্‌রাজ্যে। সেই চেনা ছবির বদল ঘটিয়ে জঙ্গলমহলে শিল্প, পর্যটন ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা দেখা দিল।

Advertisement
সুনীপা চক্রবর্তী
সুনীপা চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: জুন ২৮, ২০২৬, ১৪:১৪

options
link
শিল্পের খরা কাটছে জঙ্গলমহলে! ইকো টুরিজমে ভরসা করে কর্মসংস্থানের ডাক ঝাড়গ্রামে
ইকো টুরিজমে ভরসা করে কর্মসংস্থানের ডাক ঝাড়গ্রামে।

দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যে শিল্পে পিছিয়ে ঝাড়গ্রাম। বড় শিল্পের অভাবে জেলার হাজার হাজার যুবক-যুবতীকে কাজের খোঁজে পাড়ি দিতে হচ্ছে ভিন্‌রাজ্যে। সেই চেনা ছবির বদল ঘটিয়ে জঙ্গলমহলে শিল্প, পর্যটন ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা দেখা দিল। দেশের অন্যতম প্রাচীন দেশীয় বণিক সংগঠন বেঙ্গল ন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিএনসিসিআই) এই বার্তা দিয়েছে। সম্প্রতি, ঝাড়গ্রাম শহরের এক অতিথিশালায় সংগঠনের ঝাড়গ্রাম জেলা শাখার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শিল্পায়ন, ট্রাইবাল টুরিজম, ইকো-টুরিজম এবং স্থানীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক বিকাশের উপর জোর দেন বক্তারা।

Advertisement

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যানপালন প্রতিমন্ত্রী অমিয় কিস্কু, ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ, বিনপুরের বিধায়ক প্রণত টুডু, বিএনসিসিআই-এর সভাপতি অশোককুমার বণিক, শিল্প, বৈদেশিক বাণিজ্য ও কমপ্লায়েন্স বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঋত্বিক দাস, গৈরিক সমাজকর্মী অশোক মহান্তি-সহ জেলার শিল্পোদ্যোগী ও ব্যবসায়ীরা। অশোক কুমার বণিক বলেন, দেশের অন্যতম প্রাচীন দেশীয় বণিক সংগঠন হিসেবে বিএনসিসিআই বরাবরই শিল্প ও ব্যবসার প্রসারে কাজ করে এসেছে। ক্ষুদ্র, কুটির ও কৃষিভিত্তিক শিল্প, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, ব্যাঙ্কঋণ এবং সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঝাড়গ্রামেও সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা হবে। 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
Call for employment generation in Jhargram banking on eco-tourism
শিল্পের খরা কাটছে জঙ্গলমহলে!

প্রতিমন্ত্রী অমিয় কিস্কু বলেন, জঙ্গলমহলের উন্নয়নে শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের বড় ভূমিকা রয়েছে। উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে। ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউয়ের দাবি, অতীতে জেলায় শিল্পায়নের পরিবেশ তৈরি হয়নি। ফলে বহু যুবককে ভিন্‌রাজ্যে গিয়ে কাজ করতে হয়েছে। এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। ট্রাইবাল ট্যুরিজম, ইকো-ট্যুরিজম, বনজ সম্পদ, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং স্থানীয় উদ্যোগকে ঘিরে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। শিল্পোদ্যোগীদের নির্ভয়ে বিনিয়োগের আহ্বানও জানান তিনি। বিনপুরের বিধায়ক প্রণত টুডু বলেন, জঙ্গলমহলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখনও পর্যটনের মানচিত্রে পুরোপুরি উঠে আসেনি। চিল্কিগড়ের কাছে ডুলুং নদীর উপর সেতু নির্মিত হলে পর্যটনের বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে স্বাস্থ্য ও পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তোলার উপরও জোর দেন তিনি।

Advertisement

ঋত্বিক দাস বলেন, শুধু সরকারের পক্ষে শিল্পায়ন সম্ভব নয়। বণিক সংগঠন, শিল্পোদ্যোগী এবং সরকারের যৌথ উদ্যোগেই নতুন শিল্প গড়ে উঠতে পারে। তাঁর দাবি, বর্তমানে ঝাড়গ্রামে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে ঝাড়গ্রামে একটি বৃহৎ শিল্প সম্মেলনের আয়োজন করে দেশ-বিদেশের শিল্পোদ্যোগীদের এখানে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ট্রাইবাল ট্যুরিজম, ইকো-ট্যুরিজম, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগকে কেন্দ্র করে জঙ্গলমহলকে নতুন শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলাই হবে সংগঠনের লক্ষ্য। অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিদের পরিবেশন করা হয় ঝালমুড়ি। উল্লেখ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঝাড়গ্রাম সফরে এসে ওই দোকান থেকেই ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.