সংকল্প যাত্রা

সাংসদের উপস্থিতিতে সংকল্প যাত্রার মঞ্চে দুই বিজেপি নেতার হাতাহাতি, অস্বস্তিতে শীর্ষ নেতৃত্ব

প্রতিক্রিয়া দিতে নারাজ সাংসদ কুনার হেমব্রম।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ২৪, ২০১৯, ১৯:৪৭

options
link
সাংসদের উপস্থিতিতে সংকল্প যাত্রার মঞ্চে দুই বিজেপি নেতার হাতাহাতি, অস্বস্তিতে শীর্ষ নেতৃত্ব

সম্যক খান, মেদিনীপুর: সংকল্প যাত্রার সভায় সাংসদ কুনার হেমব্রমের উপস্থিতিতেই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়লেন দুই বিজেপি নেতা। মঞ্চের উপরেই চলল চেয়ার সরিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে ঠেলাঠেলি- হাতাহাতি। চলল কিল-চড়-ঘুষিও। সর্বসমক্ষে মঞ্চের উপর দুই নেতার হাতাহাতির ঘটনায় হকচকিয়ে যান কর্মী-সমর্থকরাও। দুই নেতারই অনুগামীরা একে অপরের বিরুদ্ধে মারমুখী হয়ে ওঠেন। অন্যান্য নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে কিছুক্ষণের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বৃহস্পতিবারের বিকেলে এই ঘটনাটি ঘটে গড়বেতার আমলাগোড়ায়।

Advertisement

পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়কুশমা থেকে শুরু হওয়া সংকল্প যাত্রা চলছিল। আমলাগোড়া শীতলামন্দির মাঠের সভা ছিল বিজেপির। দলের বর্ষীয়ান জেলা সহ সভাপতি প্রদীপ লোধা ও জেলা সম্পাদক মদন রুইদাস নিজেদের মধ্যে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। একসময় হাতাহাতির জেরে দু’জনেই মঞ্চ থেকে পড়ে যান। মঞ্চের উপর তখন ঝাড়গ্রামের সাংসদ কুনার হেমব্রম উপস্থিত ছিলেন। তার ডানপাশের চেয়ারে কে বসবেন তা নিয়েই বিতর্কের শুরু। বিজেপির জেলা সহ সভাপতি প্রদীপ লোধার অভিযোগ, মঞ্চের উপর সাংসদের ডানপাশের চেয়ারে তিনি যখন বসতে যান তখনই তার চেয়ার পেছন থেকে টেনে সরিয়ে নেন জেলা সম্পাদক মদন রুইদাস। প্রতিবাদ করতেই সজোরে তার মুখ লক্ষ্য করে ঘুষি চালিয়ে দেওয়া হয়। প্রদীপবাবুর আরও দাবি, দলের পুরনো সৈনিক তিনি। প্রয়াত তপন শিকদার, মনোরঞ্জন দত্তের আমল থেকে তিনি রাজনীতি করছেন। কিন্তু এভাবে কোনওদিন তাঁকে অপমানিত হতে হয়নি।

Advertisement

[আরও পড়ুন: এসডিপিও ‘নপুংসক’, তুফানগঞ্জ কাণ্ডে বিতর্কিত মন্তব্য রবীন্দ্রনাথ ঘোষের]

অস্বস্তি এড়াতে মঞ্চ থেকে নেমে গাড়ির দিকে চলে যান সাংসদ কুনার হেমব্রম। সভাও ভেস্তে যায়। মঞ্চের উপর দুই নেতা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ায় কর্মীসমর্থকদের মধ্যেও হই হট্টগোল শুরু হয়। তার রেশ চলতে থাকে সভাস্থলের বাইরেও। অভিযোগ, সভাস্থল থেকে কিছুটা দূরেই মদন রুইদাসের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখান প্রদীপবাবুর অনুগামীরা। অপরদিকে মদনবাবুর অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে অনেক আগে থেকেই একটা চক্রান্ত চলছে। বৃষ্টি হওয়ায় মঞ্চের চেয়ারে জল জমে গিয়েছিল। চেয়ারের সেই জল তিনি পরিষ্কার করেছিলেন মাত্র। পুরো ঘটনাটাই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সামনে ঘটেছে। এ নিয়ে যা বলার দলই বলবে। তবে তিনি কিল, ঘুষি মারার কথা অস্বীকারই করেছেন। পুরো ঘটনার সাক্ষী সাংসদ কুনার হেমব্রম। তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও পরে কথা বলবেন বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

Advertisement

ছবি: নিতাই রক্ষিত

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.