সরকার বদল, উৎসবের পরিবেশেও পরিবর্তন! করম পরব ঘিরে রাঙামাটি পুরুলিয়ায় এবছর একেবারে অন্য ছবি। এতদিন নিজস্ব বৃত্তেই এই প্রাচীন লোক উৎসব পালন করতেন আদিবাসী কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষজন। এবার তা আর নির্দিষ্ট ঘেরাটোপে নয়, স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে হইহই করে নিজের পরব উদযাপন চলছে পুরুলিয়ায়। রবিবার পুরুলিয়ার কড়াডিতে করম পরবের বিশাল আয়োজনের কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক পটবদলের পর এদিন তাঁর আগমন ও বক্তব্যে কোন বার্তা উঠে আসে, সেদিকে নজর ছিল সকলের। সেই আশা পূর্ণ করে মুখ্যমন্ত্রী এদিন ঘোষণা করলেন, কুড়মিদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভূক্ত করা হবে। খুব দ্রুত এই কাজ শুরু ও শেষ হবে। আর তাতেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনগণের মধ্যে তুমুল হাততালি, উচ্ছ্বাস।

মুখ্যমন্ত্রী ভাষণে জানান, ‘‘আমাকে অজিত মাহাতো বলেছেন, কীভাবে বিগত সরকার আদিবাসীদের মধ্যে বিরোধ লাগানোর চেষ্টা করেছে। কোনও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। আপনারা ভাষার দাবিতে যখন আন্দোলন করছিলেন, সেসময় ওরা অত্যাচার করেছে, মিথ্যে মামলা দিয়েছে। অজিতবাবুরা বলেছিলেন, সংবিধানের অষ্টম তফসিলে কুড়মালি ভাষাকে স্বীকৃতি দেবে যে দল, সেই দলকে সমর্থন জানাবেন। তাঁদের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা নির্বাচনের সময়ে আমাদের সংকল্পপত্রে কুড়মালি ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলাম। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে দিল্লি গিয়ে জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, সুদেশ মাহাতোরা আলোচনা করেছেন। ঠিক হয়েছে কুড়মালি ভাষা, রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভূক্ত করা হবে।”
আজকের করম পরবে উপস্থিত থাকার জন্য অনেক আগেই মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কুড়মি সমাজের তরফে। মাস খানেক আগে নবান্নে তাঁর সঙ্গে দেখা করে আমন্ত্রণপত্র তুলে দিয়েছিলেন আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিত মাহাতো, বিধায়ক বিশ্বজিৎ মাহাতোরা। শুভেন্দু তাঁদের আশ্বস্ত করেন, অনুষ্ঠানে থাকবেন। সেইমতো রবিবার কলকাতা থেকে আকাশপথে অন্ডাল হয়ে পুরুলিয়ার কড়াডি ময়দানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় ৪০ হাজার মহিলাকে ঝুমুর নাচের মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানান। কুড়মিদের ঐতিহ্যবাহী হলুদ পাগড়ি ও উত্তরীয় পরিয়ে তাঁকে মঞ্চে বরণ করে নেন অজিত মাহাতো, জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, বিশ্বজিৎ মাহাতো, সুদেশ মাহাতোরা।
এরপর মুখ্যমন্ত্রী ভাষণ দিতে উঠে জানান, ‘‘আমাকে অজিত মাহাতো বলেছেন, কীভাবে বিগত সরকার আদিবাসীদের মধ্যে বিরোধ লাগানোর চেষ্টা করেছে। কোনও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। আপনারা ভাষার দাবিতে যখন আন্দোলন করছিলেন, সেসময় ওরা অত্যাচার করেছে, মিথ্যে মামলা দিয়েছে। অজিতবাবুরা বলেছিলেন, সংবিধানের অষ্টম তফসিলে কুড়মালি ভাষাকে স্বীকৃতি দেবে যে দল, সেই দলকে সমর্থন জানাবেন। তাঁদের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা নির্বাচনের সময়ে আমাদের সংকল্পপত্রে কুড়মালি ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলাম। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে দিল্লি গিয়ে জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, সুদেশ মাহাতোরা আলোচনা করেছেন। ঠিক হয়েছে কুড়মালি ভাষা, রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভূক্ত করা হবে।”
ভাষার স্বীকৃতি নিয়ে অতীত স্মরণ করে শুভেন্দুর আরও বক্তব্য, ‘‘১৯২৫ সালে পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু অলচিকি হরফ বানিয়েছিলেন। তারপর থেকে কিন্তু কংগ্রেস সরকার তাকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি। ২০০৩ সালে অটল বিহারী বাজপেয়ীজি সাঁওতালি ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। সুতরাং, যা কাজ করার বিজেপিই করবে। কখনও অটলজি, কখনও নরেন্দ্র মোদিজি। বিজেপি যে কথা দেয়, সেকথা রাখতে জানে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পোস্টারে শিল্পীকে ‘অপমান’, বিতর্কে সনাতন দিন্দার পুজো, কী জানালেন উদ্যোক্তারা?
-
রণক্ষেত্র বালোচিস্তানে সামরিক অভিযান! মৃত ৫ বিদ্রোহী, ২৩ জন অপহৃতকে উদ্ধার পাকসেনার
-
বিগ বসের ঘরে হৃদরোগে আক্রান্ত সলমন! হইচই শুরু হতেই কেন ক্ষমাপ্রার্থী ভাইজান?
-
মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিকর পোস্ট! গ্রেপ্তার গোঘাটের তৃণমূল নেতা ফিরোজ আলি
-
পালাবদলের বাংলায় বাড়ছে কাজের চাপ, ছোট হচ্ছে কেশব ভবন! নিউটাউনে নয়া দপ্তর আরএসএসের