জোট নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই কংগ্রেসকে লাগাতার আক্রমণ করে যাচ্ছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। এবার পালটা আক্রমণ শানাল কংগ্রেসও। নাম না করে সেলিমের উদ্দেশে বলা হল, “অহেতুক মাথা ঘামানো বন্ধ করুন।” জানিয়ে দেওয়া হল, কংগ্রেস নিজেই তার সিদ্ধান্ত নেবে এবং তা সময় মতোই নেওয়া হবে।
বিধানসভা ভোটের আর মাস দেড়েক বাকি। কিন্তু এখনও জোট নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য নেই কংগ্রেসের অন্দরে। তার মধ্যে সিপিএম এবং কংগ্রেসের মধ্যে যে ভাবে তীক্ষ্ণ বাক্যবিনিময় শুরু হয়েছে, তা অনেকেরই অনুমান, হয়তো এবার জোট হবে না! কংগ্রেস যে এবার জোট গড়ার লড়ার চেয়ে একা লড়াতেই বেশি আগ্রহী, তা আগেই বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তও এখনও স্পষ্ট ভাবে জানায়নি কংগ্রেস। তা নিয়েই আপত্তি বামেদের। তাদের বক্তব্য, কংগ্রেস যদি জোট করতে না-ও চায়, তা হলে সেই সিদ্ধান্তও কেন জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে না? এ নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস এবং দিল্লির কংগ্রেস হাইকমান্ডকেও আক্রমণ করেছেন সেলিম। ‘কোনও দিল্লি-হিল্লি চলবে না’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
“সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের জোটবদ্ধ লড়াই রক্ত ঝরানো ইতিহাসে লেখা আছে। দেওয়াল লিখন কিংবা পোস্টারে নয়। আমাদের দল প্রকৃত অর্থেই অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। থিসিস, অ্যান্টিথিসিস থেকে সিন্থেসিস – এটা আমরা বাস্তবিক অর্থে প্রয়োগ করে দেখাই।”
তার জবাবেই প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র অশোক ভট্টাচার্য সমাজমাধ্যমের পোস্টে লিখেছেন, “কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত কংগ্রেস নেবে। অন্য কেউ নয়। কংগ্রেস মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। আমরা আঞ্চলিক দল নই। জেলা, প্রদেশ, দিল্লি, কেরল নিয়ে অহেতুক মাথা ঘামানো বন্ধ করুন। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের জোটবদ্ধ লড়াই রক্ত ঝরানো ইতিহাসে লেখা আছে। দেওয়াল লিখন কিংবা পোস্টারে নয়। আমাদের দল প্রকৃত অর্থেই অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। থিসিস, অ্যান্টিথিসিস থেকে সিন্থেসিস – এটা আমরা বাস্তবিক অর্থে প্রয়োগ করে দেখাই।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মালদহের সভা থেকে সেলিম বলেছিলেন, “যে মই দিয়ে তৃণমূল রাইটার্স বিল্ডিংয়ে উঠেছিল, সেই মইকেই লাথি মেরে ফেলে দিয়েছে। তার পরেও কংগ্রেসের শিক্ষা হয়নি। প্রদেশ কংগ্রেসের নেতা থেকে দিল্লির নেতা, সবাই ভাবছেন এদিকে গেলে লাভ, না ওদিকে গেলে লাভ। দাঁড়িপাল্লা দিয়ে মাপছেন। এটা কোনও শাক-সবজির বাজার না। তৃণমূল, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে হবে। আর এই মালদহ জেলা কংগ্রেস ভাবছে তাঁরা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না, প্রদেশ কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নেবে। আর প্রদেশ ভাবছে দিল্লি সিদ্ধান্ত নেবে। এখানে কোনও দিল্লি-হিল্লির সিদ্ধান্ত চলবে না। বাংলাকে বাঁচাতে হবে। সাধারণ মানুষকে এক হয়ে লড়াই করতে হবে।”
সর্বশেষ খবর
-
উরুগুয়েকে হারিয়ে পরের রাউন্ডে স্পেন, ইতিহাস গড়ে নকআউটে ভোজিনহার কেপ ভার্দেও
-
আবেগের নাম শ্যামাপ্রসাদ! ভারত কেশরী ‘ঘনিষ্ঠ’ শতায়ু অফিসারকে শ্রদ্ধা বিজেপি নেতার
-
‘কালো হিরে’র হ্যাটট্রিকে স্বমহিমায় ফরাসি বিপ্লব, নরওয়েকে গোলের মালা ফ্রান্সের
-
কন্ডোম-খাট-বালিশ, বিধাননগরে তৃণমূলের ওয়ার্ড অফিস যেন হোটেল! দেখে হতবাক স্বাস্থ্যমন্ত্রী
-
‘কী করে ওকে বলব…?’ ভূমিকম্পে মেয়ের প্রাণ বাঁচিয়ে মৃত স্ত্রী, ভেঙে পড়লেন ভেনেজুয়েলার ফুটবলার