CPM

পথে বামেরাই! এসআইআর থেকে ওয়াংচুক, লাগাতার আন্দোলনে হারানো জমি ফেরানোর চেষ্টা

মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্যের প্রধান বিরোধী শক্তি হওয়ার লক্ষ্য তাদের।

সৌরভ মাজি
সৌরভ মাজি

শেষ আপডেট: জুলাই ২০, ২০২৬, ১৪:৪৮

options
link
পথে বামেরাই! এসআইআর থেকে ওয়াংচুক, লাগাতার আন্দোলনে হারানো জমি ফেরানোর চেষ্টা
নানা ইস্যুতে লাগাতার পথে নেমে আন্দোলনে বামেরা, বর্ধমানে। নিজস্ব ছবি

প্রতিদিনই রাস্তায় বামেরা। সেই পথটা লাগাতার আন্দোলনের। পূর্ব বর্ধমান জেলার কোনও কোনও প্রান্তে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিচ্ছে সিপিএম (CPM) ও বাম সংগঠনগুলি। রাজ্য ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটা অনিয়ম, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার কমরেডকুল। এসআইআর ইস্যু থেকে যন্তরমন্তরে এতদিন ধরে অনশন করা পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের প্রতি সংহতি জানানো, ঋষিকেশে নির্বিচারে বৃক্ষনিধনের প্রতিবাদ। সব নিয়েও রোজ কোনও না কোনও কর্মসূচি চলছে লাল পার্টির।

Advertisement

এছাড়া হকার উচ্ছেদ, বসতি উচ্ছেদ-সহ রাজ্যের বিভিন্ন ইস্যুতে ইদানিং বামেদের প্রায়শয় রাস্তায় নামতে দেখা যাচ্ছে। কখনও স্ট্রিট কর্নার, কখনও সভা-সমাবেশ, কখনও গণ কনভেনশনের আয়োজন করছেন দলের নেতারা।। সেইসঙ্গে মিছিল তো রয়েইছে। সদ্য বিধানসভা নির্বাচনে শূন্য থেকে এক হয়েছে সিপিএম। সেই শক্তিতে ভর করেই ফের হারানো জমি ফিরে পাওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে দল। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্যের প্রধান বিরোধী শক্তি হওয়ার লক্ষ্য তাদের। আর সিপিএমের এই প্রচেষ্টায় জনসমর্থনও বাড়ছে। রাজ্যে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তৃণমূলকে এখন দূরবীন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দলে এতগুলি ভাগ, অথচ মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর লোক নেই। সেই পরিস্থিতিতে সিপিএমই ভরসা যোগাচ্ছে সাধারণ মানুষের হয়ে লড়াইয়ে।

Advertisement
সোনম ওয়াংচুকের জন্য সংহতি মিছিল বামেদের, বর্ধমান শহরে, নিজস্ব ছবি

বিধানসভা নির্বাচনের আগে এসআইআর ইস্যুতে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য। সেই সময় থেকেই আন্দোলন চলছে। বহু মানুষকে ভোটার লিস্ট থেকে বাদ দিয়েই হয়েছে ভোটগ্রহণ। রাজ্যে নতুন সরকার এসেছে। কিন্তু আন্দোলন থেকে সরেনি সিপিএম তথা বামেরা। রবিবার বর্ধমানের রবীন্দ্রভবনে ‘ভোটাধিকার বাঁচাও’ এবং এসআইআর-এ বাতিল হওয়া ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার দাবিতে কনভেনশনের আয়োজন করা হয়েছিল। আওয়াজ, আদিবাসী অধিকার রক্ষা মঞ্চ, সামাজিক ন্যায় মঞ্চ, সারা ভারত গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি, সম্মিলিত কেন্দ্রীয় বাস্তুহারা পরিষদের মতো বাম সংগঠনগুলির তরফে এই কনভেনশনের আয়োজন করা হয়েছিল। কনভেনশনে মুখ্য আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। আগামী আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করতে কনভেনশন থেকে ৫৩ জনের কমিটি গঠিত হয়। কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচিত হয়েছেন শাহজাহান চৌধুরী।

Advertisement

আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় কনভেনশনে প্রশ্ন তোলেন, ‘‘যেভাবে এসআইআরে নাম বাদ পড়াদের নিয়ে কাজ চলছে তাতে ৪১ বছর সময় লেগে যাবে। তাহলে কী আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকব? তাহলে আমাদের কী করতে হবে?” কনভেনশনে আসা মানুষজন আন্দোলনের পথে নামার দাবি তোলেন। সেই প্রসঙ্গ ধরেই কনভেনশনে আওয়াজ ওঠে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে পাট্টা প্রাপকদের বঞ্চিত করার চক্রান্তের। তা রুখতে আন্দোলন জারি রাখতে হবে। কয়েকদিন আগে ছাত্র, যুব, মহিলা, শিক্ষক, বিজ্ঞান আন্দোলনের কর্মী-সহ বিভিন্ন স্তরের নাগরিকদের উদ্যোগে মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল বর্ধমান শহরে।

এসআইআর ইস্যুতে রবিবার বর্ধমানে বামেদের গণ কনভেনশন, নিজস্ব ছবি

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট, শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ, লাদাখ-সহ হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয় সেদিনের কর্মসূচিতে। আবার পরিবেশ রক্ষার বিভিন্ন দাবিও ওঠে। ঋষিকেশে হাজার হাজার গাছ কাটার প্রতিবাদ, কেন–বেতোয়া নদী সংযোগ প্রকল্পের সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব, মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুরের আদিবাসীদের উদ্বাস্তু হওয়ার আশঙ্কা এবং বর্ধমানের শশাঙ্ক বিল সংরক্ষণের দাবিতে আওয়াজ তোলে বামেরা। একইসঙ্গে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে সরব হন তাঁরা। এখন প্রশ্ন হল, এই আন্দোলনের পথে হেঁটে কি হারানো জমি ফিরে পাবে বামেরা? উত্তর সময়সাপেক্ষ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.