হায়দরাবাদ বিস্ফোরণ কাণ্ডের মূল চক্রী শেখ সমীরের মৃত্যুদণ্ড

মঙ্গলবারই দোষী সাব্যস্ত হয় কুখ্যাত লস্কর জঙ্গি৷

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ১৫, ২০১৮, ১৫:১১

options
link
হায়দরাবাদ বিস্ফোরণ কাণ্ডের মূল চক্রী শেখ সমীরের মৃত্যুদণ্ড

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: হায়দারবাদ বিস্ফোরণ কাণ্ডে জড়িত লস্কর জঙ্গি শেখ সমীরের ফাঁসির সাজা ঘোষণা করল বনগাঁ মহকুমা আদালত৷ এছাড়াও ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে দোষীর৷ দীর্ঘ সওয়াল জবাবের পর মঙ্গলবারই দোষী সাব্যস্ত করা হয় তাকে৷ 

Advertisement

[‘ফাঁসির সাজা দিলেও কিছু যায়-আসে না’, বিচার ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ লস্কর জঙ্গির]

২০০৭ সালে কাশ্মীরের সেনা ছাউনি, ২০১৬-য় উরিতে হামলার ছক কষেছিল লস্কর-ই-তইবা। সেই সময় এক সুইসাইড বম্বার ও দুই জঙ্গিকে বনগাঁ সীমান্তের চোরাপথ দিয়ে দেশে ঢুকিয়েছিল এই সমীর। আরডিএক্স দিয়ে সেনা জওয়ানদের একটি ট্রেন উড়িয়ে দেওয়ার ছক কষেছিল জঙ্গিরা। তবে হামলা চালানোর আগেই পেট্রাপোল সীমান্ত থেকে তাদের পাকড়াও করেছিল বিএসএফ। মামলাটির তদন্তভার নেয় সিআইডি। তাদের জেরা করে কলকাতায় লস্করের গোপন ডেরার সন্ধান মেলে। উদ্ধার হয় বিস্ফোরক। দেশদ্রোহিতার অপরাধে ওই লস্কর টিমের তিন জঙ্গিকে ফাঁসির সাজা দেয় আদালত। কিন্তু সাজা দেওয়ার আগেই পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল জঙ্গিরা এবং সেই জঙ্গি দলের মূল পাণ্ডা শেখ আবদুল্লাহ নইম ওরফে শেখ সমীর।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[জয়নগর কাণ্ডে জারি ধরপাকড়, পুলিশের জালে আরও ১]

ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই কুখ্যাত লস্কর জঙ্গি শুধু এই মামলায় নয়, দেশের আরও দু’টি বড় নাশকতার মামলায় মোস্ট ওয়াটেন্ড৷ সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদের বাসিন্দা শেখ সমীর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র ছিল৷ ২০০৭ সালে পেট্রাপোল সীমান্ত এলাকা থেকে তিন লস্কর জঙ্গি মহম্মদ ইউনুস (৬০), আবদুল্লাহ (৩৪), মুজফ্ফর আহমেদ রাঠের (৩২) সঙ্গে সমীরকেও গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারির পর বেঙ্গালুরুতে এই চার জঙ্গির ব্রেন ম্যাপিং, পলিগ্রাফ ও নারকো অ্যানালাইসিস টেস্ট করা হয়৷ সেখানে তদন্তকারীদের কাছে সব অপরাধ স্বীকার করে সমীর৷ সূত্রের খবর, সমীর তদন্তকারীদের কাছে স্বীকার করে লস্কর-ই তৈবার কম্যান্ডার ছিল সে। হায়দরাবাদে মক্কা মসজিদ বিস্ফোরণের ছক সে নিজে সজিয়েছিল। লস্কর জঙ্গিরা কীভাবে দেশে ঢুকবে, কোথায় বিস্ফোরক মজুত করা থাকবে, কীভাবে হামলা চালানো হবে, গোটা অপারেশনের ব্লুপ্রিন্ট নিজের হাতে তৈরি করত সমীর। যেমন মেধা তেমনই যুদ্ধে পারদর্শী সমীর। অ্যাণ্টি টেররিস্ট স্কোয়াড সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৬-এ পাকিস্তান থেকে আসা যে বিপুল পরিমাণ আরডিএক্স, একে ৪৭ রাইফেল ও কার্তুজ ঔরঙ্গাবাদ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল তার পিছনেও শেখ সমীরের সক্রিয় ভূমিকা ছিল৷

Advertisement

[সোনারপুরে ব্যবসায়ীর গলাকাটা দেহ উদ্ধার, মৃত্যু ঘিরে ধোঁয়াশা]

২০১৪-এর ২৫ আগস্ট সেই মামলার হাজিরা দিতেই হাওড়া-মুম্বই এক্সপ্রেসে করে তাকে মুম্বইয়ের এমসিওসিএ কোর্টে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল৷ ছত্তিশগড়ের রায়গড় স্টেশনের কাছে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিয়ে পালায় সে৷ রিপোর্টে বলা হয়, সাতজন পুলিশকর্মীর চোখে ফাঁকি দিয়ে খরসিয়া এবং সাক্তি স্টেশনের মাঝে ট্রেন থেকে লাফ দিয়ে পালায় সমীর৷ বছর তিনেক ফেরার থাকার পর ফের পুলিশের জালে ধরা পড়ে সে। মঙ্গলবার সমীরকে দোষী সাব্যস্ত করে বনগাঁ আদালত। সমীরের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছিলেন সরকারী আইনজীবী সমীর দাস৷ শনিবার তাকে ফাঁসির সাজা দেন বনগাঁ আদালতের বিচারক৷  

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.