Census

বাড়তি বরাদ্দের লক্ষ্যে জনসংখ্যা বেশি দেখায় বামেরা! ত্রুটি রুখতে এবার সেনসাসে ডিজিটাল ব্যবস্থা

এবার সেনসাসে 'আধার-ভোটার-মোবাইল ফোন' যুক্ত করার পাশাপাশি আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে লিঙ্গ ধরে গণনার সময় ছবি তোলা এবং চোখের মণির তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংগ্রহের উপর গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: জুলাই ৩১, ২০২৬, ১৩:৪৭

options
link
বাড়তি বরাদ্দের লক্ষ্যে জনসংখ্যা বেশি দেখায় বামেরা! ত্রুটি রুখতে এবার সেনসাসে ডিজিটাল ব্যবস্থা
ফাইল ছবি।

বাম জমানায় ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া জনগণনায় (Census) যে সমস্ত পথে ‘পরিসংখ্যান ও তথ্য’ সংগ্রহে ‘ত্রুটি’ হয়েছিল সেই রন্ধ্রগুলি ‘ডিজিটাল’ প্রক্রিয়ায় বন্ধের ব্যবস্থা নিচ্ছে রাজ্য সরকার। বস্তুত এ কারণে এবার সেনসাসে ‘আধার-ভোটার-মোবাইল ফোন’ যুক্ত করার পাশাপাশি আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে লিঙ্গ ধরে গণনার সময় ছবি তোলা এবং চোখের মণির তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংগ্রহের উপর গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

Advertisement

জনগণনায় যুক্ত সরকারি আধিকারিকরা স্বীকার করে নিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের নানা সামাজিক প্রকল্পে বাড়তি কয়েক লক্ষ কোটি টাকার বরাদ্দ পাওয়ার লক্ষ্যে তৎকালীন বাম সরকারের শীর্ষমহলের নির্দেশে জনসংখ্যার পরিমাণ প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে বিভিন্নস্তরে বৃদ্ধি করে দেখানো হয়। এবার ‘এআই’-এর নানা সফটওয়‍্যার ব্যবহার করায়ও ‘তথ্য ও পরিসংখ্যানে জল মেশানো’র রাস্তা কার্যত বন্ধ। তাই কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় প্রকৃত বাসিন্দার সংখ্যা আনুপাতিক হিসাবে বৃদ্ধির পরিবর্তে কম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সেই কারণেই ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হওয়া স্বাধীন ভারতের সপ্তম জনগণনায় যুক্ত তৎকালীন সরকারি অফিসারদের এবার ‘আধার-ভোটার-মোবাইল ফোন’ যুক্ত করার পাশাপাশি ফেব্রুয়ারি মাসে লিঙ্গ ধরে গণনার সময় ছবি তোলা, চোখের মণির তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংগ্রহে গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্র। একাংশ চিন্তায় পড়েছেন। বিশেষ করে যাঁরা এখনও কর্মরত তাঁরা আগের সেনসাসে ‘জল মেশানোর তথ্য’ ধরা পড়ার ভয়ে রীতিমতো কাঁটা হয়ে আছেন। ২০২৭ সালের ১ মার্চ অষ্টম জনশুমার শেষ হলেই ‘জল মেশানোর অভিযোগ’-এর প্রামাণ্য তথ্য প্রকাশ্যে আসবে।

Advertisement

১৮৭২ সাল থেকে অবিভক্ত ভারতে শুরু হওয়া এবং স্বাধীনতার পর দেশে চলা অষ্টম জনগণনায় এবার তথ্য-পরিসংখ্যান সংগ্রহ সম্পূর্ণ ডিজিটাল হওয়ায় ‘জল মেশানো’র রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ। বামজমানায় ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলা সপ্তম জনশুমারে কলকাতার জনসংখ্যা ছিল ৪৪ লাখ ৯৬ হাজার ৬৯৪। পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা দেখানো হয়েছিল ৯ কোটি ১৩ লাখ ৪৭হাজার, ৭৩৬। ৮৯ লাখ ৩০ হাজার ২৯৫ বাসিন্দা নিয়ে সর্বাধিক জনসংখ্যা উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়। আধিকারিকরা স্বীকার করেন, সীমান্তবর্তী জেলায় ২০১১ সালের পরিসংখ্যানে যে ‘কিছুটা জল মেশানো’ হয়েছিল, তার প্রমাণ মিলেছে পরবর্তীকালে কয়েক লাখ ভুয়া ভোটার সংখ্যা ও রেশন কার্ড ধরা পড়ায়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, জঙ্গলমহল, কোচবিহারের ছিটমহলের একাংশে ২০১১ সালের জনগণনায় প্রকৃত তথ্য দেওয়া হয়নি। ১৫ বছর আগের সেনসাসে কলকাতা পুর এলাকার দায়িত্বে থাকা অনেকে স্বীকার করেন, ৩০৭৭টি বস্তির বহু গলির বাসিন্দাদের প্রকৃত তথ্য জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। তৎকালীন পুরপ্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ মেনে বস্তিবাসীর সংখ্যা অনেকটাই বাড়িয়ে দেখানো হয়। আগের জনগণনায় কলকাতার বস্তিবাসীর সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ ৯ হাজার ৭২১ জন, যা শহরের তৎকালীন মোট জনসংখ্যার ৩১.৩৫ শতাংশ। অভিযোগ, ২০০৯ সালে বাম সরকারের লক্ষ্য ছিল, বস্তিখাতে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন তৎকালীন ইউপিএ সরকারের কাছ থেকে বস্তিফান্ডের বিপুল অর্থ নিয়ে আসা। তাই জনসংখ্যা বাড়িয়ে দেখানো হয়েছিল বলে দাবি।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.