সৌরভ মাজি, বর্ধমান: দুই পা কার্যত অকেজো। চোখের দৃষ্টিও ক্ষীণ। মেয়ে প্রতিবন্ধী। তাই দুধের শিশুকে ফেলে পালায় বাবা। বয়স যখন তিন বছর, মা কিডনির অসুখে মারা যান। তখন থেকেই লড়াই শুরু হয় তাশিনা খাতুনের। সংগ্রামে শরিক হন দিদিমা রাবেয়া। বিধবা মহিলাই তাশিনাকে বড় করেছেন। লড়াই করতে শিখিয়েছেন। লড়াই করেই জয় ছিনিয়ে এনেছে বর্ধমান শহরের কিশোরী। হাই মাদ্রাসা পরীক্ষায় ৮৮ শতাংশ নম্বর পেয়েছে সে। তাঁর এই সংগ্রামকে কুর্নিশ জানাচ্ছে গোটা বর্ধমান। প্রশংসিত তাশিনার ‘মা’ রাবেয়াও। মেয়ের (তাশিনাকে মেয়েই বলেন রাবেয়া) সাফল্য চোখে জল চেপে রাখতে পারেননি রাবেয়া। ‘ওই আমার সব। ওকে আরও বড় করতে চাই।’ কান্না ভেজা গলায় বলেন মহিলা। মেধাবী তাশিনারও লক্ষ্য রাবেয়ার ইচ্ছে পূরণ করে তাঁর কষ্ট লাঘব করা।
[বাগনানে খুন তৃণমূল নেতা, অভিযোগের তির বিজেপির দিকে]
বর্ধমান শহরের কমলসায়র এলাকায় বাড়ি তাশিনার। বাবা রশিদের মুখও মনে পড়ে না তাঁর। জন্মদাত্রী মা আরমানা খাতুনের মুখও ঝাপসা হয়েছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। রাবেয়াই এখন তার বাবা, তার মা, সব। তাশিনাকে ঘিরেই জীবন আবর্তিত হয় রাবেয়ার। সংসারে রোজগেরে কেউ নেই। তাই স্বামীর দুই কামরার বাড়ির একটি ঘর ভাড়া দিয়ে দেন রাবেয়া। শরীরে দানা বেঁধেছে নানা রোগ। তবে লড়াই ছাড়েননি তিনি। সামান্য ভাড়ার টাকাতেই সংসার খরচ ও তাশিনাকে বড় করার স্বপ্নপূরণ করার প্রয়াস চালিয়েছেন বিধবা মহিলা। রাবেয়ার সংগ্রামের যথাযথ মর্যাদা দিয়েছে তাশিনা। বর্ধমানের হাই মাদ্রাসা থেকে ফাইনাল (দশম) পরীক্ষায় এবার ৬৯৭ নম্বর পেয়েছে সে। প্রায় ৮৮ শতাংশ।
[বিদেশের সোনা গলিয়ে ‘দেশি’ বার, শহরে ফাঁস বড়সড় পাচার চক্র]
এই নম্বর প্রাপ্তির পিছনে অবদান রয়েছে তাশিনার স্কুলেরও। স্কুলের তরফে তাশিনার ফি মকুব করে দেওয়া হয়। পড়াশোনায় সহযোগিতা করতে অনেক শিক্ষকই আলাদা করে পড়িয়েছেন মেধাবী ছাত্রীকে। এতকিছুর পরও রাবেয়া যেটা করেছেন তা বোধহয় অন্য কারও পক্ষে সম্ভব নয়। নিজে পড়াশোনা বিশেষ জানেন না। কিন্তু তাশিনাকে শিক্ষিত করতে নিজে প্রতিদিন স্কুলে নিয়ে যেতেন। স্কুল শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্কুলেই অপেক্ষা করতেন। ছুটির পর বাড়ি নিয়ে আসতেন সঙ্গে করে। রাবেয়া বলেন, “ও ভাল করে হাঁটাচলা করতে পারে না, বাথরুমে যাওয়া-আসা বা পথে যদি কোনও বিপদ হয় সেই ভেবেই সারাদিনই স্কুলেই থাকি। আজ আমি গর্বিত।” স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুন্সী রফিকুল ইসলাম বলেন, “পঞ্চম শ্রেণি থেকেই দেখেছি ওর পড়াশুনোর প্রতি খুব আগ্রহ। আমরা ওর আরও ভাল ফলের আশা করেছিলাম। ভেবেছিলাম মেধা তালিকায় এক থেকে দশের মধ্যে থাকবে। তাই একটু হতাশ হয়েছি। আমাদের বিশ্বাস ও জীবনে সাফল্য পাবেই।” নিজের ফলে সন্তুষ্ট নয় তাশিনাও। ইংরাজি ও বাংলার খাতা রিভিউ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে। তার কথায়, “ছোট থেকেই শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্ন। পড়াশোনা করে আমার মায়ের(দিদিমা) কষ্ট দূর করব।”

ছবি- মুকলেসুর রহমান
[পথভোলা কিশোরীকে বাড়ি ফেরানোর অছিলায় বিহারে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ বন্ধুর]
সর্বশেষ খবর
-
ঝা চকচকে ঘর-বিছানা, নতুন বাড়িতে ‘দিদি তেরা দেভর দিওয়ানা’ গেয়ে ফের ভাইরাল রানু!
-
‘মাথা খাচ্ছেন’ শ্বশুর, এবার ভাইপোকে দল থেকেই তাড়িয়ে দিলেন মায়াবতী
-
আর্থিক ধাক্কায় নাজেহাল আমেরিকা, অবশেষে ইরান যুদ্ধে দাঁড়ি টানছেন ট্রাম্প!
-
‘দর্শক বোকা? অ্যানিম্যাল চলেছে বলেই…’, বলিউডকে ‘ভেড়ার পাল’ কটাক্ষ করিনার, খোঁচা ভাই রণবীরকেও!
-
উপনির্বাচন ঘোষণা হতেই তপ্ত রেজিনগর! তৃণমূল-আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সংঘর্ষে রক্তারক্তি কাণ্ড