‘পুরুষত্বের’ নামে আগ্রাসন এবং নারীবিদ্বেষের প্রচার করে বক্স অফিসে কোটি কোটি টাকার মুনাফা করাই কি বর্তমানে বলিউডের ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে? সিনেমা যে সমাজের অন্যতম আয়না, তা বললেও অত্যুক্তি হয় না! কিন্তু পর্দায় এত রক্তারক্তি, নারীবিদ্বেষ, হিংসার রমরমা জনমানসে কতটা প্রভাব ফেলছে? নাকি এতে বলিউডের চিরাচরিত ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে? এমন প্রশ্ন তুলে আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন করিনা কাপুর খান (Kareena Kapoor)। এবার নিজের সিনেমা ‘দায়রা’র প্রচারে এসে ভাই রণবীর কাপুরের ‘অ্যানিম্যাল’-এর উদাহরণ টেনে বলিউডকে ‘ভেড়ার পালে’র সঙ্গে তুলনা করলেন বেবো।
“‘অ্যানিম্যাল’ হিট করেছে, তাই সবাই মিলে হিংসা-বিদ্বেষমূলক সিনেমা বানাচ্ছেন! এসব কনটেন্ট এখন সেকেলে…”
আরও পড়ুন:
ভারতীয় সিনেমায় ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’ থিম নতুন নয়। ট্রেন্ড শুরু সেই অমিতাভ বচ্চনের হাত ধরে। কালে কালে সেই ধারা বহন করে এসেছেন বলিউডের বিভিন্ন সময়ের হিরোরা। তবে তেইশ সাল থেকে গুটি গুটি পায়ে ‘আলফা মেল’ ট্রেন্ড ঢুকে পড়েছে হিন্দি সিনেদুনিয়ার পর্দায়। শাহরুখ খানের ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’, সানি দেওলের ‘গদর ২’, রণবীর কাপুরের ‘অ্যানিম্যাল’-এর মতো ছবিগুলি মারকাটারি অ্যাকশন আর স্টার পাওয়ারের সুবাদে বক্স অফিসে ছক্কা হাঁকিয়েছিল। চব্বিশ-পঁচিশ সালেও একাধিক অ্যাকশন ছবি মুক্তি পেয়েছে। সেই ট্রেন্ড বহাল তবিয়তে জিইয়ে রেখেছেন ‘ধুরন্ধর’ রণবীর সিং, ‘টক্সিক’ যশরা। ‘ও রোমিও’ ছবিতে শাহিদ কাপুরও খতরনাক অবতারে ধরা দিয়েছেন। বড়পর্দায় লার্জার দ্যান লাইফ প্রোটাগনিস্টের দৌরাত্ম্য, অ্যাকশনের মারপ্যাঁচের দিকেই দর্শকদের পাল্লা ভারী থেকেছে বিগত তিন বছরে। সেই প্রেক্ষিতেই বর্তমানে প্রশ্ন উঠেছে, পর্দায় অতিরিক্ত হিংসা, রক্ত দেখানোর জন্য বলিউড কি নিজস্বতা হারিয়েছে? সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে মুখ খুলেই বিস্ফোরক করিনা কাপুর।

করিনার মন্তব্য, “আমরা যতটা ভাবি, তার থেকেও দর্শক অনেক বেশি বুদ্ধিমান। কোনও সিনেমা ভালো হলে তাঁরা সেটা ঠিকই বোঝেন এবং দেখতে চান। তাই এখন আর বিষয়টি শুধু রোম্যান্টিক প্রেমের গল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমানে তো আবার পর্দায় হিংসার রমরমা। ‘অ্যানিম্যাল’ হিট করেছে, তাই সবাই মিলে হিংসা-বিদ্বেষমূলক সিনেমা বানাচ্ছেন! এসব কনটেন্ট এখন সেকেলে হয়ে গিয়েছে। আসলে আমাদের মধ্যে সেই ‘ভেড়ার পালের মতো অন্ধ অনুকরণে’র প্রবণতা কাজ করে। আর কী-ই বা বলব? তবে এমন কিছু পরিচালকও রয়েছেন, যাঁরা ভিন্নস্বাদের ছবি তৈরি করতে চান। পাশাপাশি দর্শকের মধ্যে নতুন চিন্তার খোরাকও জোগান। এদের একটা আলাদা নিজস্ব ভক্তকুল রয়েছে। আসলে যুগ বদলেছে। দর্শক এখন ট্রেলার দেখেই সিদ্ধান্ত নেয় সিনেমাটা দেখবে কিনা।” সেকারণেই বেবোর মত, এখন নির্দিষ্ট কোনও ফর্মুলাভিত্তিক ছবির উপর নির্ভর করা কঠিন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘প্রতারণার পর প্লে বয়দের অনুশোচনা হয়?’ বিগ বসের ঘরে র্যাপার বাদশাকে খোঁচা প্রাক্তন স্ত্রীর!
-
আষাঢ় থেকে কার্তিক দেবতাদের নিদ্রাকাল, তবু শরতেই কেন উৎসবের ছড়াছড়ি?
-
বর্জ্য থেকেই জ্বালানি! প্লাস্টিক দিয়ে এবার গ্যাস তৈরির পরিকল্পনা বিশ্বভারতীর
-
ইরান সমর্থিত হাউথির হাতে মারণাস্ত্র ‘এআই ক্লাউড’! প্রযুক্তির অপব্যহার নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উদ্বেগ
-
আইএসএল জয়ের ম্যাচে রেফারি ‘কেনা’ ছিল! ইস্টবেঙ্গলের ‘মাস্টার’কে নিয়ে বিস্ফোরক পোস্ট অস্কারের