বাবুল ম্যাজিক উধাও, পশ্চিম বর্ধমানে সাংগঠনিক শক্তি মজবুতে উদ্যোগী বিজেপি

লোকসভা ভোটের আগে ঘর গোছানো শুরু বিজেপির।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২৭, ২০১৮, ১৮:৩৪

options
link
বাবুল ম্যাজিক উধাও, পশ্চিম বর্ধমানে সাংগঠনিক শক্তি মজবুতে উদ্যোগী বিজেপি

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুরপঞ্চায়েত ভোটে বাবুল ম্যাজিক ব্যর্থ হয়েছে। এবার পশ্চিম বর্ধমান জেলায় সাংগঠনিক ভিত মজবুত করতে নেমে পড়ল বিজেপি। জেলার বুথস্তরে দলের শক্তিবৃদ্ধি করতে বুথ কমিটি গঠন শুরুও হয়ে গিয়েছে। এবার কমিটির সদস্যদের প্রশিক্ষণ শুরু হল বলে। আগামী লোকসভা ভোটের দিকে তাকিয়েই দলের ভঙ্গুর শক্তিকে শক্তপোক্ত করতে চাইছে বিজেপি। আসানসোলের দলীয় সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়র এলাকাতেই রয়েছে সাতটি ব্লক। জেলার মোট আটটি ব্লকের মধ্যে সাতটিই এখানে। এই সাতটি ব্লকে মাত্র সাতটি গ্রাম সংসদ দখল করতে পেরেছে বিজেপি। অন্যদিকে সালানপুর ব্লকে তিনটি ও বারাবনি ব্লকে চারটি। পশ্চিম বর্ধমান জেলার মাত্র ১৩টি গ্রাম সংসদের মধ্যে কাঁকসার ছটি সংসদ দখল করেছে বিজেপি। আর কোথাও বিজেপিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু কিছু বুথে শাসকদলকে কড়া চ্যালেঞ্জে রাখলেও শেষপর্যন্ত ফলাফলে কোনও প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেনি বিজেপি।সাংগঠনিক দুর্বলতাই এর জন্য দায়ী। এমনটাই মনে করছে দলের একাংশ তাই কাজে লাগেনি সাংসদ বাবুলের ক্যারিশমা।

Advertisement

[পঞ্চায়েতে হিংসা নিয়ে লাগাতার আন্দোলনের পথে বিজেপি, থানা ঘেরাওয়ের ডাক]

জানা গিয়েছে, এদিকে নিজেদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে নিয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে ভোটের দিন নূন্যতম প্রতিরোধেও ব্যর্থ দল৷ বাবুলের সংসদ এলাকার বাইরে কাঁকসাতেও যে প্রতিরোধ গড়ে গোলা গিয়েছে, সেই প্রতিরোধ কিন্তু বাবুলের এলাকায় সম্ভব হয়নি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রানিগঞ্জের আমরাসোতাতে সিপিএম শাসকদলের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। তাই ওই গ্রাম পঞ্চায়েত-সহ একটি পঞ্চায়েত সমিতিও এখন সিপিএমের দখলে। কিন্তু বিজেপি সেই অর্থে কোনও লড়াই দিতে পারল না। একদিকে আসানসোলের সংসদ তাদের দখলে আবার অন্যদিকে কেন্দ্রেও বিজেপির সরকার৷ এই জোড়া সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ব্যর্থ দল৷ সেইসঙ্গে রানিগঞ্জের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ফসলও পঞ্চায়েত ভোটে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি৷ উল্লেখ্য,পঞ্চায়েত নির্বাচনেও এই রাজ্যে ভাল ফলাফল করেছে বিজেপি৷ কিন্তু পশ্চিম বর্ধমানে সেই ফলাফলের ধারাবাহিকতা  ধরে রাখতে পারেনি৷ দলের এই সাংগঠনিক দুর্বলতাও ভাবিয়ে তুলেছে বিজেপিকে৷ শক্তিতে বামেরা যে এই জেলায় এখনও বিজেপির থেকে কয়েক কদম এগিয়ে তা পঞ্চায়েত ভোটের ফলাফলেই প্রমাণ৷ সবথেকে যে বিষয়টি বিজেপিকে চিন্তিত করে তুলেছে। তা হল, সাংসদের জনপ্রিয়তাকে মূলধন করে ভোটে সুবিধা নিতেও ব্যর্থ দল৷

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[বাংলা ভাগ হলেও রবীন্দ্র-নজরুল অবিভক্তই, হাসিনার মন্তব্য ছুঁল দুই বাংলার হৃদয়]

দলীয় সূত্রের খবর, দুর্বলতা ঢাকতে তাই লোকসভা ভোটের আগে দলকে মজবুত করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি৷ জেলা কমিটিতে রদবদল ও নতুন মুখকে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে খবর৷ বুথস্তরে বুথ রক্ষা কমিটিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে৷ ওই কমিটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্যে নির্দেশিকাও তৈরি হয়েছে৷ সবই পঞ্চায়েত ভোটের নিদারুণ ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে লোকসভার ভোটের প্রস্তুতি। এমনই  ব্যাখ্যা বিজেপি নেতৃত্বের৷ রাজ্যে দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে উঠে এলেও শিল্পাঞ্চালে  জমি তৈরি যে বেশ দুঃসাধ্য তা একপ্রকার মানছেন বিজেপির জেলা নেতারাও৷ পশ্চিম বর্ধমান জেলার সভাপতি লক্ষণ ঘোরুই জানান, সন্ত্রাসের কাছে আমাদের নতি স্বীকার করতে হয়েছে৷ সাংগঠনিক শক্তির ঘাটতি আছে এই জেলায় এটা সত্যি৷সন্ত্রাসের মাঝেও আমরা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছি৷ বন্দুক, অর্থ ও মাফিয়াদের কাছে আমরা পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি৷ সাংগঠনিকভাবে জেলায় কিছুটা হলেও এগিয়ে সিপিএম৷ তাই লোকসভা ভোটের আগে দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির দিকে জোড় দেওয়া হয়েছে৷

Advertisement

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.