উৎসবের মরশুমে ঘাটতি মেটালেন ‘অন কল’ রক্তদাতারা

দুর্গাপুর বেসরকারি উদ্যোগে উৎসবের অন্য মুখ৷

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৭, ১৩:১০

options
link
উৎসবের মরশুমে ঘাটতি মেটালেন ‘অন কল’ রক্তদাতারা

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর: শারদোৎসব শেষ। চার দিনের আনন্দের মাঝে অনেক অভাব যেন চাপা পড়ে যায়। এই অভাবের মধ্যে অন্যতম রক্তের সঙ্কট। পজিটিভি গ্রুপের রক্ত চেয়ে-চিন্তে মিললেও নেগেটিভ রক্তের একেবারে আকাল দেখা যায়। পুজোর জন্য নানা জায়গায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা যায় না। শারদীয়ায় যখন সবাই আনন্দে ব্যস্ত, তখন নিভৃতে নিজেদের মতো রক্ত জোগাড়ের কাজ করল দুর্গাপুরের একটি সংগঠন। ‘অন কল’ রক্তদাতা তৈরি করল দুর্গাপুর মহকুমা রক্তদাতা ফোরাম৷ সেই আয়োজন সিন্ধুতে বিন্দু হলেও তাদের এই উদ্যোগকে কুর্নিশ করছেন শিল্পনগরীর বাসিন্দারা।

Advertisement

[১৪ ঘণ্টা পর কাটল জট, খুলে গেল সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের পুজো]

Advertisement

পুজোর মুখে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে মজুত রক্তের পরিমান ছিল খুবই সামান্য। এ পজিটিভ ২৫ ইউনিট, বি পজিটিভ ৪৭, এবি পজিটিভ ১৮ এবং ও পজিটিভ ছিল ৯২ ইউনিট। তবে এক ইউনিটও নেগেটিভ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে ছিল না৷ উৎসবের দিন যে কোনও দুর্ঘটনার মোকাবিলায় রক্তের প্রয়োজন হয়৷ কিন্তু নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত না থাকায় পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করেছিলেন চিকিৎসকমহল৷ এই ঘাটতি মেটাতে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দ্বারস্থ হয় দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল৷ তার জন্য এগিয়ে আসে দুর্গাপুর মহকুমা স্বেচ্ছা রক্তদাতা ফোরাম৷ ২০ জন পজিটিভ রক্তদাতা এবং ৮ জন নেগেটিভ রক্তদাতার একটি তালিকা তৈরি করে তারা। প্রয়োজন হলেই যারা সাড়া দেবে৷ ‘অন কল’ ভিত্তিতে পাওয়া যাবে এই রক্তদাতাদের৷ অর্থাৎ ফোন করলেই সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে হাজির হয়ে যাবেন রক্তদাতারা৷ এক ফোনেই মিটবে সমাধান। এই দাতাদের জরুরি ভিত্তিতে তলব করলে সহজে পাওয়া যাবে৷ এভাবে বেশ কয়েক ইউনিট রক্ত জোগাড় হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমানে রয়েছে নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে আশাতীত সাড়া মিলেছে। দান করা রক্ত দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালকে দেওয়া হবে।

Advertisement

[মণ্ডপ থেকে মা দুর্গার একান্নটি শাড়ি চুরি, ধৃত যুবক]

এছাড়াও ‘উৎসবেও থাকুক রক্তদান’ নামক একটি উদ্যোগ নিয়েছিল ফোরাম। যেখানে পরপর রক্তদানের আয়োজন করা হয়েছিল৷ শিবির থেকে দুর্গাপুর হাসপাতালকে দেওয়া হয় ৭৩ ইউনিট রক্ত ও বেসরকারি হাসপাতাল পায় ৩৩ ইউনিট রক্ত৷ কিন্তু কোনও নেগেটিভ রক্ত মেলেনি ওই শিবিরে৷ তাই অভাব ছিলই৷ পুজোর মধ্যে সেই ঘাটতি খানিকটা মিলল। একাদশীর দিন ফের রক্তদানের আয়োজন করা হয়েছে৷ ওই দিন জাতীয় রক্তদান দিবস। এই উপলক্ষ্যে ১ অক্টোবর দুর্গাপুর মহকুমা রক্তদান ফোরাম এই উদ্যোগ নিয়েছে৷ ফোরামের আশা, এর ফলে দুর্গাপুজোর পর রক্ত সঙ্কট কিছুটা মেটানো যাবে৷

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.