Eastern Railway

বন্দে ভারত কাণ্ড থেকে শিক্ষা, এবার ট্রেনে পাথর ছুড়লেই জেল! চলবে সিসিটিভি নজরদারি

পূর্ব রেল ২০২৬ সালের বর্তমান তারিখ পর্যন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনার সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।

Advertisement
নব্যেন্দু হাজরা
নব্যেন্দু হাজরা

শেষ আপডেট: মার্চ ২৫, ২০২৬, ১৭:৪৩

options
link
বন্দে ভারত কাণ্ড থেকে শিক্ষা, এবার ট্রেনে পাথর ছুড়লেই জেল! চলবে সিসিটিভি নজরদারি
ফাইল ছবি।

উদ্বোধনের পরই পাথরের আঘাতে ভেঙেছিল বন্দে ভারতের কাচ। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল সেমি-হাইস্পিড ট্রেন একাধিক অংশ। সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার কঠোর পদক্ষেপ করবে রেল। পাথর ছুড়লেই এবার দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তি। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। পূর্ব রেলের (Eastern Railway) তরফে এমনটাই জানানো হয়েছে। পূর্ব রেল ২০২৬ সালের বর্তমান তারিখ পর্যন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনার সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।

Advertisement

রেল জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী অক্লান্ত পরিশ্রম করলেও বিভিন্ন ডিভিশনে ট্রেনে পাথর ছোড়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক। হাওড়া ডিভিশনে ৬টি ঘটনার খবর পাওয়া গিয়েছে এবং সবগুলিতে মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি মামলা শনাক্ত হয়েছে এবং পাঁচজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। শিয়ালদহ ডিভিশনে ৪টি ঘটনা ঘটেছে এবং সবকটিরই মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে ৩টি মামলা শনাক্ত করে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসানসোলে ৬টি ঘটনা ঘটনার মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ১টি মামলা শনাক্ত হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছেন দু’জন। মালদার ৫টি ঘটনায় তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এই ডিভিশনগুলোতে মোট ২১টি ঘটনার খবর পাওয়া গিয়েছে, সবকটিরই মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি মামলা শনাক্ত করে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাম্প্রতিককালে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে পাথর ছোড়ার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। শুধু বন্দে ভারত নয়, অন্যান্য ট্রেনেও পাথর ছোড়ার মতো ঘটনা ঘটছে। এই আবহে পূর্ব রেলের তরফে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির কথা জানানো হয়েছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

ধারা ১৫২ অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি যদি আঘাত বা ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ট্রেনে পাথর বা অন্য কোনও বস্তু নিক্ষেপ করে, তবে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা দশ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে।

রেলের তরফে জানানো হয়েছে, “কল্পনা করুন, একটি ছোটো শিশু ট্রেনের জানালার পাশে বসে আছে, বাংলার সবুজ মাঠ পার হওয়ার দৃশ্য দেখে তার চোখ উত্তেজনায় উজ্জ্বল। হঠাৎ, জানলার কাচ চুরমার হয়ে গেল। মুহূর্তের মধ্যে আনন্দের সেই সময়টি রক্ত আর কাচের টুকরোর এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হল। এটি কোনও কাল্পনিক ঘটনা নয়; এটি ট্রেনে পাথর ছোড়ার রূঢ় বাস্তবতা। এটি একটি বিবেকহীন কাজ যা জাতীয় সম্পত্তিকে লক্ষ্যবস্তু করে এবং মানুষের ক্ষতি করে। ট্রেন হল উন্নতির প্রতীক যা জাতীয় সম্পত্তি হিসেবে প্রতিটি ভারতীয় নাগরিকের অধিকারভুক্ত এবং এটি জনগণেরই কষ্টার্জিত অর্থে নির্মিত। এটি ধ্বংস করার অর্থ নিজের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো। আমরা আপনাকে অনুরোধ করছি যে কোনও কাজ করার আগে ভাবুন। অনেকের মধ্যে এই বিপজ্জনক ভুল ধারণা রয়েছে যে ট্রেনে পাথর ছোড়া কেবল মজার ছলে করা একটি কাজ। সেই পাথর হয়তো লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। চলন্ত ট্রেনে ছোড়া পাথর অবশ্যই আঘাত হানবে এবং সম্পত্তির ক্ষতি করবে। পাথর ছোড়ার মতো ঘটনাগুলি সবচেয়ে বেশি ঘটে খোলা মাঠের কাছাকাছি এলাকায়। তাই অভিভাবকদের এই বিষয়ে বাড়তি দায়িত্ব নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই ধরনের কাজের পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে।”

Advertisement

রেলের তরফে আরও জানানো হয়েছে, রেলওয়ে আইন, ১৯৮৯ অনুযায়ী ট্রেনে পাথর ছোড়া একটি গুরুতর অপরাধ। ধারা ১৫২ অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি যদি আঘাত বা ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ট্রেনে পাথর বা অন্য কোনও বস্তু নিক্ষেপ করে, তবে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা দশ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। তদুপরি, ধারা ১৫৪ উল্লেখ করে যে, যদি এই কাজ কোনও নির্দিষ্ট হত্যার উদ্দেশ্য ছাড়াই করা হয়, তবে অপরাধী এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় শাস্তিই পেতে পারে।

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক (CPRO) শ্রী শিবরাম মাঝি বলেন, “কেউ যেন ভুলে না যান যে তাঁরা প্রতিনিয়ত সিসিটিভি (CCTV) নজরদারির আওতায় রয়েছেন। রেললাইনের কাছে নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ রেকর্ড করা হচ্ছে। এই ফুটেজগুলি অপরাধীদের শনাক্ত করতে ও তাঁদের শাস্তি প্রদান করতে ব্যবহৃত হয়। আসুন আমরা আমাদের রেলওয়েকে নিরাপদ, সুন্দর এবং পাথর-মুক্ত রাখি।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন