Belda

ঘুমের মধ্যেই চিরঘুম! রাতের বৃষ্টিতে ভাঙল মাটির বাড়ি, দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু বাবা-মেয়ের

পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া।

অংশুপ্রতীম পাল
অংশুপ্রতীম পাল

শেষ আপডেট: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ১৪:৪৯

options
link
ঘুমের মধ্যেই চিরঘুম! রাতের বৃষ্টিতে ভাঙল মাটির বাড়ি, দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু বাবা-মেয়ের
৩১ আগস্ট, সোমবার। পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদায় মাটির বাড়ি চাপা পড়ে মৃত্যু বাবা-মেয়ের, নিজস্ব ছবি

মাঝরাতে ঘুমের মধ্যেই মৃত্যুর হানা! রাতের বৃষ্টিতে বিকট শব্দে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল মাটির বাড়ি। নড়ার সময়টুকু পাওয়া যায়নি। দেওয়াল চাপা পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হল বাবা-মেয়ের। আহত আরও ২। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাঁতন বিধানসভার বেলদা (Belda) থানার অন্তর্গত জাহালদা এলাকায়। বাবা ও মেয়ের এমন পরিণতিতে জাহালদা এলাকায় শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় ভারী গোটা এলাকা।

Advertisement

রবিবার রাত তখন গভীর। টানা বৃষ্টি হচ্ছিল। খাওয়াদাওয়া সেরে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। আচমকাই মধ্যরাতে বিকট শব্দ! হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল মাটির বাড়ি। মুহূর্তের মধ্যেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়লেন ঘুমিয়ে থাকা পরিবারের সদস্যরা। পরে সেখান থেকে বাবা ও মেয়েকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁদের নাম নিরঞ্জন প্রধান ও তাঁর মেয়ে দুর্গা প্রধান। গুরুতর জখম হন পরিবারের আরও দুই সদস্য।

Advertisement
বেলদা থানার অন্তর্গত জাহালদা এলাকায় বাবা-মেয়ের মৃত্যুতে শোকের ছায়া এলাকায়, নিজস্ব ছবি

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় লাগাতার বৃষ্টির জেরে নিরঞ্জন প্রধানের মাটির বাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। বৃষ্টির কারণে বাড়ির মাটির দেওয়াল দুর্বল হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলেও স্থানীয়দের দাবি। রবিবার গভীর রাতে আচমকাই ঘটে গেল প্রাণঘাতী বিপর্যয়। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই বিকট শব্দে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে মাটির বাড়ি। ঘুমন্ত অবস্থাতেই মাটির নিচে চাপা পড়ে যান পরিবারের সদস্যরা।

Advertisement

বাড়ি ভেঙে পড়ার শব্দ পেয়ে ছুটে আসেন আশপাশের বাসিন্দারা। শুরু হয় উদ্ধারকাজ। স্থানীয়দের তৎপরতায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছে নিরঞ্জন প্রধান ও তাঁর মেয়ে দুর্গার। নিরঞ্জনবাবুর স্ত্রী ও ছেলে আহত হয়েছেন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চলছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বেলদা থানার পুলিশ। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। বাড়িটি কী কারণে ভেঙে পড়ল, বৃষ্টির জেরে কাঠামো কতটা দুর্বল হয়ে পড়েছিল, সব খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.