Haringhata

চন্দ্রবোড়া ছোবলের মুখে মা মরা মেয়ে, বাঁচাতে ঝাঁপালেন বাবা! তারপর যা হল…

মা মরা মেয়ে একমাত্র সম্বল, পরম ভালোবাসার। ঘুমন্ত মেয়ের পাশে বিষধর চন্দ্রবোড়া সাপ দেখতে পেয়ে ভয় পেয়েছিলেন বাবা। মেয়েকে বাঁচাতে খালি হাতেই সাপটিকে ধরতে গিয়েছিলেন।

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: আগস্ট ২২, ২০২৬, ২০:১৯

options
link
চন্দ্রবোড়া ছোবলের মুখে মা মরা মেয়ে, বাঁচাতে ঝাঁপালেন বাবা! তারপর যা হল…
হাসপাতালে ওই ব্যক্তি। নিজস্ব চিত্র

মা মরা মেয়ে একমাত্র সম্বল, পরম ভালোবাসার। ঘুমন্ত মেয়ের পাশে বিষধর চন্দ্রবোড়া সাপ দেখতে পেয়ে ভয় পেয়েছিলেন বাবা। মেয়েকে বাঁচাতে খালি হাতেই সাপটিকে ধরতে গিয়েছিলেন। ধরেও ফেলেন। তবে মেয়ে প্রাণে বেঁচে গেলেও বিষধর সাপের ছোবল খান বাবা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার হরিণঘাটা পুরসভা এলাকায়।

Advertisement

ঘটনাটি গতকাল, শুক্রবারের। হরিণঘাটা পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোহনপুরে ওএনজিসি সংলগ্ন এলাকায় বাড়ি সঞ্জীব ওরাংয়ের। স্ত্রী বেশ কিছুদিন আগে মারা গিয়েছেন। নাবালিকা একমাত্র মেয়েকে নিয়ে সঞ্জীবের সংসার। মেয়েকে মানুষ করতে কোনও কিছুই কার্পন্য করেন না বাবা। গতকাল নিজেদের ঘরে ঘুমাচ্ছিল ওই কিশোরী। খাওয়াদাওয়া শেষে ঘরে ঢুকে খাটের দিকে চোখ যায় সঞ্জীবের। শরীর দিয়ে যেন ঠান্ডা স্রোত বয়ে যায় তাঁর।

Advertisement

ঘুমন্ত মেয়ের সামনে কুণ্ডলী পাকিয়ে রয়েছে একটি বিষধর চন্দ্রবোড়া সাপ। যে কোনও সময় মেয়েকে সেটি ছোবল মারতে পারে। আর সেই ছোবল খেলে কী যে হবে! স্ত্রীকে ধরে রাখতে পারেননি। মেয়েকেও কি তাহলে হারাতে হবে? অতঃপর মেয়েকে বাঁচাতে ঝাঁপালেন বাবা! সামনে থাকা একটি প্লাস্টিক নিয়ে দ্রুত ওই সাপটিকে ধরতে যান ব্যক্তি। বিষধরকে ধরে ফেললেও ছোবল থেকে নিস্তার পাননি! সঞ্জীবের হাতেই ছোবল মারে ওই সাপটি। এবার নিজেকে বাঁচাতে লড়াই সঞ্জীবের।

Advertisement

ছোবল খেয়ে সাহস না হারিয়ে প্লাস্টিকবন্দি ওই সাপটিকে নিয়ে হরিণঘাটা গ্রামীণ হাসপাতালে পৌঁছন তিনি। শরীরে তখন বিষ ছড়াতে শুরু করেছে। ঘটনার কথা শুনে হাসপাতালেই দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়। চিকিৎসক, নার্সদের তৎপরতায় বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সঞ্জীবের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। প্রয়োজন হলে তাঁকে কল্যাণী জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হবে। সেই কথাও হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে। মেয়েকে বাঁচাতে নিজের জীবনকে এভাবে বাজি ধরেছিলেন সঞ্জীব! সেজন্য ওই ব্যক্তির প্রশংসাও পাচ্ছেন ডাক্তার, নার্স, স্থানীয়দের।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.