বজবজ ভাগাড় কাণ্ডে এবার গ্রেপ্তার সিপিএমের প্রাক্তন কাউন্সিলর

কল্যাণীর বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৪, ২০১৮, ১৮:০৫

options
link
বজবজ ভাগাড় কাণ্ডে এবার গ্রেপ্তার সিপিএমের প্রাক্তন কাউন্সিলর

দেবব্রত মণ্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বজবজ ভাগাড়ের মাংস কাণ্ডের সূত্র ধরে এবার গ্রেপ্তার নদিয়ার এক সিপিএম কাউন্সিলর। ধৃতের নাম মানিক মুখোপাধ্যায়। ধৃতের বাড়ি নদিয়ার কল্যাণী থানা এলাকায়। শুক্রবার বজবজ থানার পুলিশ কল্যাণীর বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, নদিয়ার গয়েশপুর পুরসভার প্রাক্তন বাম কাউন্সিলর মানিক মুখোপাধ্যায়। ক্ষমতা থেকে বাম বোর্ড চলে যাওয়ার পর এই অভিযুক্ত প্রাক্তন কাউন্সিলর গয়েশপুর থেকে চলে আসেন কল্যাণীতে। কাউন্সিলর পদ চলে গেলেও নদিয়ার বিভিন্ন ভাগাড় ও পুরসভার ডাম্পিং গ্রাউন্ডগুলির মরা পশুর হাড় ও চামড়ার টেন্ডার নিতেন তিনি। সেই ভাগাড়ের মৃত পশুগুলি তুলে এনে চামড়া ছাড়িয়ে লোকজন দিয়েই কাটাকাটি করাতেন মরা পশুর মাংসকে। তারপর সেগুলি পৌঁছে যেত বিভিন্ন বাজারে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[বিয়ের আসরে ছন্দপতন, কনের আত্মীয়র গুলিতে জখম বরের দাদা]

বুধবার রাতে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা থেকে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করার পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। কাঁকিনাড়া থেকে ধৃত এক অভিযুক্ত বাম কাউন্সিলরের নাম জানান। সেই মতো পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রথমে তাঁকে আটক করে। সঙ্গে আটক করা হয় আরও একজনকে। দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর পুলিশ মানিক মুখোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, কাউন্সিলর পদ থেকে সরে যাওয়ার পরও ভাগাড় ও ডাম্পিং গ্রাউন্ডের টেন্ডার ছাড়তেন না তিনি। বিভিন্ন এলাকায় লোক রেখে দিনের পর দিন চলছিল ব্যবসা।

Advertisement

বজবজ ভাগাড় কাণ্ডের পর রাজ্যের বিভিন্ন ভাগাড়ে চলছে নজরদারি। পুরসভাগুলির তরফে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ব্যবস্থা। ধৃতদের জেরা করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার আরও একটি ভাগাড়ের নাম উঠেছে। সেটি হল রাজপুর-সোনারপুরের ভাগাড়। ধৃতরা জানিয়েছেন, এই এলাকা থেকেও তাঁরা মরা পশুর মাংস সংগ্রহ করেছেন। তবে এ বিষয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান ড: পল্লব দাস বলেন, “আমাদের কোনও ভাগাড় নেই। আমাদের পুরসভার একটি ডাম্পিং গ্রাউন্ড আছে হরিনাভিতে। সেখানে নজরদারির জন্য যথেষ্ট নিরাপত্তারক্ষী রয়েছে। প্রতিটা মরা পশুকে নির্দিষ্ট গাড়িতে করে এনে সঙ্গে সঙ্গে চামড়া ছাড়িয়ে তাকে নষ্ট করে দেওয়া হয়। হাড় ও চামড়ার জন্য পুরসভার টেন্ডার দেওয়া আছে। এই ঘটনার পর পুরসভার তরফে সিসিটিভি দিয়ে নজরদারি চালানোর ব্যবস্থা হচ্ছে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে।”

[এবার পচা মাংসের হদিশ মিলল বিমানবন্দর এলাকায়, ধৃত ২]

ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে রাজা মল্লিক, মিশেল শ্যামলাল ও সানি মল্লিক-সহ ন’জনকে আগেই গ্রেপ্তার করে বজবজ থানার পুলিশ। সানি মল্লিককে গ্রেপ্তার করা হয় বিহার থেকে। ধৃতদের জেরা করে শুক্রবার নদিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মানিক মুখোপাধ্যায়কে। এদিন ধৃতকে আলিপুর আদালতে তোলা হলে তাকে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। ধৃতকে জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে এই ভাগাড়ের মাংসের খদ্দের একদিকে যেমন বড় বড় হিমঘরের মালিকরা রয়েছেন তেমনই আছেন ছোট বড় বিভিন্ন রেস্তরাঁর কারবারিরা। প্রতিটি ভাগাড় থেকে প্রতিদিন টন টন মাংস সরবরাহ হত বিভিন্ন এলাকায়। ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে চাইছে ঠিক কোন কোন এলাকার রেস্তরাঁয় এই মাংস সরবরাহ হত। নাম উঠেছে নামী কিছু হোটেলেরও। কলকাতা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এবার জেলা পুলিশ হানা দিয়ে চাইছে ওই সব এলাকাতে। জারি আছে পুলিশি তদন্ত।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.