ভোপালের রাজপরিবারের নবাব মনসুর আলি খান পতৌদির সঙ্গে বিয়ের সময়ে নাম পরিবর্তন করে আয়েশা বেগম হয়েছিলেন শর্মিলা ঠাকুর। উচ্চবর্ণের বাঙালি পরিবারের মেয়ে হয়ে ইসলাম ধর্মাবলম্বী পতৌদি পরিবারে বিয়ে করায়, সেসময় কম কটাক্ষের শিকার হতে হয়নি অভিনেত্রীকে। এমনকী ঠাকুর বাড়ির মেয়ের নাম পরিবর্তন নিয়েও বিতর্কের ঝড় বয়ে গিয়েছিল। সেই ঘটনার সাড়ে ছয় দশক পেরলেও আজও ‘আয়েশা বেগম’ নাম নিয়ে খোঁটা শুনতে হয় প্রবীণ অভিনেত্রীকে! এবার সেপ্রসঙ্গ টেনেই ‘বন্দে মাতরম’ মন্তব্যে শর্মিলা ঠাকুরকে খোঁচা ‘শক্তিমান’ মুকেশ খান্নার।
“আপনি তো বাংলায় বেড়ে উঠেছেন, ওখানে এত বড় করে কালীপুজো হয়। বাঙালি সংস্কৃতি ও বাংলা সিনেমার পরিবেশেই…”
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে কংগ্রেস বনাম বিজেপির তরজা চর্চার শিরোনামে উঠে এসেছিল। গেরুয়া শিবিরের দাবি, প্রথম দুটি স্তবকের বদলে সম্পূর্ণ গান গাইতে হবে। আর বিজেপির এহেন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে একেশ্বরবাদী ধর্মমতে সায় দেন প্রবীণ অভিনেত্রী। তিনি বলেছিলেন, “আমার মনে হয়, এমন অনেক ধর্মবিশ্বাসী মানুষ আছেন এদেশে, যাঁরা বহু দেবদেবীতে বিশ্বাস করেন না। তাঁরা এক ও অদ্বিতীয় ঈশ্বরে বিশ্বাসী। ‘বন্দে কালী’, ‘বন্দে দুর্গা’— এমন পংক্তিগুলির জন্য কিছু কিছু ধর্মের মানুষের কাছে এই গান গ্রহণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে।” সেকারণেই শর্মিলা মনে করেন, এই গানের প্রথম দু’টি স্তবক যেগুলিতে মূলত মাতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে, সেটুকুই বৃহত্তর পরিসরে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। আর এহেন মন্তব্যেই বিতর্ক উসকে গিয়েছিল। বিজেপির বিরোধিতা করায় প্রবীণ শর্মিলাকে ‘হিন্দু-মুসলিম মানসিকতার ঊর্ধ্বে ওঠা’র পাঠ দিয়েছিলেন কঙ্গনা রানাউত। এমনকী নাতিদের নাম তৈমুর-জেহ রাখা নিয়ে খোঁচা দিয়েছিলেন শমীক ভট্টাচার্যও। এবার সংশ্লিষ্ট বিতর্কযজ্ঞে ঘৃতাহূতি করল মুকেশ খান্নার মন্তব্য।

শর্মিলার উদ্দেশে ‘শক্তিমান’-এর প্রশ্ন, “বিয়ের পরেই কি আপনার মনে হল যে, ইসলামেরও অস্তিত্ব আছে? নাকি বেগম হওয়ার পর বুঝলেন যে, মুসলিমরা আলাদা ধর্মযাপন করে? বিয়ের জন্য আপনি আয়েশা বেগম হয়েছিলেন, আর আজও আপনি আয়েশা বেগম হিসেবেই কথা বলছেন। আমি অবাক হচ্ছি যে, সারাজীবন হিন্দু ধর্মের আবহে কাটানোর পর হঠাৎ করে আপনি কীভাবে অন্য ধর্মের জন্য এত চিন্তিত হয়ে পড়লেন?” এখানে অবশ্য থামেননি মুকেশ খান্না। শর্মিলার বঙ্গযোগ, বাঙালি শিকড়ের প্রসঙ্গ টেনে অভিনেতার খোঁচা, “আপনি তো বাংলায় বেড়ে উঠেছেন, ওখানে এত বড় করে কালীপুজো হয়। বাঙালি সংস্কৃতি ও বাংলা সিনেমার পরিবেশেই আপনি বড় হয়েছেন। তাহলে এখন কেন আপনার মনে হচ্ছে যে, অন্য ধর্মের মানুষ হয়তো বিষয়টিকে মেনে নেবে না?” ‘শক্তিমান’-এর এহেন চাঁচাছোলা ‘ফোড়ন’ই আপাতত নেটভুবনে চর্চার শিরোনামে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
অরুণাচলে ফুলেফেঁপে উঠছে বহু পাহাড়ি হ্রদ! বলছে গবেষণা, হতে পারে নেপালের মতো বিপর্যয়?
-
ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস খালি করতে ‘চাপ’ দমকলের, মাঝরাতেই বিদেশ পাড়ি অভিষেকের
-
‘বাঁচান, আমাকে ওরা মেরেই ফেলবে’, কুয়েতে পরিচারিকার কাজ করতে যাওয়া তামিল মহিলার ভিডিও ভাইরাল!
-
‘বিগ বস’-এ ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি? অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতাল থেকে জানিয়েই দিলেন শন
-
ইস্টবেঙ্গল গ্যালারির টিকিট কেটে মিলল মোহনবাগানের! ডার্বি বিভ্রান্তির সমাধান জানাল আইএফএ