West Midnapore

বিধবা ভাতা পাচ্ছেন পুরুষ চিকিৎসক! মাসের পর মাস ঢুকছে টাকা, অভিযুক্ত বললেন…

অমলেন্দু বিকাশের দাবি, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিধবা ভাতার টাকা জমা হওয়ার বিষয়টি তিনি জানতেন। তবে কীভাবে এবং কবে থেকে সেই টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে আসছিল সেটি তাঁর কাছে স্পষ্ট নয়।

অংশুপ্রতীম পাল
অংশুপ্রতীম পাল

শেষ আপডেট: জুন ২, ২০২৬, ১৮:১৮

options
link
বিধবা ভাতা পাচ্ছেন পুরুষ চিকিৎসক! মাসের পর মাস ঢুকছে টাকা, অভিযুক্ত বললেন…
ফাইল ছবি।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়া নিয়ে ইতিমধ্যে একাধিক কেলেঙ্কারি সামনে এসেছে। দুর্নীতির তদন্তে সিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার বিধবা ভাতার টাকা নিয়েও দুর্নীতি! মাসের পর মাস এক চিকিৎসকের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে বিধবা ভাতার টাকা। আর তা সামনে আসতেই অভিযুক্ত ওই চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কীভাবে সরকারি ওই টাকা একজন ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ঢুকল তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। যদিও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে বিধবা ভাতা টাকা যে তাঁর অ্যাকাউন্টে পড়েছে তা স্বীকার করে নিয়েছেন অভিযুক্ত। তবে কীভাবে ওই টাকা অ্যাকাউন্টে আসছিল তা স্পষ্ট নয় বলেই দাবি। 

Advertisement

ধৃত ওই ব্যক্তির নাম অমলেন্দু বিকাশ মণ্ডল। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলা ব্লকের ক্ষীরাই গ্ৰাম পঞ্চায়েতের যশোরাজপুর এলাকার বাসিন্দা তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সূত্রপাত শনিবার। জানা যায়, ক্ষীরাই গ্রাম পঞ্চায়েতের যশোরাজপুরের এক বিধবা মহিলার প্রাপ্য সরকারি ভাতার টাকা দীর্ঘদিন ধরে অন্য একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছিল। এই বিষয়ে তদন্ত করতেই দেখা যায়, অ্যাকাউন্টটি চিকিৎসক অমলেন্দু বিকাশ মণ্ডলের। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগেই বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে। এরপর গ্রাম পঞ্চায়েতকে জানানো হলেও সমস্যার সমাধানে কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

Advertisement

অমলেন্দুবাবুর স্ত্রী জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত থাকলেও ঠিক কবে থেকে টাকা জমা হচ্ছিল, সেই বিষয়ে তাঁর স্বামীই বিস্তারিত বলতে পারবেন। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না বলেও জানান। একই দাবি ধৃত অমলেন্দু বিকাশেরও। তাঁর দাবি, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিধবা ভাতার টাকা জমা হওয়ার বিষয়টি তিনি জানতেন। তবে কীভাবে এবং কবে থেকে সেই টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে আসছিল সেটি তাঁর কাছে স্পষ্ট নয়। আর এখানেই এলাকাবাসীদের প্রশ্ন, সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীর টাকা কীভাবে অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গেল? এটি কি প্রশাসনিক গাফিলতি, নাকি তথ্য সংক্রান্ত জালিয়াতি, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে এলাকায়।

Advertisement

অন্যদিকে ক্ষীরাই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পিয়ালি ধল সিংহ জানিয়েছেন, “এই বিষয়ে আমাদের কাছে কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে বিষয়টি নজরে এসেছে। অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পুলিশের গ্রেফতারির পর ঘটনাটি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। প্রশাসনিক ত্রুটি, তথ্য জালিয়াতি নাকি পরিকল্পিত দুর্নীতি—তার উত্তর খুঁজতেই শুরু হয়েছে বিস্তারিত তদন্ত।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.