Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ১১ আগস্ট ২০২৬
Mohan Bhagwat

জেন জি’র মন বুঝেছেন ভাগবত, ‘গণতান্ত্রিক অধিকারে’র স্বীকৃতি দিয়েই পাশে থাকতে চান আরএসএস প্রধান

যন্তর মন্তরের পর রাঁচি, জেন জি আন্দোলন দেশে ক্রমশ জনপ্রিয়তা লাভ করছে। ইন্টারনেটের সঙ্গে বেড়ে ওঠা এই প্রজন্ম যে, দেশের প্রথাগত রাজনৈতিক ব্যবস্থার উপর কোনও আস্থা রাখতে পারছে না, তা নানাভাবে প্রকাশ পেয়েই চলেছে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১১, ২০২৬, ১৪:৪৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১১, ২০২৬, ১৪:৪৫

options
link
জেন জি’র মন বুঝেছেন ভাগবত, ‘গণতান্ত্রিক অধিকারে’র স্বীকৃতি দিয়েই পাশে থাকতে চান আরএসএস প্রধান zoom
আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বক্তব্য রাখছেন জেন জি'র উদ্দেশে। ছবি সৌজন্য: আইআইএমইউএন
Advertisement

জেন জি’র আন্দোলন ঘিরে যখন শাসক দলের অস্বস্তি বাড়ছে, তখন তরুণদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। প্রতিবাদকে ‘গণতান্ত্রিক অধিকার’ বলে স্বীকৃতি দিয়ে তিনি তরুণদের ক্ষোভ ও সংস্কারের দাবিকে ‘যৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। লিখছেন, সুতীর্থ চক্রবর্তী

যন্তর মন্তরের পর রাঁচি, জেন জি আন্দোলন দেশে ক্রমশ জনপ্রিয়তা লাভ করছে। ইন্টারনেটের সঙ্গে বেড়ে ওঠা এই প্রজন্ম যে, দেশের প্রথাগত রাজনৈতিক ব‌্যবস্থার উপর কোনও আস্থা রাখতে পারছে না, তা নানাভাবে প্রকাশ পেয়েই চলেছে। জেন জি আন্দোলন দেশ জুড়ে একটি রাজনৈতিক অবয়ব পাওয়ার পথে হাঁটছে। প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলি নির্দিষ্ট কিছু আদর্শের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। তাদের একটি দীর্ঘস্থায়ী চেহারা থাকে। একটি রাজনৈতিক দল তার লম্বা সময়ের কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যায়। জেন জি প্রজন্মের রাজনীতি তাৎক্ষণিক দাবিদাওয়ার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। দাবি অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলন বুদ্বুদের মতো মিলিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আবার ফের নতুন কোনও দাবিকে সামনে রেখে দানা বাঁধছে। পরপর আন্দোলন যেন একটি স্থায়ী রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নেওয়ার দিকে এগিয়ে চলেছে। যা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোর সামনে যে কোনও সময়ে এক বড় চ‌্যালেঞ্জ হিসাবে প্রতিভাত হতে পারে।

Advertisement

যন্তর মন্তরে যারা ‘ঐতিহাসিক’ আন্দোলন করল, সেই ককরোচ জনতা পার্টি তথা সিজেপি-র নেতারা কয়েক দিন আগে মহারাষ্ট্রের শম্ভাজিনগরে বৈঠক করলেন। সেখানে তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এখনই কোনও রাজনৈতিক দল গঠনের দিকে তাঁরা না গেলেও ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন‌্য সিজেপির একটি ১১ সদস্যের স্থায়ী কর্মসমিতি গঠিত হয়েছে। এই কর্মসমিতিতে জেন জি’র কতজন প্রতিনিধি রয়েছে, জানা নেই। তবে ভবিষ‌্যতেও যে সিজেপি-র আন্দোলন জেন জিদের অংশগ্রহণেই সজীব থাকবে– তা নিয়ে সংশয় নেই। রাঁচির যে ছাত্র আন্দোলন দেশে শোরগোল ফেলতে শুরু করেছে, তা যন্তর মন্তরের সিজেপির আন্দোলনেরই একটি সম্প্রসারিত রূপ। এই আন্দোলনের পরবর্তী পর্ব দেশের কোন প্রান্তে হবে, তা কেউ এখনই বলতে পারবে না। যে কোনও দিন দেশের যে কোনও ছোট শহর বা গ্রাম থেকে একটা স্ফুলিঙ্গের জন্ম হতে পারে।

সংঘচালক মোহন ভাগবতের জেন জি এবং জেন আলফা’র সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিতে “ইন্ডিয়া’জ ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট টু ইউনাইট নেশন্‌স”-এর আমন্ত্রণ গ্রহণ করা এই সময়ে দেশের রাজনীতির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। তিনি জেন আলফা, মানে স্কুলপড়ুয়াদের কাছেও পৌঁছনোর চেষ্টা করেছেন। এই ঘটনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, ভাগবত দূর থেকে যন্তর মন্তরের উপর নজর রাখছিলেন। 

জেন জি’র এভাবে সহসা ভারতের রাজনীতির মানচিত্রে ঢুকে পড়া যে প্রবল উদ্বেগে ফেলে দিয়েছে, দেশের শাসক দল বিজেপি ও তাদের অভিভাবক রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকে, তা বলাই বাহুল‌্য। সরসংঘচালক মোহন ভাগবতের জেন জি এবং জেন আলফা’র সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিতে “ইন্ডিয়া’জ ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট টু ইউনাইট নেশনস”-এর আমন্ত্রণ গ্রহণ করা এই সময়ে দেশের রাজনীতির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। শুধু জেন জিতেই সরসংঘপ্রধান থামেননি। আরও নিচে নেমে গিয়ে তিনি জেন আলফা, মানে স্কুলপড়ুয়াদের কাছেও পৌঁছনোর চেষ্টা করেছেন। এই ঘটনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, ভাগবত দূর থেকে যন্তর মন্তরের উপর নজর রাখছিলেন এবং মোদি সরকারের প্রতি যুব সমাজের ক্ষোভ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

এই সভায় গিয়ে ভাগবত জেন জি আন্দোলনকারীদের দেশবিরোধী বলার কঠোর সমালোচনা করেছেন। পুরো দেশকে চমকে দিয়ে তিনি বলেছেন, জেন জি’র উপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে। গণতন্ত্রে প্রতিবাদ করার অধিকার সবার আছে, এটা দেশবিরোধী নয়।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘প্রতিবাদ ও আন্দোলন হল– যে কোনও ইস্যুতে সর্বসম্মতি গড়ে তোলার এক অপরিহার্য অংশ। এটি সেই প্রক্রিয়ারই অন্তর্গত।’ তরুণদের ক্ষোভ এবং সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে তিনি ‘যৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেছেন। শিক্ষায় জিডিপির ৬ শতাংশ ব্যয় করার মতো বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলির চিরকালীন দাবিকে তিনি সমর্থন জানিয়েছেন। দুই প্রজন্মের মধ্যে বিবাদ ঘটলে যে তিনি যে সবসময় জেন জি’কেই বিশ্বাস করতে পছন্দ করবেন, সে কথাও দ্ব‌্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন। সংঘপ্রধান ওই সভায় কিশোর ও তরুণ পড়ুয়াদের সামনে ঘোষণা করেছেন, ছাত্র আন্দোলন সবসময় বৈধ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি সঠিক পন্থা। তাঁর মন্তব‌্য, ‘তরুণরা আলোচনার মাধ্যমে ভাল সাড়া দেয়, আদেশের মাধ্যমে নয়।’ তরুণ সমাজের কাছ থেকে যে ‘প্রশ্নহীন আনুগত্য’ আশা করা উচিত নয়, তাও স্বীকার করেছেন সংঘপ্রধান।

ভাগবত বলেছেন, জেন জি’র উপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে। গণতন্ত্রে প্রতিবাদ করার অধিকার সবার আছে, এটা দেশবিরোধী নয়।’

সভায় ভাগবতের কাছে ‘জেন জি’-র তরফে প্রশ্ন ছিল, আগামী দিনের নেতার মধ্যে কী গুণ থাকা দরকার। ইঙ্গিতপূর্ণভাবে সংঘপ্রধান বলেছেন, ‘নেতা বলতেই আমাদের চোখের সামনে একটা ছবি ভেসে ওঠে। তাতে দেখা যায় যে, নেতা ভাষণ দিচ্ছেন, ভোটে জিতছেন এবং জিতেই জনগণকে নানা উপদেশ দিচ্ছেন। কিন্তু আগামী দিনে এই নেতাদের দিয়ে হবে না। নেতা তিনিই হবেন যিনি পিছন থেকে কাজ করে নতুন নেতৃত্বকে সামনে নিয়ে আসবেন। একক নেতাদের দিয়ে আর দেশ চলবে না।’ সংঘপ্রধান এই মন্তব‌্য কাকে ইঙ্গিত করে করেছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ও সংবাদমাধ‌্যমে যাথারীতি চর্চা শুরু হয়েছে।

গত এক যুগে নরেন্দ্র মোদির শাসনের সময় বারবার দেখা গিয়েছে যখনই দেশ ও সরকার কোনও বিতর্কে জড়িয়েছে, কোনও সংকটে পড়েছে, তখনই একটি উদার ভাবমূর্তি নিয়ে সামনে এগিয়ে এসেছেন সরসংঘচালক মোহন ভাগবত। আরএসএসের গোঁড়া সমর্থকদের রক্ষণশীল ভাবনার ঠিক বিপরীতে হেঁটে গিয়ে তিনি এমন নিদান দিয়েছেন– যা উদারপন্থীদেরও বিস্মিত করেছে। মোদি সরকারের দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে ভাগবতের এই ভূমিকা যে কার্যকর হয়েছে, তাতে সন্দেহ নেই। জেন জি প্রজন্মের সঙ্গে ভাগবতের বৈঠকের পর পুরো দেশে যন্তর মন্তরের আন্দোলন নিয়ে সুর পরিবর্তন হয়েছে কট্টরপন্থী আরএসএস ও বিজেপি সমর্থকদের। তাদের মুখ থেকে ‘নৈরাজ্য’, ‘আবর্জনা’ ইত্যাদি শব্দগুলি শোনা যাচ্ছে না। এবার দেখার ভাগবতের টোটকা ‘জেন জি’ মোকাবিলায় কতটা কার্যকর হয়। বিজেপি নেতৃত্ব জেন জি’র দাবি ও চাহিদামতো নিজেদের দ্রুত বদলে নিয়ে নতুন রাজনৈতিক পরিসর তৈরি হওয়ার এই চ্যালেঞ্জকে ঠেকাতে পারেন কি না, সেটাও দেখার।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.