রাজ্যের নাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এ-কারণে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের নাম বদলে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক কারণেই রাজ্যের নাম ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’ তথা ‘পশ্চিমবঙ্গ’ (West Bengal) রেখে দেওয়ার পক্ষে বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর অবস্থান খুব স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন। ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’ বা ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামটির সঙ্গে যে দেশভাগ ও বাংলাভাগের ইতিহাস জুড়ে রয়েছে তা কোনওমতে মুছে দিতে আগ্রহী নন তাঁরা।
রাজ্যের নাম ইংরেজিতে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’ হওয়ায় সর্বভারতীয় সভাগুলিতে বলার জন্য সবার শেষে ডাক পড়ে।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীকে সামনে রেখে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ গঠনের ইতিহাস নিয়ে সম্প্রতি রাজ্যের অ্যাকাডেমিক মহলে বিস্তর চর্চা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজ্যে এসে প্রত্যেককে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় না থাকলে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যটাই পাওয়া যেত না। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক মন্তব্যটির উল্লেখ করেছেন তিনি, যেখানে ‘ভারত কেশরী’ বলেছিলেন: ‘কংগ্রেস ভারত ভাগ করেছে, আমি পাকিস্তানকে ভাগ করেছি।’
আরও পড়ুন:
‘হিন্দু’ বাঙালিদের জন্য বাংলাভাগের দাবি প্রথম যে শ্যামাপ্রসাদ উত্থাপন করেছিলেন সে-কথা বিজেপি ও সংঘ পরিবার সবসময় স্মরণ করিয়ে দেয়। ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামটির মধ্যে যে দেশ ও বাংলাভাগের স্মৃতি ও শ্যামাপ্রসাদের অবদান লুকিয়ে রয়েছে তাও বিজেপি মনে করাতে চায়। সে-কারণেই রাজ্যের নাম থেকে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ বাদ দেওয়ার ঘোরতর বিরোধী বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যের নাম ইংরেজিতে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’ হওয়ায় সর্বভারতীয় সভাগুলিতে বলার জন্য সবার শেষে ডাক পড়ে। এই যুক্তিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর আমলে রাজ্যের ইংরেজি নাম-বদলের প্রস্তাব নেওয়া হয়েছিল।
কেন্দ্র মনে করে ‘বাংলা’ নামটির সঙ্গে ‘বাংলাদেশ’ নামটির ঘনিষ্ঠ সাদৃশ্য রয়েছে।
বাংলা ও ইংরেজিতে নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ’ রাখার প্রস্তাব বিধানসভায় গৃহীত হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার সেই প্রস্তাবে সম্মত হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার সঙ্গে-সঙ্গে রাজ্যের নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ’ রেখে বামফ্রন্ট আমলের প্রস্তাবটি পুনরায় রাজ্য বিধানসভায় পাস করান। তবে সেটি ফের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক খারিজ করে। এরপর ২০১৬ সালে তৃণমূল সরকার রাজ্যের নাম বাংলায় ‘বাংলা’, হিন্দিতে ‘বংগাল’ এবং ইংরেজিতে ‘বেঙ্গল’ রেখে বিধানসভায় প্রস্তাব গ্রহণ করে। রাজ্যের নাম ৩টি ভাষায় রাখা সম্ভব নয় জানিয়ে সেই প্রস্তাবও কেন্দ্র খারিজ করে। পরে ২০১৮ সালে রাজ্য সরকার রাজ্যের নাম ‘বাংলা’ রেখে প্রস্তাব গ্রহণ করে।
কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রস্তাবের সঙ্গে সহমত হতে পারেনি। প্রথমত, রাজনৈতিক বিরোধিতা। দ্বিতীয়ত, কেন্দ্র মনে করে ‘বাংলা’ নামটির সঙ্গে ‘বাংলাদেশ’ নামটির ঘনিষ্ঠ সাদৃশ্য রয়েছে। পূর্বতন বাম ও তৃণমূল সরকারের অভিমত ছিল: ‘বাংলাদেশ’ স্বাধীন দেশ হিসাবে গঠিত হওয়ার পর যেহেতু পূর্ব পাকিস্তানের অবলুপ্তি ঘটেছে, তাই বাংলার আগে ‘পশ্চিম’ শব্দটির আর প্রাসঙ্গিকতা নেই। এর অবশ্য তীব্র বিরোধিতা করেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। ইতিহাস ভোলানোর অভিযোগ করেছেন তিনি।
সর্বশেষ খবর
-
‘শুধরে যাও, নাহলে…’, নাম না করে রাষ্ট্রসংঘে ফের ‘সন্ত্রাসী’ পাকিস্তানকে তুলোধোনা জয়শংকরের
-
পুরভোটের আগে ফের সাংগঠনিক রদবদল বঙ্গ বিজেপিতে, বড় দায়িত্বে সজল
-
ভিনিসিয়াস-নুনেজদের স্বাগত জানাতে সেজে উঠছে যুবভারতী
-
রাষ্ট্রসংঘে মহানাটক! ইরানের দূতকে রহস্যময় উপহার দিতে গেলেন ইজরায়েলের প্রতিনিধি, তারপর…
-
২৪ দিনে ৫৫ নবজাতকের মৃত্যু! বিতর্কে কী বলছে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল?