Humayun Kabir

‘ফাউল কথা বলেছিলাম’, মেনে নিলেন হুমায়ুন, শক্তিপুর থানায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ

রবিবার দ্বিতীয়বার শক্তিপুর থানায় হাজিরা দিলেন হুমায়ুন কবীর।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২০, ২০২৬, ১০:৫৮

options
link
‘ফাউল কথা বলেছিলাম’, মেনে নিলেন হুমায়ুন, শক্তিপুর থানায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ
দ্বিতীয়বার শক্তিপুর থানায় হাজিরা হুমায়ুন কবীরের।

‘স্যাটাভাঙা’ মন্তব্যে হুমায়ুন কবীরের চড়কিপাক চলছেই। কখনও এ থানা, তো কখনও ও থানা। ‘সবক’ শেখাতে রেজিনগর ও শক্তিপুর থানা কার্যত নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাচ্ছে হুমায়নকে। রবিবার শক্তিপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য দ্বিতীয়বার শক্তিপুর থানায় হাজিরা দেন হুমায়ুন কবীর। প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে থানা থেকে হুমায়ুন কার্যত স্বীকার করেন নেন যে, তিনি ‘ফাউল’ কথা বলেছিলেন।

Advertisement

আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক বলেন, “৮ মে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির কর্মিসভায় শক্তিপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে ফাউল কথাবার্তা বলেছিলাম। তা নিয়েই ৪ জন অফিসার আমাকে ভদ্রভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আমি যথাযথ উত্তর দিয়েছি।” হুমায়ুনের সাফ কথা, “পাস্ট ইজ পাস্ট, কখন কী বলেছিলাম, সেটা বড় কথা নয়।”

এদিন থানা থেকে বেরিয়ে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক বলেন, “৮ মে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির কর্মিসভায় শক্তিপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে ফাউল কথাবার্তা বলেছিলাম। আমার বিরুদ্ধে ১৭৬ কেসের একাধিক সেকশনে মামলা হয়। তা নিয়েই ৪ জন অফিসার আমাকে ভদ্রভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আমি যথাযথ উত্তর দিয়েছি।” এরপরই বিতর্কিত মন্তব্য মনে করিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতেই, হুমায়ুনের সাফ কথা, ” পাস্ট ইজ পাস্ট, কখন কী বলেছিলাম, সেটা বড় কথা নয়।”

Advertisement

প্রসঙ্গত, এর আগে ৩ জুলাই শক্তিপুর থানায় তলব করে নোটিশ দেওয়া হয়, সেই হাজরা এড়িয়ে ছিলেন হুমায়ুন। ঠিক এরপরের দিনই দীর্ঘ চারঘণ্টা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রেজিনগর থানার পুলিশ। সেদিন থানায় ঢোকার মুখে হুমায়ুন বলেন, “আমি গ্রেপ্তার হলে আরও ১০০-১২০ জন স্বেচ্ছায় গ্রেপ্তার হবেন, তালিকা প্রস্তুত রয়েছে।” হুমায়ুনের গ্রেপ্তারি নিয়ে আশঙ্কার মাঝেই তদন্তকারীরা জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে সন্তুষ্ট নন তাঁরা। ১৪ ই জুলাই ফের তাঁকে ডেকে পাঠায় রেজিনগর থানা। সেদিনও ফের চারঘণ্টার বেশি সময় পুলিশি জেরার মুখোমুখি হতে হয় হুমায়ুন কবীরকে। থানা থেকে বেরিয়ে পুলিশকে ‘দলদাস’ বলে আক্রমণও শানিয়েছিলেন এজেইউপি বিধায়ক। ঠিক সেই দিনই তাঁর কাছে দ্বিতীয় নোটিস যায় শক্তিপুর থানা থেকে। সেই নোটিসের জবাব দিতেই এদিন থানায় পৌঁছে যান আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। একের পর এক হুমকি-হুঁশিয়ারি দিয়েও মাথা নিচু করে থানায় যেতে হচ্ছে বিতর্কে ‘একাই একশো’ নেতাকে।

Advertisement

গত ২৬ জুন রেজিনগরে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির একটি সভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য রেখেছিলেন হুমায়ুন। এই ঘটনায় বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তাঁকে ‘সবক’ শেখানোর হুঁশিয়ারি দেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই এজেইউপি নেতার বিরুদ্ধে রেজিনগর ও শক্তিপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। এই ঘটনায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় থানায় ঘুরতে হচ্ছে তাঁকে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারির পর বিতর্কিত মন্তব্য-মামলায় আগেই আমজনতা উন্নয়ন পার্টির ৩ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা রেজিনগরের ওই সভার আয়োজক ছিলেন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.