বাগদাদি

আইএস প্রধান বাগদাদির মৃত্যুতে হাসি ফুটল নদিয়ায়

সিরিয়ায় মার্কিন হানায় খতম হয়েছে বাগদাদি।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ২৯, ২০১৯, ০৮:৪৩

options
link
আইএস প্রধান বাগদাদির মৃত্যুতে হাসি ফুটল নদিয়ায়

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সিরিয়া থেকে ভারতের দূরত্ব কত হবে? গুগল বলছে, সাড়ে চার হাজার কিলোমিটারের মতো। মুঠোফোনের যুগে সে দূরত্ব এখন মুছে যায় নিমেষে। সেটাই বোঝা গেল সোমবার। যখন নদিয়া জেলার তেহট্ট এবং চাপড়ায় সুনামির মতো আছড়ে পড়ল বাগদাদির হত্যার খবর। হাসি ফুটল নমিতা শিকদার এবং দীপালি টিকাদারের মুখে। অপেক্ষার অবসান। স্বামীর হত্যাকারী মরেছে। টিভিতে সেই খবরই বারবার দেখাচ্ছে।

Advertisement

ক্ষতটা পুরনো। আইএস প্রধান আবু বকর আল বাগদাদিকে ক্ষমা করতে পারবেন না এ রাজ্যের ওই দুই মহিলা। সালটা ২০১১। খোকন শিকদার ও সমর টিকাদার পাড়ি দেন ইরাকে। দু’টো টাকা বেশি উপায়ের স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি। খোকন পেশায় রাজমিস্ত্রি। সমর ইলেক্ট্রিশিয়ান। ইরাকে দু’জনে থাকতেনও একসঙ্গে। ওদেশে কাজ করে সংসারের শ্রী ফিরেছিল দুই পরিবারেই। ধীরে ধীরে সেখান থেকে পাঠানো টাকায় শোধ হল মহাজনের দেনা। পরে ২০১৩ সালের নভেম্বরে বাড়ি ফিরলেন সমর। খোকন ফোনে জানিয়েছিলেন, ফিরবেন পরের বছর। দুই ছেলেমেয়েকে রেখে সমর আবার ফিরে গেলেন ইরাকে। সমর, খোকনকে দেখে গ্রামের অন্য ছেলেরাও স্বপ্ন দেখছিল ইরাক যাওয়ার। কিন্তু তাঁদেরও স্বপ্নভঙ্গ।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

‘লোকটা বেঁচে আছে তো?’— এই প্রশ্নের উত্তর পেতে নেতা-মন্ত্রীদের দোরে হন্যে হয়ে ঘুরেছেন নমিতা ও দীপালি। চার বছর ধরে নমিতা আর দীপালির যে আশাটা মরতে মরতেও মরেনি, ২০১৮ সালের মার্চে তাতে ইতি পড়ে। রাজ্যসভায় বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ জানালেন, ইরাকে অপহৃত ৩৯ ভারতীয় আর বেঁচে নেই। তাঁদের মধ্যে ছিলেন নমিতা ও দীপালির স্বামী খোকন শিকদার ও সমর টিকাদারও। চোখের জল বাঁধ মানেনি। শাখা-পলা খুলতে গিয়ে চিনতে পেরেছিলেন এক নতুন মানুষকে। আবু বকর আল বাগদাদি। ২০১৯-এ সেই বাগদাদিকেই কুকুরের মতো মেরেছে আমেরিকা। স্বাভাবিক নিয়মেই খুশি নমিতা, দীপালি। বাগদাদির মৃত্যুর খবরে নমিতা বলেন, ‘টিভিতে দেখলাম বাগদাদি মরেছে। আমি স্বামীকে হারিয়েছি ওর জন্য। ওকে আরও আগে মেরে ফেলা উচিত ছিল। আর কেউ স্বামীহারা হবে না। এটাই ভাল।’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় ২০১৬-তে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে রান্না মাসির চাকরি হয়েছে নমিতা এবং দীপালির। মাস গেলে আয় মাত্র পাঁচ হাজার তিনশো টাকা। দুই সন্তান নিয়ে সে টাকায় সংসার টানতে নাজেহাল নমিতা এবং দীপালি। তাই সংবাদসংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দু’জনের আরজি, ‘মুখ্যমন্ত্রী এবার একটু দেখুন।’

Advertisement

[আরও পড়ুন: শিয়রে শমন দেখে কী করেছিল বাগদাদি? প্রকাশ্যে শিহরন জাগানো তথ্য]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.