Jhargram

হাতির হানায় জঙ্গলমহলে ভাঙল ব্রিজ! নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে প্রশ্নের মুখে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ

অজিত মাহাতোর অভিযোগ, “এই হচ্ছে কেন্দ্রের কাজ। অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। মরচে ধরা রড দিয়ে কাজ করা হয়েছে। তারই ফল এই আন্ডারপাস ব্রিজ ভেঙে পড়া।”

সুনীপা চক্রবর্তী
সুনীপা চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ১৪:২৬

options
link
হাতির হানায় জঙ্গলমহলে ভাঙল ব্রিজ! নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে প্রশ্নের মুখে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ
ভেঙে পড়া নির্মীয়মাণ ব্রিজের একটা অংশ।

জঙ্গলমহলের বুকে জাতীয় সড়ক পেরিয়ে প্রায় প্রতিদিনই দল বেঁধে চলাচল করে হাতিরা। কখনও হঠাৎই থমকে যায় যানবাহন, কখনও আতঙ্ক ছড়ায় চালক-যাত্রীদের মধ্যে। এই সমস্যা মেটাতে হাতিদের জন্য নিরাপদ করিডোর গড়ে তুলতে জাতীয় সড়কের উপর তৈরি হচ্ছিল ‘আন্ডারপাস’ বা ‘ইকো প্যাসেজ’। আর সেই কাজ শেষ হওয়ার আগেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ ব্রিজের একটি অংশ। ঢালাইয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি ভেঙে পড়ে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। প্রশ্ন উঠছে, নির্মাণকাজের সামগ্রী নিয়ে। যদিও কতৃপক্ষের দাবি, হাতি পারাপার হওয়ার সময়েই নাকি এই বিপত্তি।

Advertisement

ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়গ্রামের (Jhargram) গুপ্তমণি এলাকায় ৪৯ নম্বর জাতীয় সড়কে। এই জায়গাতেই হাতির নিরাপদ যাতায়াতের জন্য তৈরি হচ্ছিল আন্ডারপাস ব্রিজ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আন্ডারপাসের নীচ দিয়ে হাতির দল পারাপার করবে এবং উপরের জাতীয় সড়ক দিয়ে চলবে যানবাহন। কিন্তু কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই ভেঙে পড়ায় প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। জানা গিয়েছে, বন দপ্তরের তরফে হাতি-মানুষ সংঘাত কমাতে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের কাছে এই আন্ডারপাস তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে, ঠিকাদার সংস্থার মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। প্রায় একশো মিটার দীর্ঘ এবং সাত মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট এই ইকো প্যাসেজ নির্মাণের কাজ ২০২৫ থেকে চলছে।

Advertisement

৪৯ নম্বর খড়গপুর-চিচিড়া জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের এক আধিকারিক বলেন, বন দপ্তরের পাঠানো রিপোর্টার ভিত্তিতে সমীক্ষা করার পর আন্ডারপাস তৈরির জন্য টাকা বরাদ্দ করা হয়। আপ ও ডাউন রাস্তার দুই লেনেই ৩৫০ মিনিটের আন্ডারপাস তৈরি করা হবে। তার মধ্যে ১০০ মিটার লম্বা, ৭ ফুট উঁচু হাতির যাতায়াতের জন্য ফাঁকা থাকবে। বাকি অংশে আন্ডারপাসের গার্ড ওয়াল থাকবে। এপ্রিল মাস থেকে খড়গপুর থেকে চিচিড়া যাওয়ার লেনে কাজ শুরু হয়ছে। দেড় বছরের মধ্যেই কাজ সম্পন হবে।” কিন্তু ঢালাইয়ের কিছুক্ষণের মধ্যেই কাঠামোর একটি অংশ ধসে পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে নির্মাণের মান নিয়ে।

Advertisement

ঘটনার খবর পেয়ে এদিন ঘটনাস্থলে পৌঁছন গোপীবল্লভপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী অজিত মাহাতো এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূল নেতা দীনেন রায় সহ অন্যান্যরা। অজিত মাহাতোর অভিযোগ, “এই হচ্ছে কেন্দ্রের কাজ। অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। মরচে ধরা রড দিয়ে কাজ করা হয়েছে। তারই ফল এই আন্ডারপাস ব্রিজ ভেঙে পড়া।” অন্যদিকে, জঙ্গলমহল স্বরাজ মোর্চার কেন্দ্রীয় সভাপতি তথা ঝাড়গ্রাম বিধানসভার নির্দল প্রার্থী অশোক মাহাতো জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে ই-মেল মারফত চিঠি পাঠিয়ে গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে নিয়মিত মনিটরিংয়ের দাবিও তুলেছেন তিনি। যদিও জাতীয় সড়ক কতৃপক্ষের একটা অংশের অভিযোগ, হাতির দলের হানাতেই আন্ডার পাসটি ক্ষতি হয়েছে। তবে এই বিষয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের ডেপুটি ম্যানেজারের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। যদিও এই বিষয়ে ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, “ওইদিন রাতে ওখানে কোনও হাতি ছিল না।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.