Jhargram

‘রাজনীতি করে দুর্নামই হয়েছে’, তৃণমূল ছেড়ে ভারতভ্রমণে ‘বীতশ্রদ্ধ’ ঝাড়গ্রামের প্রাক্তন কাউন্সিলর

নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন জেলা তৃণমূল কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে একটি অডিয়ো কথোপকথন প্রকাশ করেছিলেন কল্লোল তপাদার। যা নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক।

সুনীপা চক্রবর্তী
সুনীপা চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: জুলাই ৬, ২০২৬, ১৬:০২

options
link
‘রাজনীতি করে দুর্নামই হয়েছে’, তৃণমূল ছেড়ে ভারতভ্রমণে ‘বীতশ্রদ্ধ’ ঝাড়গ্রামের প্রাক্তন কাউন্সিলর
ভারত ভ্রমণে কল্লোল তপাদার।

বিধানসভা ভোটের আগে তাঁর একটি অডিওকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। সংবাদ শিরোনামে উঠে আসেন ঝাড়গ্রামের (Jhargram) তৃণমূলের প্রাক্তন পুরপ্রতিনিধি ও জেলা সাধারণ সম্পাদক কল্লোল তপাদার। ভোটের ফল প্রকাশের পর দীর্ঘদিন জনসমক্ষে দেখা যায়নি তাঁকে। এবার ৬১ বছরের সেই নেতা রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে এবার পরিবেশ সচেতনতার প্রচারে সাইকেলে ভারতভ্রমণ শুরু করেছেন ওই তৃণমূল নেতা। তাঁর আফসোস, রাজনীতি করে শুধু দুর্নামই হয়েছে। তাই আর নয়।

Advertisement

কল্লোল তপাদারের কথায়, ”রাজনীতি থেকে দূরে সরে যেতে চাই। রাজনীতি করে শুধু দুর্নামই হয়েছে। এখন মানুষের পাশে থাকতে চাই। হাসপাতালের পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত আছি। ঝাড়গ্রামের মুখ উজ্জ্বল করাই এখন লক্ষ্য।”

মুর্শিদাবাদের লালগোলা থেকে কল্লোল তপাদারের যাত্রা শুরু হয়েছে। ‘গাছ লাগাও, জীবন বাঁচাও’ এবং ‘প্লাস্টিক বর্জন করুন’— এই বার্তা নিয়েই সাইকেলে দেশের বিভিন্ন রাজ্য ঘুরবেন তিনি। মণিপুর, মিজোরাম, অসম, ত্রিপুরা-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। ইতিমধ্যে প্রায় ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ সদ্য তৃণমূলত্যাগী ওই নেতা ঘুরে ফেলেছেন বলে খবর। শুধু তাই নয়, এই সফরের জন্য প্রায় ১৭ হাজার টাকা খরচ করে একটি সাইকেল কল্লোলবাবু কিনেছেন বলে খবর।

Advertisement

কল্লোল তপাদারের কথায়, ”রাজনীতি থেকে দূরে সরে যেতে চাই। রাজনীতি করে শুধু দুর্নামই হয়েছে। এখন মানুষের পাশে থাকতে চাই। হাসপাতালের পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত আছি। ঝাড়গ্রামের মুখ উজ্জ্বল করাই এখন লক্ষ্য।” তবে নির্বাচনের পরেই তাঁকে ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক। শোনা যায়, রাজ্যে পালাবদল হতেই কল্লোলবাবু গা ঢাকা দিয়েছেন। এমনকী এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন বলেও গুঞ্জন তৈরি হয়। যদিও এক্ষেত্রে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের দাবি, ”ভোটের পরে মেয়ের বাড়ি-সহ আত্মীয়দের বাড়িতে গিয়েছিলাম।” এখানে বিতর্কের কিছু নেই। 

Advertisement

বলে রাখা প্রয়োজন, বিধানসভা ভোটের আগে নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন জেলা তৃণমূল কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে একটি অডিয়ো কথোপকথন প্রকাশ করেছিলেন কল্লোল তপাদার। সেই অডিয়োর ভিত্তিতে তিনি তৎকালীন ঝাড়গ্রাম কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মীকান্ত সাউয়ের ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এক মহিলাকে অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগ করেন। যা নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক। তবে এহেন অভিযোগের কোনও প্রভাব পড়েনি ভোটবাক্সে। ফলাফল প্রকাশ হতেই দেখা যায়, লক্ষ্মীকান্ত সাউ বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। এরপর থেকেই কল্লোলকে জনসমক্ষে আর দেখা দেননি। এবার সেই প্রসঙ্গ টেনে কল্লোলের দাবি, “আইপ্যাকের চাপেই ভোটের আগে বিধায়কের বিরুদ্ধে বলতে বাধ্য হয়েছিলাম। আমি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করতে চাইনি।” তাঁর সংযোজন, “এখন আর রাজনীতি করব না। পরিবেশ রক্ষার বার্তা নিয়েই মানুষের কাছে পৌঁছতে চাই।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.