তোলাবাজি করতে গিয়ে পাকড়াও রাজ্য পুলিশের এক কনস্টেবল (Jhargram Constable Arrested)। মঙ্গলবার গভীর রাতে রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা ওই অভিযান চালিয়েছিল। তখনই ওই পুলিশ কর্মীকে ধরা হয়। অভিযুক্তের সঙ্গে আরও তিন বালি কারবারিকেও পাকড়াও করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়গ্রামে। লক্ষ লক্ষ টাকাও উদ্ধার হয়েছে ওই অভিযানে। ধৃত চারজনকেই কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর।
আরও পড়ুন:
রাজ্য সরকার দুর্নীতি, তোলাবাজি বন্ধের কড়া নির্দেশ দিয়েছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্নীতি ইস্যুতে জিরো টলারেন্সের কথা বারবার বলছেন। বিভিন্ন জায়গায় অভিযানও চলছে। তবে খোদ পুলিশ কর্মীই যে এভাবে তোলাবাজি করতে গিয়ে ধরা পড়বে, হতবাক আধিকারিকরাও। গোপন সূত্রে খবর এসেছিল, লরি ও ট্রাক্টর চালকদের থেকে দালাল মারফত টাকা তোলেন ঝাড়গ্রাম থানার এক কনস্টেবল। ধৃতের নাম রতন প্রামাণিক। এরপরই অভিযানে নামে রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা। মঙ্গলবার রাতে রীতিমতো ফাঁদ পাতা হয়েছিল।
তদন্তকারীদের হাতে আসে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। মোবাইলে ‘ঝাড়গ্রাম থানা ম্যানেজার’ নামে একটি নম্বর সেভ করা ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ওই নম্বরটি ঝাড়গ্রাম থানার কনস্টেবল রতন প্রামাণিকের। এরপর রতনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার করে দুর্নীতি দমন শাখা।
গভীর রাতে, অবৈধ বালি কারবারের ‘মান্থলি’ টাকা লেনদেন হচ্ছিল! ওই টাকা সমেত তিনজনকে প্রথমে পাকড়াও করা হয়। ধৃতরা হলেন শান্তনু বারিক, দীপঙ্কর বারিক ও রবি বারিক। তাঁদের বাড়ি বাঁধগোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্যামসুন্দরপুর এলাকায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে কনস্টেবল রতন প্রামাণিকের নাম উঠে আসে। এরপর গভীর রাতে ওই অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীকে পাকড়াও করা হয়। প্রথমে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলে। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে খবর। অভিযানে মোট ৫ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। ঘটনায় আর কোনও পুলিশ কর্মী জড়িত আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বালি গাড়ির ‘মান্থলি’ টাকা রতন প্রামাণিকের হাতে তুলে দিতে ওই তিনজন আসবে। এই খবর দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকদের কাছে পৌঁছয়। এরপরই ফাঁদ পাতে এসিবি। নির্দিষ্ট সময়ে ওই তিনজন টাকা নিয়ে আসার সময় গাড়ি আটকান এসিবি আধিকারিকরা। জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তাঁদের মোবাইল ফোনও পরীক্ষা হয়। তদন্তকারীদের হাতে আসে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। মোবাইলে ‘ঝাড়গ্রাম থানা ম্যানেজার’ নামে একটি নম্বর সেভ করা ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ওই নম্বরটি ঝাড়গ্রাম থানার কনস্টেবল রতন প্রামাণিকের। এরপর রতনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার করে দুর্নীতি দমন শাখা। ধৃত কনস্টেবল ২০১৮ সাল থেকে ঝাড়গ্রাম থানায় দায়িত্বে থাকা আইসিদের দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করছেন। বর্তমানে ঝাড়গ্রাম থানার আইসির নিরাপত্তার দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বাংলায় বিনিয়োগে আগ্রহী আম্বানি, আসতে পারে প্রতিনিধি দল, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর
-
সিএপিএফ মোতায়েন নিয়ে প্রশ্ন ডেরেকের, আলোচনা হবে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে
-
উত্তরপ্রদেশের ধাঁচে বাংলাতেও হোক প্রতিরক্ষা শিল্প করিডর, আর্জি শমীকের
-
সংঘের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক রাজ্য বিজেপির, লক্ষ্মীবারে দিল্লিতে এক টেবিলে শমীক-শুভেন্দু
-
একবারেই কর্মীদের ৭ বছরের বকেয়া ডিএ মেটাবে সরকার, বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের