দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান। এবার ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি পেল নদিয়ার কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহী মাটির পুতুল। এই স্বীকৃতির ফলে কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্প আন্তর্জাতিক স্তরে সুরক্ষা পাবে বলে মনে করছেন শিল্পী ও সংশ্লিষ্ট মহল।
আরও পড়ুন:
নদিয়ার কৃষ্ণনগর শহরের ঘূর্ণি এলাকা বহু দশক ধরে বাস্তবধর্মী মাটির পুতুল তৈরির জন্য দেশ-বিদেশে পরিচিত। সূক্ষ্ম কারুকাজ, জীবন্ত মুখাবয়ব, পোশাকের নিখুঁত উপস্থাপনা এবং বাস্তবসম্মত অভিব্যক্তির জন্য কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুলের আলাদা পরিচিতি গড়ে উঠেছে। প্রতি বছর দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক এই শিল্পকর্ম সংগ্রহ করতে কৃষ্ণনগরে আসেন।
জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পর ঘূর্ণির শিবতলার রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত মৃৎশিল্পী সুবীর পাল জানান, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফল মিলেছে। তাঁর মতে, এই স্বীকৃতি কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পীদের মর্যাদা বৃদ্ধি করবে। বাজারে এই শিল্পের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়াবে। শিল্পীদের দাবি, এতদিন বিভিন্ন এলাকায় তৈরি পুতুল কৃষ্ণনগরের নাম ব্যবহার করে বিক্রি হত। জিআই স্বীকৃতির ফলে কৃষ্ণনগরের আসল মাটির পুতুলের স্বাতন্ত্র্য বজায় থাকবে এবং নকল পণ্যের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা পাওয়া সহজ হবে। এর ফলে শিল্পীদের স্বার্থ রক্ষা পাবে।
শিল্পী মহলের মতে, এই স্বীকৃতি শুধু ঐতিহ্যের স্বীকৃতিই নয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে। আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুলের পরিচিতি ও চাহিদা বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় মৃৎশিল্পীদের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুলের দাম সাধ্যের মধ্যে হওয়ায় দেশি ও বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে এর চাহিদা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। জিআই স্বীকৃতির মাধ্যমে কৃষ্ণনগরের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প আরও সুসংহত পরিচয় লাভ করল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
জোড়াফুল প্রতীক কার হাতে? চলতি সপ্তাহেই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ মমতা-ঋতব্রতর
-
বিশ্বকাপে ফের দেখা যাবে আফগান রূপকথা, দক্ষিণ আফ্রিকার টিকিট পেলেন রশিদ খানরা
-
দার্জিলিংয়ে জোরবাংলো ট্রাফিক পয়েন্টের কাছে ধসে উধাও অর্ধেক রাস্তা! বিপর্যস্ত জনজীবন
-
ডাক্তারিতে ভর্তি করানোর নামে প্রতারণা, ২৫ লক্ষ টাকা হাতাল কাউন্সিলিং সংস্থা!
-
সরকারি হাসপাতালে থ্রেট কালচারের মাথা! চিকিৎসক অভীক দে-র বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন