স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ এবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে চিঠি। এসআইআরের বৈধতা ও পর্যালোচনা না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশের আর্জি জানানো হয়েছে। চিঠিতে সই করেছেন দেশের প্রাক্তন নৌসেনা প্রধান-সহ ২০০০ জন। শুধু তাই নয়, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সুপ্রিম কোর্ট যাতে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে পদক্ষেপ করে চিঠিতে সে আর্জিও জানানো হয়েছে।
প্রধান বিচারপতিকে লেখা এই চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “এসআইআরের বৈধতা ও প্রক্রিয়া পর্যালোচনা না হওয়া পর্যন্ত এটি স্থগিত করা হোক। পাশাপাশি ভোটার নিবন্ধন সফটওয়্যার ও ফর্মে অনুমোদন ছাড়া পরিবর্তনের বিষয়টি আদালতের তত্ত্বাবধানে তদন্ত হোক।” এই চিঠিতে মূলত ৪টি বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। সেগুলি হল, ১. অবিলম্বে এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করতে হবে। ২. ভোটার নিবন্ধন সফটওয়্যার ও ফর্মে বেআইনিভাবে কোনও পরিবর্তন হয়েছে কিনা সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্ত করতে হবে। ৩. প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও অন্যান্য আধিকারিকদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। ৪. সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে ECI-NET নামের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে হবে।
আরও পড়ুন:
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সুপ্রিম কোর্ট যাতে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে পদক্ষেপ করে চিঠিতে সে আর্জিও জানানো হয়েছে।
প্রধান বিচারপতিকে লেখা এই চিঠি যে ২০০০ জন সই করেছেন সেই তালিকায় রয়েছেন শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, প্রাক্তন আমলা ও সেনা আধিকারিকরাও। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, নৌসেনার প্রাক্তন প্রধান অ্যাডমিরাল বিষ্ণু ভাগবত, প্রাক্তন আইএএস অদিতি মেহতা, প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, ঐতিহাসিক আদিত্য মুখোপাধ্যায় এবং অভিনেতা প্রকাশ রাজরা। চিঠিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, ভোটার তালিকার এই বিশেষ সংশোধনের নামে বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ যেতে পারে এবং সফটওয়্যারে পরিবর্তনের ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
কমিশনের অন্দরে কলহ, স্বেচ্ছাচারিতা করছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, এসআইআর-সহ একাধিক ইস্যুতে একতরফা ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা দেশ। এই ডামাডোলের মাঝেই গত শনিবার একফ্রেমে ছবি প্রকাশ করে ঐক্যের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি কমিশনের তরফে বিবৃতি জারি করা হয়। কমিশন জানায়, এসআইআর নিয়ে কমিশনের অভ্যন্তরে কোনও মতপার্থক্য ছিল না। এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখেছে কমিশন। জানানো হয়েছে, বিহার থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ এবং অন্যান্য ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে ২০২৫ সালের ২৪ জুন এসআইআর নির্দেশ জারি হয়েছিল। কমিশনের সর্বসম্মতিতেই সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
লক্ষাধিক টাকার ব্যাট চুরি! ‘মোদি-যোগীর কাছে অভিযোগ করব’, ‘হুমকি’ তারকা ক্রিকেটারের
-
ইরানি নৌকায় ৩০০০ কোটির মাদক পাচার! গুজরাট উপকূলে গ্রেপ্তার ৫ পাকিস্তানি
-
খাম নিয়ে নওশাদদের মামলা খারিজ! ‘ভোট প্রক্রিয়ায় আদালত হস্তক্ষেপ করতে চায় না’, বললেন বিচারপতি
-
সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে জখম দক্ষিণ কোরিয়ার ৩ সেনা! দায় এড়িয়ে পালটা হুঁশিয়ারি কিমের বোনের
-
নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের প্রচারে যাওয়ার আগেই আটক লেখক মানস ফকির, সুকৃতি রঞ্জন! তীব্র প্রতিবাদে বিধান ভবন