Purulia

একদা মাও মুক্তাঞ্চলে তৈরি হবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, পুরুলিয়ায় ১২ হাজার কোটির বিনিয়োগ

রঘুনাথপুরে ৩৬০০ কোটি টাকার অমিত মেটালিক্স লিমিটেড-র ইস্পাত কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হবে। সেই ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করার কথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর।

সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: আগস্ট ৪, ২০২৬, ২১:০৯

options
link
একদা মাও মুক্তাঞ্চলে তৈরি হবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, পুরুলিয়ায় ১২ হাজার কোটির বিনিয়োগ
ছবি এআই দ্বারা নির্মিত।

ঝাড়খন্ড ছুঁয়ে থাকা পুরুলিয়ায় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসছে। মোট পাঁচটি শিল্প সংস্থা জঙ্গলমহল পুরুলিয়ায় শিল্প স্থাপন করবে। ফলে ইস্পাত উৎপাদনের অন্যতম শক্তি কেন্দ্র হতে চলেছে বনমহলের এই জেলা। এই পাঁচটি শিল্প সংস্থার মধ্যে চলতি মাসের ১৭ তারিখ রঘুনাথপুরে ৩৬০০ কোটি টাকার অমিত মেটালিক্স লিমিটেড-র ইস্পাত কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হবে। সেই ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করার কথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো জানিয়েছেন, “ইস্পাত উৎপাদনের অন্যতম শক্তি কেন্দ্র হতে চলেছে পুরুলিয়া। শিল্পের শক্তিতে আত্মনির্ভর পশ্চিমবঙ্গ গড়ে উঠবে।” অমিত মেটালিক্স লিমিটেড ছাড়াও নক্ষিত আয়রন এন্ড স্টিল, একটি সোলার প্ল্যান্ট, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পণ্য তৈরি হওয়া একটি সংস্থা ও গুজরাটের একটি সংস্থার খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প পুরুলিয়াকে ঘিরে তৈরি হবে বলে খবর।

Advertisement

জঙ্গলমহলের বলরামপুর যা আগে মাওবাদীদের মুক্তাঞ্চল ছিল সেখানেই এবার শিল্প স্থাপন করে চমক দিতে চাইছে ডবল ইঞ্জিন সরকার। প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নানান পণ্য ওই শিল্প সংস্থায় তৈরি হবে।

এদিকে মঙ্গলবার এই অমিত মেটালিক্স-র জনশুনানিকে ঘিরে বিক্ষোভ হয়। জমিদাতাদের একাংশ ওই শুনানিতে অংশ নিতে না পেরে তারা বিক্ষোভ দেখান। এই শিল্প সংস্থাকে ১৪৮ একর জমি দিয়েছে রাজ্য। নক্ষিত ইস্পাত শিল্পে ১৪৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে রঘুনাথপুরেই। তবে শুধু রঘুনাথপুর শিল্পতালুকে নয়। বনমহলের এই জেলাকেই শিল্প ক্ষেত্রের চেহারা দিতে চাইছে রাজ্য সরকার। কারণ এই জেলা জুড়ে প্রচুর পতিত জমি পড়ে রয়েছে। এই জেলাকে ঘিরে ৩৮০ কিমি ঝাড়খন্ড সীমানা থাকায় পড়শি রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা মজবুত হবে।

Advertisement
অমিত মেটালিক্স-র জনশুনানিতে অংশ নিতে না পেরে বিক্ষোভ একাংশের।

এছাড়া এই জেলার পাশেই রয়েছে ঝাড়খন্ডের জামশেদপুর, বোকারো ও ধানবাদের মত শিল্প ও খনিজ সম্পদ কেন্দ্রিক জেলা। ৫ হাজারের বেশি কোটি টাকা বিনিয়োগে সোলার প্ল্যান্ট তৈরি হবে মানবাজার মহকুমায়। তবে জমি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

Advertisement

অন্যদিকে জঙ্গলমহল বলরামপুর যা আগে মাওবাদীদের মুক্তাঞ্চল ছিল সেখানেই এবার শিল্প স্থাপন করে চমক দিতে চাইছে ডবল ইঞ্জিন সরকার। প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নানান পণ্য ওই শিল্প সংস্থায় তৈরি হবে। জয়পুর ব্লক এলাকায় গুজরাটের একটি কোম্পানি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে পটেটো চিপস তৈরি করবে। এখানেই শেষ নয়, এই জেলা বিদ্যুৎ উৎপাদনেও দেশের মধ্যে নজির গড়তে চলেছে। ডিভিসি ও সাঁওতালডিহি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র মিলিয়ে ৪৬২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। ফলে সমগ্র দেশের নিরিখে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোন এক জেলা থেকে এমন উদাহরণ নেই। রাজ্য বাজেটে ঘোষিত ৮০০ মেগাওয়াটের আরও দুটি ইউনিট হলে সাঁওতালডিহি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে মোট ২১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। অন্যদিকে সবে মিলিয়ে রঘুনাথপুরের ডিভিসি তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে ২৫২০ মেগাওয়াট।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.