Madhyamgram

সুর কানে গেলেই তৈরি সরগম! ১ মিনিটে ২০ কর্ড চিনে গিনেস রেকর্ড মধ্যমগ্রামের যশমিতার

এই দক্ষতাই মাত্র ১১ বছর বয়সে বিশ্বমঞ্চে পরিচিতি এনে দিয়েছে মধ্যমগ্রামের যশমিতা দত্তকে।

অর্ণব দাস
অর্ণব দাস

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ২১:০৫

options
link
সুর কানে গেলেই তৈরি সরগম! ১ মিনিটে ২০ কর্ড চিনে গিনেস রেকর্ড মধ্যমগ্রামের যশমিতার
গিনেস বুক অফ রেকর্ডের সার্টিফিকেট হাতে মধ্যমগ্রামের যশমিতা দত্ত।

একটি গান বাজছে। চোখ বন্ধ করেই বলে দিতে পারে তার সুরের নোট, সরগম, এমনকী কোন স্কেলে বাজছে গানটি। শুধু তাই নয়, একসঙ্গে বাজতে থাকা একাধিক স্বরের মধ্যেও আলাদা করে চিনে নিতে পারে কর্ড। এই বিরল দক্ষতাই মাত্র ১১ বছর বয়সে বিশ্বমঞ্চে পরিচিতি এনে দিয়েছে মধ্যমগ্রামের (Madhyamgram) যশমিতা দত্তকে। মাত্র ২ মিনিট ২ সেকেন্ডে ৩৯টি মিউজিক্যাল নোট এবং ২০টি কর্ড শনাক্ত করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তুলেছে সে।

Advertisement

সাফল্যের এই স্বীকৃতি অবশ্য একদিনে আসেনি। চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি গিনেসের জন্য নিজের দক্ষতার পরীক্ষা জমা দিয়েছিল যশমিতা। প্রয়োজনীয় যাচাই পর্বের পর জুলাইয়ে মেলে স্বীকৃতি। তার পর থেকেই পরিবারে আনন্দের আবহ। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সহপাঠীরাও খুদে শিল্পীর এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত। মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা একনিষ্ঠ ও কোয়েল দত্তের একমাত্র মেয়ে যশমিতা। বাবা আইটি পেশায় যুক্ত, মা গৃহবধূ। সাড়ে চার বছর বয়সেই সুরের প্রতি টান তৈরি হয় মেয়ের। মায়ের কাছেই শুরু হয় গানের তালিম। পাঁচ বছর বয়স থেকে কিবোর্ড শেখা শুরু। সঙ্গীতশিল্পী প্রয়াত সৌভিক কুন্ডুর কাছে দীর্ঘদিন কিবোর্ডের তালিম নিয়েছে সে। কিবোর্ডের পাশাপাশি হারমোনিয়াম, গিটার, মেলোডিকা ও ক্যাসিও বাজাতেও পারে। তবে কিবোর্ড এবং হারমোনিয়ামই তার সবচেয়ে প্রিয়। গান গাওয়ার পাশাপাশি নোট ও কর্ড শনাক্ত করার চর্চাও ছোট বয়স থেকেই শুরু করেছিল যশমিতা।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

একটি সুরের প্রতিটি একক স্বরকে নোট বলা হয়। আর একসঙ্গে বাজানো একাধিক স্বরের সমাহার হল কর্ড। এই দুইয়ের পার্থক্য কানে শুনেই ধরার জন্য নিয়মিত অনুশীলন করেছে সে। ধীরে ধীরে এমন দক্ষতা তৈরি হয় যে কোনও গান শুনেই তার সরগম এবং স্কেল বলে দিতে পারে। এরই মধ্যে একাধিক রিয়ালিটি শোয়ে অংশ নিয়েছে যশমিতা। অল ইন্ডিয়া রেডিওর শিশু শিল্পী হিসেবেও গান পরিবেশন করেছে। তবে গিনেসের পরীক্ষায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একের পর এক নোট ও কর্ড শনাক্ত করার চ্যালেঞ্জ ছিল অনেক কঠিন। অনুশীলনেই সেই চ্যালেঞ্জ উতরে গিয়েছে মধ্যমগ্রামের এই খুদে প্রতিভা।

Advertisement

যশমিতা বলে, “এই স্বীকৃতি পেয়ে খুব ভালো লাগছে। ভবিষ্যতে প্লেব্যাক সিঙ্গার হতে চাই। এ আর রহমান স্যারের সঙ্গে কাজ করতে চাই। এর জন্য পরিশ্রম করছি।” মা কোয়েল দত্ত বলেন, “মেয়ে খুব পরিশ্রম করেছে। কঠোর অনুশীলন আর পরিশ্রম ওকে এই স্বীকৃতি অর্জন করতে সাহায্য করেছে। আমরা সাধ্যমতো ওকে সাহায্য করেছি।” বাবা একনিষ্ঠ দত্ত বলেন, “এই ক্যাটাগরিতে যশমিতা ছাড়া এখনও পর্যন্ত কেউ রিচ করতে পারেনি। মেয়ের অক্লান্ত পরিশ্রমেই আজ এই স্বীকৃতি অর্জন করেছে।”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.