Malda Flood

গিলে খাচ্ছে ‘রাক্ষুসে’ গঙ্গা, মানুষ যেন জলের পোকা! ভূতনির চরে শুধুই হাহাকার

'রাক্ষুসে গঙ্গা' যেন সব কিছু গিলে খাচ্ছে। যেদিকে তাকানো যায়, কেবলই জল। ঘরবাড়ি হারিয়ে মানুষজন উঁচু রাস্তার ধারে, কোনও উঁচু বাড়ির ছাদে ত্রিপুল খাটিয়ে থাকছেন। খাবার বলতে কেবল ত্রাণের সামগ্রী।

বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ১৭:৪৩

options
link
গিলে খাচ্ছে ‘রাক্ষুসে’ গঙ্গা, মানুষ যেন জলের পোকা! ভূতনির চরে শুধুই হাহাকার
ত্রাণের জন্য হাহাকার। ছবি-সংগৃহীত

‘রাক্ষুসে’ গঙ্গা যেন সব কিছু গিলে খাচ্ছে। যেদিকে তাকানো যায়, কেবলই জল। ঘরবাড়ি হারিয়ে মানুষজন উঁচু রাস্তার ধারে, কোনও উঁচু বাড়ির ছাদে ত্রিপুল খাটিয়ে থাকছেন। খাবার বলতে কেবল ত্রাণের সামগ্রী। কোনও জায়গায় ত্রাণ আসার কথা শুনলেই টিনের তৈরি ডোঙা নিয়ে হাজির হচ্ছেন মানুষজন। গঙ্গার জলে ত্রাণের জন্য ভূতনির চরে হাহাকার আর্তদের। প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে যখনই নৌকায় প্রশাসনিক আধিকারিক অথবা বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা ত্রাণ নিয়ে পৌঁছাচ্ছেন ক্ষুধার্ত মানুষ টিনের তৈরি ডোঙ্গায় ভেসে ত্রাণের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। ত্রাণ বণ্টনকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির খবরও আসছে।

Advertisement

মালদহ জেলা প্রশাসনের কর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের মতো ত্রাণ নিয়ে কাড়াকাড়ি কোথাও হয়নি। তবে প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। বুধবার ভূতনি সেতুর কাছে ত্রাণ পৌঁছনোর খবর মিলতে দূরদূরান্ত থেকে ডোঙায় গঙ্গা পেরিয়ে ত্রাণ সংগ্রহে মরিয়া হয়ে হয়ে ওঠেন বানভাসীরা। মহিলা এমনকী শিশুরাও ডোঙায় ভেসে দুর্গম এলাকা থেকে চিড়ে, গুড় সংগ্রহ করতে ভিড় জমায়। দুপুর নাগাদ প্রাণ নিয়ে ভূতনি সেতুর কাছে পৌঁছন ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিরা। এরপরই জলবন্দি এলাকা থেকে ডোঙা নিয়ে ছুটে আসতে দেখা যায় ক্ষুধার্ত মানুষজনকে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
ত্রাণের জন্য ডোঙা নিয়ে যাচ্ছে ছোটরাও। ছবি-সংগৃহীত

মালদহ জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে বানভাসি এলাকায় ১১টি ত্রাণ শিবির এবং ১৫টি লঙ্গরখানা চালু করা হয়েছে। এছাড়াও দুর্গতদের কাছে পৌঁছানোর জন্য একশোর বেশি নৌকা এবং এনডিআরএফ ও ভারতীয় সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল জানান, ত্রাণ ও পানীয় জলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি রামকৃষ্ণ মিশন, রেডক্রস, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন এগিয়ে এসেছে। ত্রাণ ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল করতে এবং দূরবর্তী গ্রামগুলিতে সরাসরি সাহায্য পাঠাতে মালদহ জেলা প্রশাসন উত্তর চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে বিশেষ জোনাল রিলিফ অফিস চালু করেছে।

Advertisement
Maldah Flood: Bhootni is engulfed by river ganga, danger awaits
রাস্তার ধারেই ত্রিপলের নিচে সংসার। ছবি-সংগৃহীত

দুর্গতদের একাংশের অভিযোগ, দূরবর্তী এলাকাগুলিতে ঠিকমতো ত্রাণ পৌঁছচ্ছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় বিধায়ক, পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী স্পিডবোট ও নৌকা করে জলবন্দি মানুষদের কাছে শুকনো খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। মালদহের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো জেলা প্রশাসনের ডাকে সাড়া দিয়ে চাল, ডাল, চিঁড়ে, মুড়ি, পানীয় জল ও মশারির মতো বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী বোঝাই তিনটি বড় ট্রাক মানিকচকে পাঠিয়েছে। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জলবন্দি এলাকা থেকে ১৮০ জনেরও বেশি গর্ভবতীকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে অথবা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Maldah Flood: Bhootni is engulfed by river ganga, danger awaits
এখনও জলের তলায় বিস্তীর্ণ এলাকা। ছবি-সংগৃহীত

ভূতনি থানার তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। তবে দেড় লক্ষ বানভাসির জলযন্ত্রণা কমেনি। বহু গ্রাম জলবন্দি। কোথাও ১০–১২ ফুট জল দাঁড়িয়ে আছে। আবার কোথাও বাড়ির একতলা পর্যন্ত জলমগ্ন। উঁচু জায়গা ও বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন বহু পরিবার। ভূতনিতে বন্যা কবলিত বানভাসিদের দুয়ারে ছুটে বেড়াচ্ছেন মানিকচকের বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল। সিভিল ডিফেন্সের দুই আধিকারিককে সঙ্গে নিয়ে দূর্গতদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। মানুষজন ঠিকমতো ত্রাণ পাচ্ছে কিনা খোঁজ নেন। বেশ কিছু এলাকায় বানভাসিরা ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেন। তাদের কাছে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন বিধায়ক।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.