চারিদিক জল থইথই। ঘুটঘুটে অন্ধকার। ভয়াবহ বন্যায় তলিয়ে যাওয়া ভূতনি গ্রামে যখন যোগাযোগের সমস্ত পথ বন্ধ ঠিক তখনই এক গর্ভবতীর প্রাণ বাঁচাতে রাতের অন্ধকারে নৌকা ভাসিয়ে ছুটল পুলিশ। বিপদসঙ্কুল পথ অতিক্রম করে প্রসূতিকে নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে সোমবার রাতে বেনজির মানবিকতার দৃষ্টান্ত গড়লেন পুলিশকর্মীরা।
তখন মাঝরাত। ঘড়ির কাঁটা বারোটার ঘরে। বন্যায় বিদ্যুৎহীন গোটা এলাকা অন্ধকারে ডুবে। গ্রামের সমস্ত রাস্তাঘাট জলের তলিয়ে। ঠিক ওই সময় গ্রামের এক অন্তঃসত্ত্বার প্রসবযন্ত্রণা শুরু হয়। পরিস্থিতি মুহূর্তে আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে। অসহায় পরিবারের সদস্যরা ভূতনি থানায় ফোন করে সাহায্যের আবেদন জানান। ফোন পেয়ে ভূতনি থানার ডিউটি অফিসার সময় নষ্ট না করে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে নৌকায় ভেসে রওনা দেন।

নিকষ কালো অন্ধকারে টর্চের আলোর ভরসায় তাদের পৌঁছতে হয় মহিলার বাড়িতে। এরপর যন্ত্রণাকাতর প্রসূতিকে নৌকায় তুলে নেওয়া হয়। অন্ধকারে জলপথ পাড়ি দিয়ে তাঁকে গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রতিবন্ধকতা দূরে সরিয়ে মঙ্গলবার প্রাক্তন ভারতীয় সেনা জওয়ান শক্তি পালের নেতৃত্বে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে ভূতনিতে পৌঁছে গেল শিলিগুড়ির ‘ইউনিক ফাউন্ডেশন’৷ আয়লা, আম্ফান কিংবা আসামের ভয়াবহ বন্যা থেকে শুরু করে সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে নেপালের হড়পা বান যেখানে বিপর্যয় সেখানেই নিজেদের জীবন বাজি রেখে পৌঁছে যান সংগঠনের সদস্যরা।
এবার মালদহের মানিকচকের জলমগ্ন ভূতনি। উত্তর চণ্ডীপুর, হিরানন্দপুর, নাজিরপুর এবং শুকদেব তলার মতো বানভাসি এলাকাগুলোতে ত্রাণ কাজ চালান সংগঠনের কর্মীরা। বানভাসিদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বালিশ, মশারি, শুকনো খাবার, স্যানিটারি ন্যাপকিন, বাসনপত্র এবং গৃহপালিত পশুদের খাবার। এদিকে নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সরব হয়েছেন সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী।

তিনি অভিযোগ করেন, বর্ষা এলেই কেন্দ্র ও রাজ্যের নানা প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে অস্থায়ী ও জোড়াতালির কাজেই কোটি কোটি টাকা নষ্ট হচ্ছে। দক্ষিণ মালদহের সাংসদ অনিয়ম ও ব্যর্থতার পেছনে দুর্নীতির দিকে আঙুল তুলে সিআইডি অথবা সিবিআই তদন্তের দাবি জানান। মঙ্গলবার মালদহ জেলা পুলিশের উদ্যোগে রতুয়া-১ ব্লকের মহানন্দটোলা ও বিলাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের বন্যাদুর্গতদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। সোমবার কর্মসূচিতে ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার অনুপম সিং, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক রায়, চাঁচলের এসডিপিও সোমনাথ সাহা, রতুয়া থানার আই সি অভিষেক ভট্টাচার্য সহ অন্য পুলিশকর্মীরা। এদিন মানিকচকের বিধায়ক গৌর চন্দ্র মন্ডলের উদ্যোগে বন্যাকবলিত ভূতনিবাসীদের হাতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।
সর্বশেষ খবর
-
চুলের ব্যবসায় চাপে বাংলা, বাজার দখলে এগিয়ে পড়শি দেশ
-
নিউটাউনে আদানিদের ২ হাজার শয্যার হাসপাতাল, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন মুখ্যমন্ত্রীর
-
অসাংবিধানিক! সিএনএন-সহ ৩ সংবাদমাধ্যমের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নির্দেশ, আদালতে ধাক্কা ট্রাম্পের
-
দিলীপের মুখে জ্যোতি বসুর প্রশংসা! বললেন, ‘অন্তর্দ্বন্দ্বেই সিপিএম শেষ’
-
সহকারীদের সুযোগ দিতে চান, আজ শিল্ডে ইস্টবেঙ্গল বেঞ্চে থাকবেন না হাবাস, খেলবেন বিদেশিরা?