Maldah Flood

নৌকা করে প্রসূতিতে হাসপাতালে নিয়ে গেল পুলিশ, বানভাসি ভূতনিতে প্রাণ বাঁচানোর ছবি

চারিদিক জল থইথই। ঘুটঘুটে অন্ধকার। ভয়াবহ বন্যায় তলিয়ে যাওয়া ভূতনি গ্রামে যখন যোগাযোগের সমস্ত পথ বন্ধ ঠিক তখনই এক গর্ভবতীর প্রাণ বাঁচাতে রাতের অন্ধকারে নৌকা ভাসিয়ে ছুটল পুলিশ।

বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ২১:৩৭

options
link
নৌকা করে প্রসূতিতে হাসপাতালে নিয়ে গেল পুলিশ, বানভাসি ভূতনিতে প্রাণ বাঁচানোর ছবি
রাতের অন্ধকারে প্রসূতিকে নৌকায় করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ছবি- সংগৃহীত

চারিদিক জল থইথই। ঘুটঘুটে অন্ধকার। ভয়াবহ বন্যায় তলিয়ে যাওয়া ভূতনি গ্রামে যখন যোগাযোগের সমস্ত পথ বন্ধ ঠিক তখনই এক গর্ভবতীর প্রাণ বাঁচাতে রাতের অন্ধকারে নৌকা ভাসিয়ে ছুটল পুলিশ। বিপদসঙ্কুল পথ অতিক্রম করে প্রসূতিকে নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে সোমবার রাতে বেনজির মানবিকতার দৃষ্টান্ত গড়লেন পুলিশকর্মীরা।

Advertisement

তখন মাঝরাত। ঘড়ির কাঁটা বারোটার ঘরে। বন্যায় বিদ্যুৎহীন গোটা এলাকা অন্ধকারে ডুবে। গ্রামের সমস্ত রাস্তাঘাট জলের তলিয়ে। ঠিক ওই সময় গ্রামের এক অন্তঃসত্ত্বার প্রসবযন্ত্রণা শুরু হয়। পরিস্থিতি মুহূর্তে আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে। অসহায় পরিবারের সদস্যরা ভূতনি থানায় ফোন করে সাহায্যের আবেদন জানান। ​ফোন পেয়ে ভূতনি থানার ডিউটি অফিসার সময় নষ্ট না করে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে নৌকায় ভেসে রওনা দেন।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

Advertisement

​নিকষ কালো অন্ধকারে টর্চের আলোর ভরসায় তাদের পৌঁছতে হয় মহিলার বাড়িতে। এরপর যন্ত্রণাকাতর প্রসূতিকে নৌকায় তুলে নেওয়া হয়। অন্ধকারে জলপথ পাড়ি দিয়ে তাঁকে গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রতিবন্ধকতা দূরে সরিয়ে মঙ্গলবার প্রাক্তন ভারতীয় সেনা জওয়ান শক্তি পালের নেতৃত্বে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে ভূতনিতে পৌঁছে গেল শিলিগুড়ির ‘ইউনিক ফাউন্ডেশন’৷ আয়লা, আম্ফান কিংবা আসামের ভয়াবহ বন্যা থেকে শুরু করে সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে নেপালের হড়পা বান যেখানে বিপর্যয় সেখানেই নিজেদের জীবন বাজি রেখে পৌঁছে যান সংগঠনের সদস্যরা।

এবার মালদহের মানিকচকের জলমগ্ন ভূতনি। উত্তর চণ্ডীপুর, হিরানন্দপুর, নাজিরপুর এবং শুকদেব তলার মতো বানভাসি এলাকাগুলোতে ত্রাণ কাজ চালান সংগঠনের কর্মীরা। বানভাসিদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বালিশ, মশারি, শুকনো খাবার, স্যানিটারি ন্যাপকিন, বাসনপত্র এবং গৃহপালিত পশুদের খাবার। এদিকে নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সরব হয়েছেন সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী।

তিনি অভিযোগ করেন, বর্ষা এলেই কেন্দ্র ও রাজ্যের নানা প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে অস্থায়ী ও জোড়াতালির কাজেই কোটি কোটি টাকা নষ্ট হচ্ছে। দক্ষিণ মালদহের সাংসদ অনিয়ম ও ব্যর্থতার পেছনে দুর্নীতির দিকে আঙুল তুলে সিআইডি অথবা সিবিআই তদন্তের দাবি জানান। মঙ্গলবার মালদহ জেলা পুলিশের উদ্যোগে রতুয়া-১ ব্লকের মহানন্দটোলা ও বিলাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের বন্যাদুর্গতদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। সোমবার কর্মসূচিতে ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার অনুপম সিং, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক রায়, চাঁচলের এসডিপিও সোমনাথ সাহা, রতুয়া থানার আই সি অভিষেক ভট্টাচার্য সহ অন্য পুলিশকর্মীরা। এদিন মানিকচকের বিধায়ক গৌর চন্দ্র মন্ডলের উদ্যোগে বন্যাকবলিত ভূতনিবাসীদের হাতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.