Anandapur Fire

‘কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই…,’ আনন্দপুরের ‘জতুগৃহ’ থেকে বেঁচে ফেরার রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা শোনালেন বিষ্ণুপদ

বিভীষিকার রাতের কথা মনে পড়লেই শিউরে উঠছেন বিষ্ণুপদ। চাইলেও ভুলতে পারছেন না সেই অভিশপ্ত রাতের স্মৃতি!

রঞ্জন মহাপাত্র
রঞ্জন মহাপাত্র

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১৭:৫৪

options
link
‘কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই…,’ আনন্দপুরের ‘জতুগৃহ’ থেকে বেঁচে ফেরার রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা শোনালেন বিষ্ণুপদ

আনন্দপুরের মোমো কারখানার ভয়াবহ আগুন (Anandapur Fire) কেড়ে নিয়েছে আটটি প্রাণ। এখনও খোঁজ নেই বহু শ্রমিকের। কোথায় তাঁরা? চলছে খোঁজ! সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে উদ্বেগ। এর মধ্যেই আশার আলো। ‘জতুগৃহ’ থেকে কোনওরকমে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়নার চাঁদবেনিয়া গ্রামের যুবক বিষ্ণুপদ খুঁটিয়া। প্রাণে বেঁচে গেলেও এখনও তাঁর চোখেমুখে আতঙ্ক। বিভীষিকার রাতের কথা মনে পড়লেই শিউরে উঠছেন বিষ্ণুপদ। চাইলেও ভুলতে পারছেন না সেই অভিশপ্ত রাতের স্মৃতি!

Advertisement

আতঙ্ক নিয়েই ঘটনার পরেই চাঁদবেনিয়ার গ্রামে ফিরেছেন বিষ্ণুপদ খুঁটিয়া। তিনি ভস্মীভূত হয়ে যাওয়া ডেকরেটার্সের একজন কর্মী। ঘটনার রাতের কথা বলতে গিয়ে বিষ্ণুপদ বলেন, ”কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কালো ধোঁয়ায় চারপাশ ঢেকে গেল। শুরু হল শ্বাসকষ্ট। আমার সঙ্গে মোট ১৪-১৫ জন ছিল। কিন্তু আমরা চারজন বেরিয়ে আসতে পারি, বাকিদের খোঁজ পাইনি। বিষ্ণুপদ আরও জানান, ”আমরা খাওয়া দাওয়া করে রাত ১টা নাগাদ ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। রাত ৩টা- সাড়ে ৩টে নাগাদ আচমকা চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায়। দেখি গোডাউনের ভিতর আগুন লেগেছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আগুন দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। পুরো গোডাউন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। শুধুমাত্র হাতের কাছে মোবাইল ছিল। সেটা জ্বালিয়েই সিঁড়ি থেকে ঝাঁপ দিয়ে কোনরকমে বাইরে বেরিয়ে আসি। আমাদের সঙ্গে ১৪-১৫ জন ছিল। আমরা চার-পাঁচ জন বেরিয়ে আসতে পেরেছি। মোবাইল ছাড়া আর কিছুই নিয়ে বেরতে পারিনি।”

Advertisement

বাড়ি ফেরার পর সোমবার রাতেই বিষ্ণুপদ খুঁটিয়ার বাড়ি যান ময়না ব্লকের বিডিও জগন্নাথ বিশ্বাস-সহ অন্যান্য ব্লক প্রশাসন। তাঁর পাশে থাকার আশ্বাস দেন তাঁরা। প্রশাসন জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৮ জনের দগ্ধ দেহাংশের হদিশ মিলেছে। নরেন্দ্রপুর থানায় ১০ জনের নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দাদের নিখোঁজের সংখ্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কোনোক্রমে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন ময়নার বিষ্ণুপদ। গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিশপ্ত নরেন্দ্রপুরের মোমো কারখানার পাশেই ছিল ওই ডেকরেটার্সের অফিস এবং গোডাউন। অভিযোগ, সেখানেই নাকি প্রথমে আগুন লাগে। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে। জানা যায়, ওই সংস্থার গোডাউনেই কর্মীরা থাকতেন। যাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। জানা যায়, কর্মীরা ওই অফিসের মধ্যেই নিয়মিত রান্না করতেন। মজুত ছিল প্রচুর দাহ্য পদার্থও। একইসঙ্গে একাধিক কর্মী থাকলেও দরজা ছিল মাত্র একটি! আগুন লাগায় দরজা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়! কোনও মতে সেখান থেকে বেরোন কর্মীরা! জ্বলন্ত অফিস থেকে বেরিয়েও শেষরক্ষা হয়নি! পাশের গোডাউনে আগুন জ্বলায় বাড়ে বিপদ! জ্বলন্ত গোডাউন পেরিয়ে বেরোতে পারেননি কর্মীরা। অগ্নিদগ্ধ হয়ে একের পর এক কর্মীর মৃত্যু হয়। ভাঙা কারশেডের নীচে কি আটকে আরও কেউ? চলছে উদ্ধারকাজ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.