নিজের খরচায় পরিচারিকার বিয়ে দিলেন গৃহকর্তা

জানকিবাবুর এই মহানুভবতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ এলাকাবাসীও।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৯, ১৬:১১

options
link
নিজের খরচায় পরিচারিকার বিয়ে দিলেন গৃহকর্তা

মনিরুল ইসলাম, শ্যামপুর: বাড়ির উঠোনে বিয়ের বড় প্যান্ডেল। আলোর রোশনাই। মেনুতেও রয়েছে ফ্রায়েড রাইস, মাছ, মুরগির মাংস কষা, ভেজিটেবল থেকে শুরু করে রকমারি পদ। অভ্যাগত প্রায় চারশো। মোটকথা বাড়িতে বেশ ধুমধাম করেই বিয়ের আয়োজন হয়েছে। শ্যামপুরের শশাটির বাসিন্দা জানকি মণ্ডল তাঁর বাড়ির পরিচারিকার বিয়ের ব্যবস্থা করেছেন এমনই বড় আয়োজন করে। মফস্‌সল শ্যামপুরে এমন ঘটনা কার্যত বিরল বলেই স্থানীয়রা জানিয়েছেন। জানকিবাবুর এই মহানুভবতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ এলাকাবাসীও।

Advertisement

[মর্মান্তিক! পরীক্ষাকেন্দ্রেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

সাধারণত দেখা যায় পরিচারিকাদের সঙ্গে বাড়ির মালিক বা মালকিনের সম্পর্ক সাধারণত সুমধুর হয় না। ছোটখাটো ভুলেই পরিচারিকা নির্যাতিত হন মালিক-মালকিনের হাতে। তবে কেউ কেউ একটু উদার হলে পরিচারিকাকে পাত্রস্থ করার ক্ষেত্রে হাতে কিছু টাকা গুঁজে দিয়েই দায়িত্ব সারেন। তবে শ্যামপুরের জানকি মণ্ডল তাদের থেকে বেশ অনেকটাই আলাদা। সামান্য পোস্ট অফিস কর্মী হয়েও নিজের বাড়ির পরিচারিকাকে পড়াশোনা করানো থেকে শুরু করে তাকে পাত্রস্থ করা, সবটাই করছেন মেয়ের বাবার মতো। বিয়ের সিংহভাগ খরচ-ই তিনি করছেন। তা বেশ কয়েক লক্ষ টাকা। ঠিক যেমনটা ধুমধাম করে নিজের ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন প্রায় সেইরকমই করেই বিয়ে দিচ্ছেন সোনালিরও।

Advertisement

প্রতিবেশী সুমিত্রা বাগের পারিবারিক অবস্থা ভাল ছিল না। তিনি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে স্কুলে রান্নার কাজ করেন। বছর ১২-১৩-র মেয়ে রূপালি বাগ জানকিবাবুর বাড়িতে আসা যাওয়া করতে থাকে মায়ের সঙ্গে। স্কুলে পড়লেও সোনালি তেমন নিয়মিত ছাত্রী ছিল না। জানকিবাবুই তাকে নিয়মিত স্কুলে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। টিউশন-সহ অন্যান্য ব্যবস্থাপনারও করেন। দিনরাত কার্যত সোনালি জানকিবাবুর বাড়িতেই থাকে। মাধ্যমিক দেয় সোনালি। তবে তিনি বেশি দূর পড়তে না চাওয়ায় আর পড়া হয়নি সোনালির। ফলে জানকিবাবুদের বাড়িতে সোনালি থাকত ও বাড়ির কাজকর্মও করত। ইতিমধ্যে দেখতে দেখতে বয়স বাড়তে থাকে সোনালির বয়স হয়ে দাঁড়ায় ২০-২১। তখনও মুশকিল আসান হয়ে দাঁড়ায় জানকিবাবু-ই। বিয়ে ঠিক হয়েছে পাশের গ্রাম দেওড়ার পাত্রের সঙ্গে। সুমিত্রাদেবী বলেন, শুধু খাওয়া দাওয়া-ই নয়, গয়না, বাড়ির সাজ, উপহার সামগ্রী-সহ সবকিছুরই ব্যবস্থা করেছেন জানকিবাবু। ‘আমি জানকিবাবুর কাছে চির কৃতজ্ঞ। তাঁর কাছে আমি চিরঋণী। তিনি না থাকলে আমি কার্যত অন্ধকারে পড়ে যেতাম।’

আজ মঙ্গলবার রাতে বিয়ের পিড়িতে বসতে চলেছেন সোনালি। এদিন দেখা গেল জানকিবাবুর ব্যবস্থার শেষ নেই। একবার প্যান্ডেল সাজানোর কাজ দেখতে ছুটছেন তো একবার রান্নার আয়োজন দেখতে ছুটছেন। এখন ব্যস্ততা তাঁর চরমে। দু’দণ্ড দাঁড়িয়ে তাঁর কথা বলার ফুরসত তিনি পাচ্ছেন না। বাড়িতে আসা নিকটাত্মীয়দের অভ্যর্থনা জানাতেও ছুটতে হচ্ছে তাঁকে। কারণ তিনিই এখন বাপ হারা মেয়েটার অভিভাবক যে। জানকিবাবু বলেন, “এটা আমার কর্তব্য। সেইটুকুই সম্পাদন করছি মাত্র। দুঃস্থ মানুষের পাশে তো আমাদের থাকতেই হবে। জানকিবাবুর পরিচিত শ্যামপুরের বাসিন্দা তথা শ্যামপুর নাগরিক কমিটির সম্পাদক উত্তম রায়চৌধুরি। তিনি বলেন, “আমারও নেমন্তন্ন রয়েছে, যাবও। তবে জানকিবাবু সত্যিই মহৎ মানুষ, অন্তত শ্যামপুরের মতো প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে। বহু লোক তো নমো নমো করে দায়িত্ব সারেন। কিন্তু জানকিবাবু নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বিয়ের আয়োজন করছেন। মধ্যবিত্ত হয়েও যে কাজ তিনি করছেন তা অবশ্যই প্রশংসার বিষয়।” এলাকাবাসীর মতে এই সিদ্ধান্ত সত্যিই প্রশংসার।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.