আতঙ্ক ছড়িয়েছে অজানা জ্বর, মশারি কেনার ধুম বাঙালির

বিক্রি বাড়ছে কয়েলের, ঠান্ডা-গরম আবহাওয়ায় ঘরে ঘরে অসুখ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ৪, ২০১৭, ০৭:৫৭

options
link
আতঙ্ক ছড়িয়েছে অজানা জ্বর, মশারি কেনার ধুম বাঙালির

অভিরূপ দাস: আতশবাজি নয়। কালীপুজোর আগে বিক্রি বেড়ে গিয়েছে মশারির। কারণ অজানা জ্বর।

Advertisement

শীত পড়তে ঢের দেরি। তবে এরই মধ্যে বাতাসে হিমের ছোঁয়া। রাতে ফ্যান চালিয়ে শুলে হালকা ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব। খুশখুশে কাশি। গা ছ্যাঁকছ্যাঁক করলে অনেকেই প্যারাসিটামল খাচ্ছেন। তবু রক্ত পরীক্ষা কেন্দ্রে ভিড় কমছে না। সাধারণ জ্বর না কি অন্য কিছু? এই প্রশ্নই ঘুরঘুর করছে মানুষের মনে। আর তাই রাতে মশারি টাঙানোর পুরনো অভ্যেস ফের ফিরে এসেছে। পাড়ার মুদির দোকানে মশার ধূপ কিনতেও ভিড়। একান্তই যারা মশারি টাঙাচ্ছেন না হাতে পায়ে রেপিল্যান্ট ক্রিম মেখেই ঘুমোচ্ছেন ।

Advertisement

[চিকিৎসার গাফিলতিতে কিশোরীর মৃত্যু, অভিযোগে ভাঙচুর এএমআরআই-এ]

ভনভন আওয়াজেই প্রমাদ গুনছেন আমজনতা। দিনের বেলাতেও জানলা খুলছেন না অনেকে। অজানা জ্বরের আতঙ্ক মহামারীর আকার নিয়েছে। তার যে কারণ নেই এমনটাও নয়। পুজোর আগেই শহর–শহরতলি জুড়ে অজানা জ্বরে মৃত্যু হয়েছিল একাধিক মানুষের। সল্টলেক, কসবা, পার্ক সার্কাস, টালিগঞ্জ-সহ বেশ কিছু এলাকায় মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। বেশ কিছু ক্ষেত্রে রক্তে এনএস ওয়ান রোগের ভাইরাস মিললেও সরকারিভাবে ডেঙ্গুর কথা স্বীকার করা হয়নি। যদিও সূত্রের খবর, দক্ষিণ শহরতলির পেল্লায় এক আবাসনের ষোলো জন অজানা জ্বর নিয়ে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের প্রত্যেকের রক্তেই মিলেছে ডেঙ্গুর জীবাণু।

Advertisement

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হালকা শীত পড়ার এই সময়টায় ব্যাকটিরিয়াগুলো অতি সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে ব্যাকটিরিয়াজনিত অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অক্টোবর পড়ে গেলেও বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কমছে না। দেদার ঘেমে এসি ঘরে ঢুকলেই বিপদ ঘনাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক প্রভাস প্রসূন গিরি। ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর জানিয়েছেন, সাধারণত ছোটদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। স্বাভাবিকভাবেই ঠান্ডা-গরম দু’রকমের তাপমাত্রায় ব্যাকটিরিয়া তাদের চটজলদি আক্রমণ করছে।

[ব্রহ্মতালু ফুঁড়ে বেরিয়ে মস্তিষ্ক, ‘মনস্টার বেবি’ নিয়ে দিশেহারা হাসপাতাল]

তবে শহরে মশাবাহিত জ্বরের প্রকোপ ক্রমশ বাড়ছে বলেই জানিয়েছেন প্রভাসবাবু। তাঁর কথায়, “পুজোর পরেও মশাবাহিত জ্বরের আতঙ্ক কমেনি। হাসপাতালে রোজই অজানা জ্বরের সমস্যা নিয়ে আসছেন রোগীরা। মশারি ব্যবহারের পাশাপাশি বাড়িতে কোনওভাবেই যাতে জল না জমে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।” জাঁকিয়ে শীত না পড়া পর্যন্ত শহরে অজানা জ্বরের এই আতঙ্ক কমবে না বলেই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.