Nadia

২০০২ সালের তালিকায় নাম নেই, আতঙ্কে দিন কাটছে নদিয়ার চর জাজিরার হাজার মানুষের

কল্যাণীর মহকুমা শাসকের দপ্তরে গিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানান সকলে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ১০, ২০২৫, ১৫:০৮

options
link
২০০২ সালের তালিকায় নাম নেই, আতঙ্কে দিন কাটছে নদিয়ার চর জাজিরার হাজার মানুষের
নিজস্ব ছবি

সুবীর দাস, নদিয়া: পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়া। এর পরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শোনা গিয়েছে বহু মানুষের আত্মহত্যার খবর। রাজ্যজুড়ে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। একই অবস্থা নদিয়ার চর জাজিরা এলাকায়। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই এক হাজারের বেশি মানুষের। ভিনদেশি হিসেবে দাগিয়ে দেওয়ার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদিয়ার চর জাজিরার বাসিন্দারা।

Advertisement

নদিয়ার কল্যাণী ব্লকের ভাগীরথীর তীরবর্তী চর জাজিরা এলাকায় ছড়িয়েছে প্রবল আতঙ্ক। জানা গেছে, ওই এলাকার প্রায় ১১৫১ জন বাসিন্দার নাম নেই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায়। ফলে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভিনদেশি তকমার আতঙ্কে রাতের ঘুম উড়েছে স্থানীয়দের। আতঙ্ক কাটাতে তাঁরা শেষমেষ কল্যাণীর মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন।

Advertisement

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বহু বছর আগে ভাগীরথীর পাড়ে এই চর জাজিরা এলাকায় বসতি গড়েন তাঁদের পূর্বপুরুষরা। প্রথমদিকে অনেকে নদিয়া জেলার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কাজের সূত্রে যাতায়াত করতেন। পরবর্তী সময়ে কল্যাণী শহরের আশপাশে শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠায়, কাজের সুবিধার জন্য তাঁরা স্থায়ীভাবে চর জাজিরায় বসবাস শুরু করেন। যদিও, তাঁদের অনেকের সরকারি নথিপত্র, যেমন রেশন কার্ড, জমির কাগজ পুরনো জায়গাতেই থেকে যায়। এই এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, প্রশাসনের কাছে বারবার অনুরোধ করার পরে ২০০৯ সালে তাঁদের নাম ওঠে কল্যাণীর ভোটার তালিকায়। সেই সময়ে প্রত্যেকেই ভোটার কার্ড পান এবং নির্বাচনে ভোটও দেন। কিন্তু সম্প্রতি এসআইআর নিয়ে তৎপরতা শুরু হওয়ার পর তাঁরা জানতে পারেন, ২০০২ সালের পুরনো ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম নেই। এই খবর সামনে আসতেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে চরম উৎকণ্ঠা ও বিভ্রান্তি।

Advertisement

চর জাজিরার এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে এই এলাকায় আছি। বিদ্যুতের বিল, রেশন কার্ড, আধার কার্ড সব নথি আছে আমাদের নামে। এখন হঠাৎ শুনছি ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই বলে আমদের নিয়ে সন্দেহ রয়েছে”। আরেক বাসিন্দার দাবি, “আমাদের পূর্বপুরুষ এখানেই চাষবাস করতেন। এখন যদি আমাদের এখানকার বাসিন্দা বলে না মানা হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব?”

এই অবস্থায়, প্রায় ২০০ পরিবারের সদস্যরা একত্রিত হয়ে কল্যাণীর মহকুমা শাসকের দপ্তরে গিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানান। তাঁদের দাবি, প্রশাসন যেন তাঁদের পুরনো নথিপত্র যাচাই করে নিশ্চিত করে তাঁরা ভারতের নাগরিক এবং নদিয়া জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, “আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। কারও বৈধ নাগরিকত্ব নিয়ে যেন অযথা আতঙ্ক না তৈরি হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবুও, চর জাজিরা এলাকায় এখনও আতঙ্কের ছায়া রয়েছে মানুষের মনে। স্থানীয়দের একটাই দাবি, “আমরা এই দেশের মানুষ, এই মাটির মানুষ। প্রশাসন যেন আমাদের সেই স্বীকৃতি আবার কেড়ে না নেয়।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.