হিমালয়ে হাহাকার
Nepal

চারদিন ধরে খোঁজ নেই, নেপালে কী অবস্থায় রয়েছেন শুভ্রাংশুর স্ত্রী? মুকুল রায়ের বাড়িতে ঋতব্রতরা

গত ২১ আগস্ট নেপাল বেড়াতে গিয়েছিলেন শুভ্রাংশুর স্ত্রী শর্মিষ্ঠা। বিপর্যয়ের পর খোঁজ না পেয়ে চরম উদ্বেগে পরিবার।

Advertisement
অর্ণব দাস
অর্ণব দাস

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ১৮:৫৯

options
link
চারদিন ধরে খোঁজ নেই, নেপালে কী অবস্থায় রয়েছেন শুভ্রাংশুর স্ত্রী? মুকুল রায়ের বাড়িতে ঋতব্রতরা

কেটে গিয়েছে চার চারটি দিন। কোথায় আছেন, কী অবস্থায় আছেন, আদৌ নিরাপদ রয়েছেন কি না – এত প্রশ্নের একটিরও জবাব নেই। নেপাল বেড়াতে যাওয়া বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়ের স্ত্রী তথা প্রয়াত রাজনীতিক মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের একটিও খবর না পেয়ে চরম উদ্বেগে পরিবার। শনিবার চিন্তিত শুভ্রাংশু ও তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কাঁচরাপাড়ার বাড়িতে গেলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। সেখান থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত জানালেন, যদি চিন সীমান্ত পেরিয়ে যেতে পারেন শর্মিষ্ঠা, তাহলে নিরাপদ। নাহলে যথেষ্ট চিন্তার কারণ রয়েছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দিয়েছেন, নিখোঁজদের প্রত্যেকের খোঁজ পেতে সরকার সবরকম ব্যবস্থা করছে।

Advertisement

শনিবার সংবাদমাধ্যমের সামনে শুভ্রাংশু বলেন, “যার যায়, সে-ই তো সবচেয়ে ভালো বোঝে। আমার স্ত্রী আজ মিসিং। চারদিন হয়ে গেল, ২৬ তারিখ থেকে কথা হচ্ছে না, কোনও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। ও মানস সরোবর দর্শন করতে গিয়েছিল। ৭ সেপ্টেম্বর ফেরার কথা ছিল। যতক্ষণ না একটা খবর পাচ্ছি, উৎকণ্ঠা তো থাকবেই।”

শুভ্রাংশু রায়ের স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায় নেপালে গিয়ে নিখোঁজ, নিজস্ব ছবি

জানা গিয়েছে, গত ২১ আগস্ট এক বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে নেপাল গিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। আসল উদ্দেশ্য ছিল, মানস সরোবর যাত্রা। বাড়িতে শুভ্রাংশু-শর্মিষ্ঠার দুই ছোট সন্তান রয়েছে। তাদের স্বামীর কাছে রেখে একাই তীর্থযাত্রায় গিয়েছিলেন মুকুল রায়ের পুত্রবধূ। কিন্তু গত ২৬ আগস্ট নেপালে জোড়া প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকেই আর তাঁর খোজ মেলেনি। কোনওভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিখোঁজ পরিবারগুলির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন। তাতে যোগ দেন শুভ্রাংশু ও তাঁর মেয়ে। মুখ্যমন্ত্রী শর্মিষ্ঠাদেবীকে নিয়ে আশ্বাস দেন। প্রয়োজনে নেপাল দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার কথাও বলেন। কিন্তু তারপরও এতটা সময় কেটে যাওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে বই কমেনি।

Advertisement

এনিয়ে শনিবার সংবাদমাধ্যমের সামনে শুভ্রাংশু বলেন, “যার যায়, সে-ই তো সবচেয়ে ভালো বোঝে। আমার স্ত্রী আজ মিসিং। চারদিন হয়ে গেল, ২৬ তারিখ থেকে কথা হচ্ছে না, কোনও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। ও মানস সরোবর দর্শন করতে গিয়েছিল। ৭ সেপ্টেম্বর ফেরার কথা ছিল। যতক্ষণ না একটা খবর পাচ্ছি, উৎকণ্ঠা তো থাকবেই।”

Advertisement

এদিন বিকেলেই শুভ্রাংশুর পাশে দাঁড়াতে কাঁচরাপাড়ার বাড়িতে যান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, শান্তনু সেনরা। ঋতব্রত বলেন, “চরম উৎকণ্ঠার ব্যাপার। শুভ্রাংশুর যতটা চিন্তা, আমরা যারা মুকুলদার সঙ্গে কাজ করেছি, আমাদের চিন্তাও তার চেয়ে কম নয়। এখন সর্বশক্তিমানের কাছে সকলের প্রার্থনা, যাঁরা নেপালে আটকে আছেন, তাঁদের যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদে, সুস্থ শরীরে ফেরানো হোক। এটা তো সর্বোচ্চ স্তরে কাজ হচ্ছে, বিদেশমন্ত্রক থেকে। ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে শুভ্রাংশুর কথা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। আমি ওঁর মেয়ের সঙ্গে কথা বললাম। ও ক্লাস ইলেভেনে পড়ে, কিন্তু অত্যন্ত মেধাবী। ও-ই বিস্তারিত সব জানাল। মনে করা হচ্ছে, উনি (শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়) যদি বর্ডার পেরিয়ে চিনের দিকে চলে যেতে পারেন, তাহলে নিরাপদে থাকবেন।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.