ব্রিটেন থেকে সরাসরি নেপাল হয়ে মানস সরোবর যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। কিন্তু নেপালে ভয়ংকর বিপর্যয়ের পর থেকে নিখোঁজ প্রবাসী বাঙালি দম্পতি। কলকাতায় বসে তাঁদের জন্য উদ্বিগ্ন আত্মীয় ও বন্ধুরা। ওই দম্পতির খোঁজে সোশাল মিডিয়ায় সাহায্য চেয়েছেন তাঁরা। কিন্তু এখনও লন্ডনের বাসিন্দা অনল কর ও তাঁর স্ত্রী সংযুক্তার হদিশ কেউ দিতে পারেননি। তাঁদের সঙ্গে নেপালের বিপর্যয়ে নিখোঁজ হয়েছেন ব্রিটেনের আরও অন্তত ৩১ জন বাসিন্দা।
সূত্রের খবর, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা ৫৪ বছর বয়সের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার অনল কর বহু বছর আগে কর্মসূত্রে ব্রিটেনে যান। সেখানে স্ত্রী সংযুক্তা, ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে থাকেন। পরিবারের আত্মীয় ও বন্ধুরা জানিয়েছেন, মানস সরোবর যাওয়ার জন্য প্রবাসী অনল ও সংযুক্তা লন্ডনেরই একটি বেসরকারি পর্যটন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই সংস্থাটির মাধ্যমে লন্ডন থেকে সরাসরি নেপালে আসেন ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিকের একটি দল। পর্যটকদের ওই দলটি এসে পৌঁছয় নেপালের স্যাব্রুবেসিতে। সেখানে এক হোটেল ওঠেন তাঁরা। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবার ও পরিজনদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল অনল ও সংযুক্তার। তাঁরা জানিয়েছিলেন, পরের দিন অর্থাৎ বুধবার সকাল ৬টা মধ্যেই তাঁদের হোটেল থেকে বেরিয়ে যেতে হবে। অনলরা যেখানে ছিলেন, চিনের সীমান্ত সেখান থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে।
আরও পড়ুন:

পরিবার ও পরিজনদের কাছে খবর, টিমের অন্যদের সঙ্গে ওই দম্পতি সকালেই হোটেল থেকে বের হন। বুধবার সকাল ৮টা ১১ মিনিটে একটি হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের মারফৎ তাঁরা জানতে পারেন যে, কিছুক্ষণ আগেই চিনের সীমান্তে পৌঁছেছেন। কিন্তু সেখানে ধস নেমেছে। তাই সরাসরি গাড়ি করে সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছতে পারেননি। হেঁটেই চিন সীমান্তে যাচ্ছেন। ইমিগ্রেশন দপ্তর পর্যন্ত তাঁরা পৌঁছতে পেরেছিলেন কি না, সেই তথ্য তাঁদের বন্ধু, আত্মীয় বা পরিজন কেউই জানতে পারেননি। তাঁরা নেপালে হড়পা বানে বিপর্যয়ের খবর পান। তারপর থেকেই অনল ও সংযুক্তার সঙ্গে প্রত্যেকে যোগাযোগ করতে থাকেন। অনল করের যাদবপুরের বন্ধু কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার অনির্বান চন্দ জানান, তাঁরা কেউই অনল বা সংযুক্তার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করতে পারছেন না। প্রত্যেকেই অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।
তাঁদেরই সহপাঠী অরিন্দম বসু বেঙ্গালুরুতে বসে বিভিন্নভাবে নেপালে বন্ধু অনল ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাপারে খোঁজখবর নেন। যে পর্যটন সংস্থার মাধ্যমে তাঁরা নেপালে পৌঁছেছিলেন, সেই সংস্থার কর্মকর্তারা জানান যে, পর্যটক দলটির ৩৩ জনের কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করতে পারছেন না। জানা গিয়েছে, সেই খবর পৌঁছেছে লন্ডনে ওই প্রবাসী দম্পতির চিকিৎসক মেয়ে ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র ছেলের কাছেও। তাঁদের ফেরার অপেক্ষায় প্রত্যেকেই।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ছেলের সঙ্গে একই কুঠুরিতে বন্দি নির্মল! সময় কাটছে কীভাবে?
-
‘খেলাচ্ছলে’ জোড়া উইকেট, ঈশানদের চমক দিয়ে কীভাবে বল হাতেও সফল? রহস্য ফাঁস বৈভবের
-
খাড়গের সভাস্থলে ‘শুদ্ধিকরণ’, ২০ দিন ঘুম ভাঙল রাহুলের, দলিতের অপমানে সুবিচার দাবি
-
ডেঙ্গু নির্মূলের লক্ষ্যে ‘স্পেশাল ড্রাইভে’ অগ্নিমিত্রা, এসপ্ল্যানেড থেকে পুরনিগম ও মেট্রোর যৌথ অভিযান
-
‘শেখের বেটি আয়তাছে’, হাসিনার সমর্থনে স্লোগান-মিছিল, চট্টগ্রাম থেকে ধৃত ২